>১৯৯৩ সালে আবাহনীতে খেলতে এসেছিলেন দুই ইংলিশ ক্রিকেটার নিল ফেয়ারব্রাদার ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। এসেছিলেন দুই শ্রীলঙ্কান অতুলা সামারাসেকারা ও অশোকা ডি সিলভার শূন্য স্থানে। আবাহনীকে অন্ধকারে রেখে যাঁদের মোহামেডানে চলে যাওয়া তুমুল আলোড়ন তুলেছিল সেই সময়ে। দুই পর্বের ধারাবাহিকে ঢাকা ক্রিকেট লিগের স্বর্ণালি সেই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করছেন উৎপল শুভ্র
default-image

বলুন তো, ওয়াসিম আকরাম আর নিল ফেয়ারব্রাদারের মধ্যে কী মিল? প্রশ্নটাই কেমন যেন, তাই না! এই দুজনের মধ্যে আবার কিসের মিল! একজন পাকিস্তানি, আরেকজন ইংলিশ। টেস্টে সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও একজন মূলত বোলার, অন্যজন নির্ভেজাল ব্যাটসম্যান। একজনের সর্বকালের সেরাদের দলে প্রশ্নাতীত অধিষ্ঠান, আরেকজনকে বড়জোর বলতে পারেন 'বেশ ভালো'। তা হলে? দুজনই ক্রিকেটার, এই মিলের কথা বললে যে সেটি হাস্যকর শোনাবে, এটা তো আপনিও জানেন। তা হলে? জোর করে মিল যদি খুঁজতেই হয়, তবে তা একটা পাওয়া যায়। দুজনই বাঁহাতি।



এই মিলও ঘটা করে বলার মতো কিছু নয়। তাহলে আকরাম-ফেয়ারব্রাদারের মধ্যে কেন মিল খুঁজতে বলছি? বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে উত্তরটা আপনি পেয়েও যেতে পারেন। ওয়াসিম আকরাম আর নিল ফেয়ারব্রাদার দুজনই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর পক্ষে খেলেছেন। শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি এক ক্লাবে খেলা দিয়ে মিল খোঁজেন, তাহলে অবশ্য এর চেয়ে বড় মিলই আছে। আবাহনীতে তো আর একসঙ্গে খেলেননি। বছরের পর বছর যেটি খেলেছেন ইংলিশ কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।


ওয়াসিম আকরামের আবাহনী-অধ্যায় ১৯৯৫ সালের মার্চে। এর প্রায় সোয়া এক বছর্ আগেই খেলে গেছেন নিল ফেয়ারব্রাদার। সেটি ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর। দুজনই আবাহনীর হয়ে একাধিক ম্যাচ খেলেছেন। তবে ঢাকা লিগে 'ওয়াসিম আকরামের ম্যাচ' বলতে সবাই যেমন মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচটাই বোঝে, ‌'ফেয়ারব্রাদারের ম্যাচ' বললেও তা-ই। সেটি শুধু দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই বলেই নয়। আরেকটা কারণ, দুটি ম্যাচই হয়েছিল দুর্দান্ত। যাকে বলে আদর্শ একদিনের ম্যাচের বিজ্ঞাপন।


তারকাদ্যুতির বিচারে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে নিল ফেয়ারব্রাদারের কোনো তুলনাই চলে না। তবে ঢাকা লিগে ফেয়ারব্রাদারের আগমন ছিল এক অর্থে ওয়াসিম আকরামের চেয়েও বড় ঘটনা। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যে সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের সঙ্গে ফেয়ারব্রাদারের আবাহনীতে খেলাটাকে মিলিয়ে দেন, সেটি হয়তো একটু বাড়াবাড়ি। তবে সেই সময়ে এটি মোটামুটি যুগান্তকারী এক ঘটনাই ছিল। আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মুস্তফা কামালকে বুদ্ধিটা নাকি দিয়েছিলেন আলী ব্যাখ্যার। নিষিদ্ধ হওয়ার আগের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও পরে প্রশাসক হিসাবে আরও বিখ্যাত ব্যাখারের যুক্তি ছিল, সাদা চামড়ার কোনো ইংলিশ ক্রিকেটার কেউ বাংলাদেশে খেলতে এলে বিশ্ব ক্রিকেটে সেটি বড় খবর হবে। তা হয়েছিলও। ফেয়ারব্রাদারকে ক্রিকেট বিশ্ব তখন এক নামে চেনে। তিনি একাই আসেননি। অজানা-অচেনা বাংলাদেশে এসে কী পরিস্থিতিতে পড়েন, এটা ভেবেই কি না সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন স্বদেশি রিচার্ড ইলিংওয়ার্থকেও। টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে এই বাঁহাতি স্পিনারের। ভিভ রিচার্ডসকে আউট করে টেস্টে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট। এমন একটা শুরুর পরও ইলিংওয়ার্থের টেস্ট ক্যারিয়ার ৯ টেস্টেই থেমে যায়। ঢাকায় আসার বছর দেড়েক আগে খেলেছিলেন দুটি টেস্ট, প্রায় চার বছর বিরতির পর আবার ডাক পেয়ে সাতটি। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে শেষ দুই টেস্টের তিন ইনিংসেই তিনটি করে উইকেট নেওয়ার পরও তাঁকে আর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে রাখা হয়নি। তবে ওয়ানডে খেলেছেন এরপরও। যদিও ওয়ানডে ক্যারিয়ারও এমন সমৃদ্ধ কিছু নয়। খেলেছেন মাত্র ২৫টি ম্যাচ। তাঁর ভাগ্য ভালো বলতে হবে, এর মধ্যেই পেয়ে গেছেন দুটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। ক্রিকেটারের চেয়ে পরে আম্পায়ার হিসাবেই বরং বেশি পরিচিতি পেয়েছেন ইলিংওয়ার্থ।


default-image

ফেয়ারব্রাদারের মা ইংলিশ হয়েও ভক্ত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান নিল হার্ভির। তাঁর নামেই ছেলের নাম রেখেছিলেন নিল হার্ভি ফেয়ারব্রাদার। টেস্ট খেলেছেন ১০টি, তবে ওয়ানডে স্পেশালিস্ট হিসাবেই তাঁর যত নামডাক। ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন, নব্বইয়ের দশকের বড় একটা সময় ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের মিডল অর্ডারের প্রাণভোমরাও হয়ে ছিলেন। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপও। ফেয়ারব্রাদার-ইলিংওয়ার্থ দুজনই খেলেছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে। যে ফাইনালে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্কোরার ফেয়ারব্রাদার। আর ম্যাচের সমাপ্তি ইলিংওয়ার্থের আউটে।


ব্যাখারের পরামর্শের হয়তো ভূমিকা ছিল, তবে ফেয়ারব্রাদার ও ইলিংওয়ার্থকে আবাহনীতে আনায় নিজেদের অজান্তেই বড় ভূমিকা রেখেছিলেন অতুলা সামারাসেকারা ও অশোকা ডি সিলভা। আগের বছর এই দুই শ্রীলঙ্কান ঢাকার ক্রিকেট মাতিয়েছেন আবাহনীর হয়ে। পরের বছরও তাঁদের আবাহনীতেই খেলার কথা, কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁরা নাম লিখিয়ে ফেললেন আবাহনীর শত্রুশিবিরে। আবাহনীর চোখে যেটি ছিল 'বিশ্বাসঘাতকতা'রই শামিল। তুমুল আলোচিত ওই দল বদল নিয়ে স্মরণীয় একটা ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিও আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দলবদল নিয়ে তখন রীতিমতো ঝড় ওঠে বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দোতলা গিজগিজ করে ক্রিকেটার, ক্লাব কর্মকর্তা, সাংবাদিকদের ভিড়ে। সেদিন বিকালে মোহামেডান কাকে কাকে যেন সাইন করাতে এসেছে। সেখানেই মোহামেডান সংশ্লিষ্ট কে যেন আমাকে বললেন, আসল ঘটনা ঘটবে আজ রাতে, মোহামেডানে খেলতে বড় কেউ আসবে। সেই 'বড় কেউ' কে, সেটি জানেন না। তবে যতটুকু শুনেছেন, এমন কেউ মোহামেডানে আসছেন,, যাঁর কথা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না।

স্কুপের আশায় গোপনে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও আর কিছু জানতে পারছি না। মোহামেডান ক্লাবে গেলে নিশ্চয়ই জানা যাবে ভেবে সন্ধ্যার পর সেখানে গিয়েও কোনো লাভ হলো না। ঢাকার ক্রিকেটে সবার 'মামু' তানভীর হায়দার তখন মোহামেডানের ক্রিকেট দলের দায়িত্বে। তিনি বিস্মিত হয়ে বললেন, 'আরে না, কে আসবে? বেশি টাকাপয়সা নাই, আমরা এবার কোনোমতে দল করছি।' মোহামেডানের আরেক কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক হেলালও দাবি করলেন, এমন কিছু তিনি এই প্রথম শুনছেন। অনেকক্ষণ মোহামেডান ক্লাবে বসে থাকলাম, যদি কোনো সূত্র পাওয়া যায়। পাওয়া গেল না। সবার মুখে একটাই কথা, 'বড় কেউ এলে গোপন করব কেন, আমরাই তো সবাইকে জানাতাম। প্রচার হলে তো আমাদেরই লাভ।'

কথাটায় যুক্তি আছে। তাহলে কি আসলেই গুজব? মনের খচখচ তাও যায় না। মোহামেডান ক্লাব থেকে বেরিয়ে সঙ্গী ফটো সাংবাদিক শামসুল হক টেংকুকে তাই বললাম, 'অফিসে গিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে চলো এয়ারপোর্টে যাই। আমাকে খবরটা যিনি দিয়েছেন, তাঁর মিথ্যা বলার কথা না। বলে লাভই বা কী? একটা চান্স নিই, একটু অকারণ কষ্টই না হয় হবে।'

তখন আমরা ভোরের কাগজে। নয়া পল্টনে অফিস। ঝড়ের বেগে কাজ শেষ করে রাত দশটা-সাড়ে দশটার দিকে টেংকুর মোটর সাইকেলে এয়ারপোর্টে রওনা হলাম। এয়ারপোর্টে ঢুকেই দেখি, দুই হাত পেছনে বেঁধে পায়চারি করছেন সালাম মুর্শেদী। সাবেক ফুটবলার তখন মোহামেডানের কর্মকর্তা। আমাদের দেখে একটু চমকে গেছেন বলেও মনে হলো। যা দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলাম, খবরটা তাহলে সত্যিই। 'বড় কেউ' ওই বিদেশি ক্রিকেটারকে রিসিভ করতেই এয়ারপোর্টে এসেছেন সালাম মুর্শেদী। তিনি যদিও তা হেসেই উড়িয়ে দিয়ে বারবার বলে যাচ্ছেন, তিনি এসেছেন ব্যবসায়িক কাজে। তাঁর গার্মেন্টের এক বিদেশি বায়ারকে রিসিভ করতে। এত রাতে আমরা অহেতুক কষ্ট করছি বলে সমবেদনাও পেলাম। ততক্ষণে আমার যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে। সালাম মুর্শেদীকে বললাম, 'এসেই যখন পড়েছি, আপনি যতক্ষণ আছেন, আমরাও থাকব। আপনার বায়ারকেই না হয় দেখে যাই।'

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। ধৈর্য্যের পরীক্ষায় ফেল করার উপক্রম। অবশেষে এক সময় জানা গেল, দুবাইয়ের ফ্লাইট নেমেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঁচের দেয়ালের ওপাশে যাত্রীদের দেখা মিলল। কাকে দেখব ভেবে রীতিমতো রোমাঞ্চিত। ওটা কে? ভুল দেখছি না তো! সাড়ে ছয় ফুটের মতো লম্বা, ভিড়ের মধ্যেও সামারাসেকারার ওপর সবার আগে চোখ পড়ে। কিন্তু অতুলা সামারাসেকারাকে দেখব, এটা যে কল্পনাই করিনি। সামারাকে দেখেই অশোকা ডি সিলভাকে খুঁজছি। ওই তো সামারার পেছনে তিনিও আছেন। মোহামেডানের অমন কঠিন গোপনীয়তার রহস্য এতক্ষণে পরিষ্কার হলো। 'বড় কেউ' বলতে আরও বিখ্যাত কোনো ক্রিকেটারের কথা ভেবেছিলাম। তা হলে তো আরও ঘটা করে সেটি জানানোর কথা। মোহামেডানের কর্মকর্তারা কেন এটি গোপন রাখতে চাইছেন, সেটি তাই বুঝতেই পারছিলাম না। সেই সময়ে আবাহনী-মোহামেডান বৈরীতার সঙ্গে যাদের পরিচয় নেই, তারা যেমন এখনো তা বুঝবেন না। যেমন বুঝবেন না, সামারাসেকারা-অশোকার আবাহনীকে না জানিয়ে মোহামেডানে চলে যাওয়াটা তখন কত বড় ঘটনা ছিল!


আমি আর টেংকু তা ঠিকই বুঝলাম। বুঝলাম তো, কিন্তু তখন তো পড়েছি আরেক বিপদে। সামারা-অশোকার ছবি তোলা হয়েছে, এত রাতেও এয়ারপোর্টে সাংবাদিক দেখে অবাক হওয়াটাও ধরা পড়েছে সেই ছবিতে। মোহামেডানে খেলতে এসেছেন, এটা তাঁদের মুখ থেকে শোনা দরকার। কথা বলবেন না-বলবেন না করেও গাড়িতে উঠতে উঠতে দল বদলের কথা স্বীকার করেছে সামারাসেকারা। সেই সময়ের বিচারে বিরাট এক স্কুপ। কিন্তু পরদিনের পত্রিকায় ছাপা না হলে তো সেই স্কুপ মাঠে মারা যাবে। সেটিই যে হওয়ার আশঙ্কা। তখন তো আর ল্যাপটপ আর ই মেইলের যুগ নয়। পত্রিকার মেক আপও কম্পিউটারে হয় না। এয়ারপোর্ট থেকে অফিসে ফিরে ফিল্ম থেকে ছবির নেগেটিভ করতে হবে, তারপর হাতে পেস্টিং। এরপর হাতে হাতেই সেটি পৌঁছাবে প্রেসে। অথচ পত্রিকার ডেডলাইন তখনই পার হয় হয় অবস্থা। এয়ারপোর্ট থেকে অফিসে ফোন করে ঘটনার গুরুত্ব বুঝিয়ে পত্রিকা আটকানো হলো। বলা হলো, ছবির জন্য প্রথম পৃষ্ঠায় চার কলাম জায়গা রাখতেও। স্টোরি লেখার সময় নেই। ছবির সঙ্গে শুধু ক্যাপশন নিউজই যাবে। সেটিও যাবে যদি মিনিট বিশেকের মধ্যে অফিসে পৌঁছুতে পারি, তবেই। মোটর সাইকেলে গতির ঝড় তুলে টেংকু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করল। যদিও ওই এয়ারপোর্ট টু নয়া পল্টন যাত্রার কথা ভেবে পরের কয়েক দিন গায়ে কাঁটা দিয়েছে। টেংকুর পেছনে বসে আমার সারাক্ষণই মনে হচ্ছিল, পত্রিকায় সামারাসেকারার-অশোকার খবর ধরাতে গিয়ে আমরা নিজেরাই না 'খবর' হয়ে যাই!

পর দিনের ভোরের কাগজে বিমানবন্দরে সামারাসেকারা ও অশোকা ডি সিলভার ছবি এবং তাঁদের আবাহনী ছেড়ে মোহামেডানে যাওয়ার খবর নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় মহা আলোড়ন। অনেকের মনেই অবিশ্বাস। বিকালে মোহামেডান কর্মকর্তা ও সমর্থক পরিবৃত হয়ে দুই শ্রীলঙ্কানের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আগমনের আগ পর্যন্ত যা নিয়ে ফিসফাস থামেনি।

সেদিন আমি আর স্টেডিয়ামমুখোই হইনি। নিউজ যা করার তা করেই দিয়েছি, বাকিটুকু তো আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তখন কল্পনাও করিনি, কিছুদিন পরই সামারাসেকারা ও অশোকা ডি সিলভা এমন এক অভিজ্ঞতা উপহার দেবেন, সাংবাদিকতা জীবনে এর আগে-পরে যেটির সঙ্গে পরিচয় হয়নি। সেই গল্প আগামীকাল বলি, সঙ্গে 'ফেয়ারব্রাদারের ম্যাচ'ও।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0