default-image

‘আমাদের জয়-পরাজয় সাধারণত সুন্দর শুরু ও শেষের ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি শুরুটা দারুণ করতে পারি, তাহলে ভালো কিছুই হবে। আমাদের ইতিহাসও তা-ই বলে।’ কথাগুলো তামিম ইকবালের। অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেওয়ার আগে মিরপুরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন তিনি। তামিমের মন্তব্য যুক্তিযুক্ত বটে। চারটা প্রস্তুতি ম্যাচেই শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ফল? নিশ্চয় সবার জানা।
অস্ট্রেলিয়ান একাদশের বিপক্ষে সৌম্য-এনামুলের উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে ২৬ রান, একই দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে একই জুটির রান ৬, পাকিস্তানের বিপক্ষে এনামুল-তামিমের উদ্বোধনী জুটিতে এল মাত্র ১ রান আর সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একই জুটির সংগ্রহ মোটে ১২ রান। প্রথম দুই ম্যাচে তামিমের চোটের কারণে ওপেন করেছিলেন সৌম্য সরকার। এনামুল হক করেছেন চারটি ম্যাচেই। ‘তিন’ ওপেনারের মধ্যে তামিম-সৌম্য মোটামুটি রান পেলেও সবচেয়ে ব্যর্থ এনামুল। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তামিমের সঙ্গে কে বেশি যৌক্তিক—এনামুল, নাকি সৌম্য?
চার ম্যাচে এনামুলের রান—১১, ২, ০ ও ২৫। ডানহাতি এ ওপেনারের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন বললেন, ‘এনামুল ভালো ব্যাটসম্যান। প্রতিটি কোচ এসে কিছু সংশোধন করার চেষ্টা করেন। টেলিভিশন-পত্রিকায় দেখেছি, বর্তমান কোচ এনামুলের কিছু শট খেলার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি হয়তো মনে করেছেন, শটগুলো অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে উপযোগী হবে। অনেক সময় ব্যাটসম্যানদের এ পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। এ কারণে ব্যাটসম্যানকে একটু সময় দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে এনামুল হয়তো পর্যাপ্ত সময় পায়নি। এ সময় ব্যাটসম্যান বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। ভাবেন, কোচের পরামর্শ মেনে পরিবর্তন আনবেন, নাকি আগের টেকনিকেই ফিরে যাবেন। মনে হয়, এনামুল এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

তবে পেছনের রেকর্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ভালো করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এনামুলের। এ কারণে তাঁকেই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক ওপেনার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকর আতহার আলী খান। বললেন, ‘শুধু আমাদের নয়, উপমহাদেশের সব ব্যাটসম্যানকেই ওই কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ওপেনার ও টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের। এনামুলের পেছনের রেকর্ড দেখলে দেখা যাবে, তার কিন্তু ওয়ানডেতে তিনটা সেঞ্চুরি ও তিনটা ফিফটি আছে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। যদি তার অভিজ্ঞতা দেখি, তা হলে ২০১২ সালে এই অস্ট্রেলিয়ায় অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এনামুল। ওই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানও (৩৬৫) করেছিল। ফলে ওই কন্ডিশনের সঙ্গে তুলনামূলক সে বেশি পরিচিত।’
এনামুলের ব্যর্থতার দিনে রান পেয়েছেন ‘ব্যাক-আপ’ ওপেনার সৌম্য। চার ম্যাচে রান—৩৩, ১৫, ১৫ ও ৪৫। তবে তাঁকে নিয়ে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কখনো খেলানো হয়েছে ওপেনিংয়ে, কখনো ছয়ে কখনো বা চার নম্বরে। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা দলের মূল পরিকল্পনার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মনে করেন গাজী আশরাফ, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে একটু বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। সৌম্য কিন্তু উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাকে নিয়ে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, মিডল অর্ডারে খেলানো হয়েছে। হয়তো সামনে লোয়ার মিডল অর্ডারেও দেখতে পারি। আসলে যে পরিকল্পনা করে এ দলটি গঠন করা হয়েছিল, এতে সেটির কিছুটা ব্যত্যয় হয়ে যাচ্ছে।’

default-image

প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় ব্যাট কথা না বললেও এনামুলের ওপর আস্থা রাখছেন গাজী আশরাফ-আতহার দুজনই। গাজী আশরাফ বললেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেটটা হয়তো স্ট্রোক খেলার মতো ছিল না। এনামুলকে কিছুটা সময়ও দিতে হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার মতো ব্যাটসম্যানের দরকার আছে। সামনের ম্যাচে যদি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভালো খেলে তাকে পরিবর্তনের কোনো কারণ দেখি না। তবে শারীরিক ভাষায় যদি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকে, তাহলে টিম ম্যানেজমেন্ট বিকল্প দেখতেই পারে।’
এ প্রসঙ্গে আতহারের মন্তব্য, ‘যেহেতু এনামুল প্রস্তুতি ম্যাচের চারটিই খেলেছে, হয়তো প্রথম ম্যাচটা সে খেলবে। কারণ, টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো চাচ্ছে তামিম-এনামুল জুটিই অব্যাহত থাকুক। আর যদি পরিবর্তন আনেই, তবে বিকল্প ওপেনার হিসেবে সৌম্যের বাইরে তো কাউকে দেখছি না। তবে যে-ই খেলুক, ভালো শুরু করতে হবে। ওপেনিং তো বটেই, সঙ্গে ২ থেকে ৫ নম্বর ব্যাটসম্যান পর্যন্ত ভালো রান করতে হবে। বড় জুটি যদি নাও হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে প্রথম ১০-১২ ওভারে তেমন উইকেট হারানো যাবে না। আর সেটা হলে লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে ওপেনারদেরই।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন