চ্যালেঞ্জ? তা বটে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চলার পথটা কঠিন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। এ কারণে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অন্য ম্যাচের ফলে।
আগে ব্যাট করতে নেমে আজ জয়ের মতো স্কোরই গড়ে স্কটল্যান্ড। রিচি বেরিংটনের ৪৯ বলে ৭০ এবং ম্যাথু ক্রসের ৩৬ বলে ৪৫ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে স্কটল্যান্ড। এ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ ওভারের মধ্যে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পথভ্রষ্ট হওয়া পাপুয়া নিউগিনি শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানের কাছে ১০ উইকেটে হারা পাপুয়া নিউগিনির বোলাররা ভালো শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি। ৩.৪ ওভারের মধ্যে ২৬ রানে দুই ওপেনার কাইল কোয়েটজার ও জর্জ মানসিকে তুলে নেয় পাপুয়ান বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে বেরিংটন-ক্রসের ৬৫ বলে গড়া ৯২ রানের জুটিতে বড় স্কোরের ভিত পেয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
বেরিংটন ও ক্যালাম ম্যাকলাউডের ২৩ বলে ৩৩ রানের জুটি সে স্বপ্নকে আরও বেগবান করলেও পরের ব্যাটসম্যানরা গতিটা ধরে রাখতে পারেননি। ১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২০ রান তোলা স্কটল্যান্ড শেষ ৫ ওভারে তুলতে পারে ৪৫ রান, হারায় ৬ উইকেট। পাপুয়া নিউগিনির হয়ে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন কাবুয়া মোরেয়া। ২৪ রানে ৩ উইকেট চ্যাড সোপারের।
পাপুয়া নিউগিনি ব্যাটিংয়ে নামার শুরু থেকেই চাপে ছিল। দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ওভারে একটি করে উইকেট হারানোর পাশাপাশি ও ষষ্ঠ ওভারে আরও দুটি উইকেট হারায় দলটি। এরপর আর জয়ের চেষ্টা করতে পারেনি দলটি। ষষ্ঠ উইকেটে নরমান ভানুয়া ও সেসে বাউ ৩৩ বলে ৩২ রানের জুটি ম্যাচকে শুধু লম্বা করার চেষ্টাই করেছেন। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৬২ রান দরকার ছিল পাপুয়া নিউগিনির।
এখান থেকে জয়ের জন্য শেষ ওভারে লক্ষ্যটা ২৪ রানে নিয়ে আসে পাপুয়া নিউগিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে অলআউট হয় দলটি। ১২ রানে ৪ উইকেট নেন স্কটল্যান্ডের পেসার জশ ডেভি।
স্কটল্যান্ড এ ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশকে এখন ওমানের বিপক্ষে জিততেই হবে। কারণ, বাংলাদেশ হারলে ওমান ও স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট দাঁড়াবে সমান ৪। তখন প্রথম রাউন্ডে ‘বি’ গ্রুপ থেকে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার আগেই বাদ পড়ে যাবে বাংলাদেশ।
তবে আজ বাংলাদেশ জিতলে জমে উঠবে ‘বি’ গ্রুপের লড়াই। তবে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে স্কটল্যান্ড হারলে সমীকরণটা তুলনামূলক সহজ হতো বাংলাদেশের জন্য। তখন নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচ জিতলেই সুপার টুয়েলভে উঠে যেত বাংলাদেশ।
কিন্তু স্কটল্যান্ড জেতায় এবং বাংলাদেশও যদি আজ ওমানকে হারাতে পারে তখন কিছু হিসাব–নিকাশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাপুয়া নিউগিনির। ওদিকে স্কটল্যান্ড ও ওমান মুখোমুখি হবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচটি জিতেও সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করতে পারবে না।
কারণ, স্কটল্যান্ড যদি ওমানের কাছে হেরে বসে, তখন তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৪। তখন কোন দুই দল সুপার টুয়েলভে যাবে, সেটা নির্ধারণ করতে হবে এভাবে—এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিয়মানুযায়ী, সমান পয়েন্ট থাকলে দলগুলোর নেট রানরেটই বিবেচ্য হবে। অর্থাৎ ম্যাচ জিতলে বড় ব্যবধানে জেতার দিকেও নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে।