default-image

সরফরাজ নওয়াজের হাত ধরে তার আগমন বটে, কিন্তু রিভার্স সুইং ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে তো ইমরান খানের হাতেই। পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি অধিনায়ক রিভার্স সুইংয়ে কতটা ভয়ংকর ছিলেন, তা নতুন করে আরেকবার জানালেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের ওপেনার অরুণ লাল। 

আশির দশকের সময়টাকে ইমরানের সময় জানিয়ে অরুণ প্রশংসায় মেতেছেন পাকিস্তান অধিনায়কের। তবে সঙ্গে এটাও বললেন, সে সময়ে রিভার্স সুইংয়ের পেছনে একটা বড় অবদান ছিল বল টেম্পারিংয়ের নিয়মের। তখন যে বলের আকৃতি বদলানো অবৈধ ছিল না।

ভারতের জার্সিতে খুব বেশি অবশ্য খেলা হয়নি অরুণ লালের। আশির দশকে খেলেছেন। টেস্ট ১৬টি, ওয়ানডে ১৩টি। যদিও ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরাদের একজনই মানা হয় তাঁকে। ভারতের ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট স্পোর্টসক্রীড়াতে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আশির দশকের দলগুলোর বোলিং শক্তি নিয়ে কথা বলেছেন, সেখানেই ইমরানের জন্য তাঁর কণ্ঠে ঝরেছে প্রশংসার বৃষ্টি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সময়টাকে 'বোলিং যুগ' আখ্যা দিয়ে অরুণ বললেন, 'সে সময়টা অনেক কঠিন ছিল (ব্যাটসম্যানদের জন্য)। ভিন্ন একটা যুগ ছিল। বোলিং যুগ। প্রতিটি দলেই বেশ কজন দুর্দান্ত বোলার ছিলেন।'

এঁদের মধ্যে কার বল খেলতে সবচেয়ে বেশি মুশকিল মনে হয়েছে, এমন প্রশ্নেই ইমরান আর তাঁর বিষময় রিভার্স সুইংয়ের প্রসঙ্গ উঠে এল অরুণের কণ্ঠে, 'ইমরান খান ছিলেন সবচেয়ে কঠিন। বিশেষ করে রিভার্স সুইংয়ের ধারণাটা যখন শুরু হলো। তাঁরাই (পাকিস্তানের বোলাররা) সবার আগে সেটি ব্যবহার করা শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত ওই সময়টা তখন ছিল, যখন বলের আকৃতি বদলানো বৈধ ছিল, পরে সেটা অবৈধ হয়ে গেছে।' তা সুইং বোলার তো সে ভারতীয় দলেও কপিল দেব ছিলেন। কিন্তু অরুণের কথা, ইমরান অনেক বেশি ভয়ংকরভাবে সুইং করাতে পারতেন। কখনো কখনো নাকি ইমরানের বল এমনই বাঁক নিত যে, অরুণ ব্যাট যে হিসেব করে চালাতেন, বল তার ৬-৮ ইঞ্চি দূরে থাকত!

এ তো গেল বোলিং আর রিভার্স সুইং শিল্পের কথা, মাঠে ইমরানের উপস্থিতি-বিচরণ আর অধিনায়কত্বের ঢংও মুগ্ধ করত অরুণকে, 'ইমরান শারীরিকভাবে দারুণ ফিট ছিলেন। মাঠে তাঁর চলাফেরার মধ্যে একটা ডাকাবুকো ভাব থাকত। '৮২–র পর থেকে সময়টা তো তাঁরই। মাঠে তাঁর উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব, যেভাবে বল করতে আসতেন—সবকিছুই দারুণ ছিল। অধিনায়কত্বও করতেন দারুণ। সবকিছু তিনি যেভাবে চাইতেন, সেভাবেই হতো।'

অরুণ যে দাবিটা করছেন, রিভার্স সুইংয়ের শুরুর দিকে পাকিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে সেটি অভিযোগ হয়ে উঠেছে অনেক সময়। অনেকেই সমালোচনার তির দাগাতেন এই বলে যে, পাকিস্তানের বোলাররা বল টেম্পারিং করে বলকে রিভার্স সুইংয়ের উপযোগী বানাতেন। তবে সরফরাজ নওয়াজ সব সময় এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তো বল টেম্পারিং অনেক বড় কান্ডেরই জন্ম দিয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং করে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট। তবে করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বলে লালা মাখানো নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে বল টেম্পারিংকে আবার বৈধতা দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন