প্রতিপক্ষের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে মাথায় হাত পেসার শরিফুলের।
প্রতিপক্ষের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে মাথায় হাত পেসার শরিফুলের।ছবি: এএফপি

ফ্রিক শো? তা বলাই যায়। ম্যাচের দৈর্ঘ্যই বলছিল, হাতে সময় নেই। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা খুনে মেজাজে ব্যাট করে আক্ষরিক অর্থেই প্রমাণ করলেন সত্যিই হাতে সময় নেই!

ওদিকে বাংলাদেশ দলের অবস্থা যা তাই ; ক্যাচ ছাড়ার ‘শো’ তো চলছেই, সঙ্গে মারমুখি ব্যাটিংয়ের সামনে লাইন–লেংথ হারিয়ে বোলাররা যেন যারপরনাই অসহায়! নিউজিল্যান্ড যে রান তুলেছে তা বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টির সাধারণ দৈর্ঘ্যের ম্যাচে তুলতে পারবে কি না, সেটাই যেন বড় প্রশ্ন!

কথা হচ্ছে, অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি–টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে। আগের দুটি ম্যাচ হেরে এমনিতেই হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। আজ তা এড়ানোর লড়াইয়ে বাধ সেধেছিল বৃষ্টি। দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময়) শুরু হওয়ার কথা ছিল ম্যাচ। বৃষ্টি হানা দেওয়ায় দুই ঘন্টা দেরিতে শুরু হওয়া এ ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয় ১০ ওভারে।

অর্থাৎ, টি–টোয়েন্টির ‘বেসিক’ মারমুখি ব্যাটিংকেও অন্য মাত্রায় তুলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই ৪ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছেন। রসিকতা করে বলাই যায়, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা স্রেফ ‘অমানবিক’ ব্যাটিং করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ না থাকায় আজ প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব করেন লিটন দাস। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে প্রথম ম্যাচেই।

অকল্যান্ডে ইডেন পার্কের বাইশ গজ এমনিতেই পেসবান্ধব। এর মধ্যে আবার বৃষ্টিও হানা দেওয়ায় পেসারদের জিভে জল আসার কথা। কিন্তু বেরসিক লিটন কিনা বোলিং শুরু করালেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে দিয়ে! লিটন যেন বোঝালেন, উইকেটের চরিত্র ও কন্ডিশন যাই হোক, দুজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান থাকলে বাঁহাতি স্পিনার নিয়ে আসার কৌশল থেকে কোনোভাবেই সরবে না বাংলাদেশ!

default-image

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ফিন অ্যালেন তো আর বেরসিক নন। টি–টোয়েন্টির মোড়কে টি১০ ব্যাটিংয়ের আনন্দ দিয়েছেন দুজন। নাসুম নিজের প্রথম ওভারে ৯ রান দিলেও তৃতীয় ওভারে এসে দিয়েছেন ২০ রান। তাঁর এই দ্বিতীয় ওভারে ইচ্ছেমতো মেরেছেন অ্যালেন। এদিকে অন্য প্রান্ত থেকে পেসার তাসকিন আহমেদ এসে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। মানে, লাইন–লেংথ আর কি!

কম ওভারের ম্যাচ, ব্যাটসম্যানরা যে প্রথম বল থেকেই খুনে মেজাজে থাকবেন—সে তো জানা কথাই। কিন্তু তাসকিন বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন! তাঁর প্রথম ওভারে গাপটিল যে দুটো ছক্কা মারলেন, তার মধ্যে প্রথমটি কম করে হলেও ৯৫–১০০ মিটার দূরত্বে গিয়ে পড়েছে। আর দুটো ডেলিভারিই ছিল ছক্কা মারার সুবিধাজনক জায়গায়।

এবার নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের চিরায়ত দৃশ্যটা দেখা গেলে চতুর্থ ওভারে এসে। শরিফুল ইসলামের করা সেই ওভারে দুবার ক্যাচ তুলেছেন অ্যালেন। খুব যে সহজ ক্যাচ তা নয়, কিন্তু জয়ের আকাক্ষা থাকলে ফিফটি–ফিফটি সুযোগও কাজে লাগাতে হয়—রুবেল হোসেন ও সৌম্য সরকার ক্যাচ দুটো নিতে না পারায় তা কাজে লাগানো যায়নি।

ষষ্ট ওভারে এসে স্পিনার মেহেদী হাসান গাপটিলকে (১৯ বলে ৪৪ রান) তুলে নিলেও ওই এভারে উঠেছে ২১ রান। পরের ওভারে মেহেদীর চেয়ে ভালো করেন রুবেল—১৯ রান দিয়ে! তাঁর দুঃখ হতে পারে এই ওভারেও লং অফে অ্যালেনের ক্যাচ ছাড়েন সৌম্য।
১০ ওভারের এই ম্যাচে প্রথম ৫ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ৬৯ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। পরের পাঁচ ওভারে উঠেছে ৭২ রান। ৩ ছক্কা ও ১০ চারে ২৯ বলে ৭১ রান করেন অ্যালেন।

বাংলাদেশের সব বোলারই ওভারপ্রতি গড়ে দশের বেশি রান দিয়েছেন। ১টি করে উইকেট তাসকিন, মেহেদী ও শরিফুলের। প্রথম ও নবম ওভার ছাড়া সব ওভারেই দশের বেশি রান উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন