default-image

আট কোটি টাকা, সঙ্গে নতুন একটা অনুভূতি। কাল সন্ধ্যায় গণভবন থেকে বের হওয়ার সময় দুটোই সঙ্গী হলো বাংলাদেশ দলের। আট কোটি টাকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া আর পাকিস্তান সিরিজ জয়ের পুরস্কার। আর অনুভূতিটা জয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
এই অনুভূতি বাধা হলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারত সিরিজ জয়ের জন্য ক্রিকেটারদের বিশেষ পুরস্কার চাওয়াতেও। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বের হওয়ার পর রসিকতা করেই মুঠোফোনে এক ক্রিকেটারের কাছে জানতে চাওয়া হলো, ‘ভারত সিরিজ জেতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু চাননি?’ অপর প্রান্ত থেকে চমকে ওঠার মতো উত্তর এল, ‘আর কত নেব বলেন? অনেক তো নিলাম। অল্প কয় দিনের মধ্যে কম তো গেলাম না গণভবনে। এখন কিছু বলতেও লজ্জা লাগে। আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করব। দেশ তাতে খুশি হয়ে কিছু দিলে দেবে, না দিলে নেই।’
বাংলাদেশ দলের মানসিকতায় আসা পরিবর্তনই যেন ধরা পড়ল তাঁর কথায়। জয় বা সাফল্যগুলোকে এখন আর বড় করে দেখতে রাজি নয় দলটা। কখনো কখনো বরং এগুলোকেই ধরে নিচ্ছে প্রাপ্য। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আজ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যে সিরিজটা শুরু হচ্ছে, তাতে এই পরিবর্তিত মানসিকতার প্রভাব পড়বে নিশ্চিতভাবেই। ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কাল দিয়ে দিয়েছেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার মন্ত্র।
ভয় তবু থেকেই যায়। ভয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার গত তিন-চার বছরের আধিপত্যকে। ভয় দলটার বিপক্ষে নিজেদের হতাশাজনক অতীতকে। ভয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর আগুন ঝরানো প্রোটিয়া পেস আক্রমণকে। কিন্তু উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে অভ্যস্ত পাকিস্তান, ভারতকে সিরিজ হারানোর পর এই জল-হাওয়ায় অনভ্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভয় পাওয়া কি একটু বিস্ময়করই নয়? আসলে ভারত মহাসাগরের ওপারের দল হলেও আইপিএল খেলার সুবাদে উপমহাদেশীয় কন্ডিশন দক্ষিণ আফ্রিকানদেরও ভালোই চেনা। ভয়ের একটা বড় কারণ ওটাই।
দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভয়টা আরও বেশি। তিন সংস্করণের ক্রিকেটের মধ্যে এটাই যে সবচেয়ে কম খেলে বাংলাদেশ! ঘরোয়া ক্রিকেটে গত এক বছরেও খেলা হয়নি কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেছে মাত্র দুটি, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা এই সময়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছে ছয়টি। বাংলাদেশ দলে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বলতেও এক আইপিএল খেলা সাকিব আল হাসানই। অবশ্য গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জয়ের সংখ্যা দুদলেরই সমান এবং দুদলই জিতেছে তাদের সর্বশেষ ২০ ওভারের ম্যাচে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আর বাংলাদেশ সর্বশেষ জয় পেয়েছে গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিমত্তা নিয়ে ভাবার চেয়ে নিজেদের সামর্থ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তবে আমি মনে করি, আমাদের নিজেদের শক্তি নিয়েই চিন্তা করা ভালো। যেভাবে শেষ কয়েকটা সিরিজ খেলে এসেছি, সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
ভয় অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকারও আছে এবং সেটা বাংলাদেশ দলের নবীন ক্রিকেটারদেরই বেশি। কাল সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তো অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি বলেই দিলেন, ‘ওদের দলে কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। এই মুহূর্তে দলটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো তাদের নতুন খেলোয়াড়েরা টি-টোয়েন্টিতেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাদের অনেককেই আমরা দেখিনি, তা ছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। তাদের যে দুই ওভার দেখে খেলব, সে উপায় নেই। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত। কখনো কখনো এ রকম অপরিচতরাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।’
প্রোটিয়া অধিনায়কের ইঙ্গিতটা হয়তো তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের দিকেই বেশি। তবে এই সিরিজে বাংলাদেশের আশার প্রায় পুরোটাই গচ্ছিত স্পিনারদের কাছে। আজকের ম্যাচের জন্য কাল ঠিক হওয়া ১২ জনের মধ্যে তাই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে রাখা হয়েছে অফ স্পিনার সোহাগ গাজী ও লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনকেও। এঁদের মধ্যে সোহাগ-জুবায়েরের যেকোনো একজনের থাকার কথা একাদশে। ১২ জনের বাইরে আছেন পেসার রুবেল হোসেন ও ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0