default-image

খাবার নিয়ে ক্রীড়াবিদদের অনেক ঝামেলায় থাকতে হয়। ফিটনেসের কারণে এটা খাওয়া যাবে না, ওটা পান করা যাবে না—ওদিকে পছন্দের খাবারগুলো বেশির ভাগ সময়ে হাতছাড়া হয়ে যায়। অন্তত খেলোয়াড়ি জীবনে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস আগে, পছন্দের খাবার পরে। মোহাম্মদ আমিরের কথাই ধরুন। পাকিস্তানি এ পেসার ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন তাঁর পছন্দের খাবার সম্পর্কে। পাকিস্তান দলে থাকতে রান্নায় সেরা কে ছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ২৮ বছর বয়সী এ পেসার।

আমির জানিয়েছেন, তিনি তুর্কি খাবার পছন্দ করেন। এর মধ্যে মিক্সড গ্রিলড খাবার তাঁর বেশি পছন্দ। স্বাস্থ্যকর খাবার বলে তা প্রতিদিনই খেতে পারেন। তবে রান্নায় আমির যেন ব্যাটিংয়ে নামা কোর্টনি ওয়ালশ! একেবারেই কিছু পারেন না। তাঁর ভাষায়, ‘আমি চাও বানাতে পারি না।’ পাকিস্তান দলে থাকতে সতীর্থদের মধ্যে দু-একজনের রান্না বেশ পছন্দের ছিল আমিরের। বাঁহাতি এ পেসার জানিয়েছেন এ নিয়ে, ‘কয়েকজন (রান্নায়) খুব ভালো ছিল। ২০১০ ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মনে আছে। সাঈদ আজমল খুব ভালো রান্না করতেন। ডাল ছাড়াও আরও কী কী যেন রান্না করেছিলেন, ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু দুর্দান্ত রান্না হয়েছিল, খেতে খুব ভালো। আমরা হালাল খাবার পাচ্ছিলাম না। হোটেল থেকে নিজেদের রেঁধে খাওয়ার ব্যাপারে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং সাঈদ ভাই দুর্দান্ত রেঁধেছিলেন।’

default-image
বিজ্ঞাপন

ফিটনেস নিয়ে ক্রিকেটাররা ভাবনাচিন্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন যে একেক সংস্করণের জন্য তাঁদের একেক ধরনের খাবার তালিকা থাকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের খাবার ও টেস্ট ক্রিকেটের খাবারের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। আমির সে কথাই জানালেন, আর এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উঠে এল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সময় পছন্দের খাবারের কথা জানান আমির। এমনিতে বাংলাদেশের খাবার তাঁর বেশ পছন্দের, ‘বিপিএলে ভাত ও ডাল মাখানি খেতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে এটা ভালো লাগে। তবে বাংলাদেশে বেশির ভাগ সময় আমি শাকসবজি খেয়ে থাকি।’

তবে দুবাইয়ে থাকলে তুর্কি ও লেবাননিজ খাবার খেয়ে থাকেন তিনি। কারণ, এসব খাবারে চর্বি থাকে না বললেই চলে। আর পাকিস্তানে ফিরলে স্ত্রীর রাঁধা পাস্তা, মুরগির স্টেক চেটেপুটে সাবাড় করেন এ ক্রিকেটার। ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমির বিশ্বাস করেন, সকালের খাবারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু না কিছু খেতেই হবে, ‘নইলে গোটা দিন ভুগতে হয়।’ সাধারণত, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে নাশতা সেরে ফেলেন আমির। দুপুরের খাবার খেয়ে থাকেন ১২টা থেকে ২টার মধ্যে, আর রাতের খাবার সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে। খাবারটা সময়মতো খাওয়ার অভ্যাস খুব কমই এদিক-সেদিক হয়েছে আমিরের।

ম্যাচের সময় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেয়ে থাকেন আমির। টেস্ট কিংবা ওয়ানডেতে ভারী খাবার বর্জন করেন। যেমন ভাত, মুরগি...এসব খেলে ‘মাঠে নিজের পারফরম্যান্সটা করা অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে। কারণ শরীর ভারী লাগে।’ বড়জোর মাছ কিংবা ম্যাশড পটেটো খেয়ে থাকেন আমির। বিদেশ সফরে খাবার জায়গা হিসেবে দুবাই ও লন্ডন খুব পছন্দ তাঁর, ‘লন্ডনে যেকোনো ধরনের খাবার পাওয়া যায়। দুবাইয়েও তাই, যেকোনো খাবার পাবেন।’

আমিরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নিজের রসনাবিলাসকে পুরস্কৃত করতে চাইলে কোন খাবারটা পছন্দের? ‘বিরিয়ানি, তবে সেটি আমার স্ত্রীর রাঁধা হতে হবে। সে ভালো রাঁধে। খুব ভালো বিরিয়ানি বানায়’—উত্তর দেন ধূমকেতুর মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটানো এ পেসার।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন