default-image

গ্যাবায় আজ ম্যাচটা হলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়ানো বাংলাদেশকে দেখে বোঝা যাবে তাদের ক্রিকেট এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেকের চোখই আছে বাংলাদেশের ওপর।
কয়েক বছর ধরেই টেস্ট ক্রিকেটের কৌলিন্য ধরে রাখার চাপ অনুভব করছে আইসিসি। বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমরা সবাই মানি। কিন্তু কিসের বিনিময়ে? টেস্ট ক্রিকেট ও বিশ্বকাপের মান তো অন্তত ধরে রাখতে হবে।
আগামী বিশ্বকাপ ১০ দল নিয়ে করার পরিকল্পনা আইসিসির। অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তারা শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। প্রত্যাশিত মানদণ্ড অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারা দলগুলোকেও তাদের শনাক্ত করতে হবে এখনই।
খোলাখুলি বললে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই টেস্ট ক্রিকেটের মানদণ্ড ছুঁতে পারছে না। দেশ দুটিতে অনেক সমস্যা আছে মানি। তা সত্ত্বেও বলব, ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রিয় প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও ভালো করা উচিত ছিল।
১৯৮৬ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ, টেস্ট মর্যাদা পায় ২০০০ সালে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাদ দিলে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৭৪ টেস্ট খেলে হেরেছে ৬৪টিতেই। খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জিতেছে ২টি টেস্ট। ওয়ানডে পরিসংখ্যান একটু ভালো।

পরিসংখ্যান বলে বাংলাদেশের বোলাররা তাঁদের কাজটা ঠিকই করছেন, কিন্তু প্রথম চার ব্যাটসম্যান পারছেন না। দেশটির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। গত চারটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তারা অষ্টম, নবম, সপ্তম ও নবম হয়েছে।

দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মানসিকতায় সমস্যা আছে। বাংলাদেশের আরও অনেক বেশি চার দিনের ম্যাচ খেলা উচিত। কিন্তু মনে হয় অন্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে ভয় পায় বিসিবি, যদি খারাপ পারফরম্যান্সে টেস্ট মর্যাদা চলে যায়! আমার ধারণা, বেশির ভাগ বাংলাদেশি খেলোয়াড়ই দেশের হয়ে খেলাটাকেই বড় করে দেখে, জয়ের মাহাত্ম্যটা সেভাবে বোঝে না। একটা হাফ সেঞ্চুরি বা তিন উইকেট পেলেই তাই খুশি তারা। কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড় একজন অস্ট্রেলিয়ান বা দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়ের ফিটনেস দেখলে বিব্রতই হবে। বাংলাদেশি খেলোয়াড়েরা আইপিএল, বিগ ব্যাশ বা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলে মোটা টাকা আয় করতে চাইলে আগে দেশের হয়ে তাদের ভালো খেলতে হবে। জয়ের অভ্যাস গড়তে হবে।

এই কথাগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুন্দর ছবি ফোটাতে না পারলেও আমার বিশ্বাস, দেশটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। দারুণ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে তাদের, প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। অবকাঠামোর আমূল বদলও দরকার। বাংলাদেশের সমর্থকেরা ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। স্বাভাবিকভাবেই দেশটির ক্রিকেট দলের কাছে আরেকটু বেশি ওরা চাইতেই পারে।

এই সপ্তাহেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে হারিয়েছে, এর আগে আফগানিস্তানও বাংলাদেশকে একবার হারিয়েছে। দেখুন, অল্প কদিনেই আফগানরা কেমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে! বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা ধরে রাখার চেয়ে তাই আফগানিস্তানের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সম্ভাবনাই আমার চোখে বেশি।

কৌতূহল নিয়ে গ্যাবার বাউন্সি উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ বাংলাদেশ কীভাবে সামলায় তা দেখব আজ। দেখব তাদের ফিল্ডিং-ফিটনেস কতটা ভালো। দেশের হয়ে খেলাটা বাংলাদেশিদের জন্য আসলে কতটা উদ্দীপনামূলক? সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

মুখোমুখিবাংলাদেশঅস্ট্রেলিয়া

               ম্যাচ    বাংলাদেশ  অস্ট্রেলিয়া

                       ১৯        ১        ১৮

বিশ্বকাপে         ২               ০                ২

অস্ট্রেলিয়ায়       ৬               ০                ৬

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন