বিংশ শতাব্দীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের তালিকায় তাঁর নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। এ পর্যন্ত যে দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ক্যারিবীয়রা, তার প্রতিটিতে দলকে টেনেছেন, হয়েছেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের থাকত তাঁর সদর্প উপস্থিতি। সে মারলন স্যামুয়েলস এবার ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

default-image

যদিও অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটা অনেক আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন বোর্ডকে, জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ। জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলতে ২০১৮ সালের শেষ দিকে এসেছিলেন বাংলাদেশে, সেটাই হয়ে থাকল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাঁর শেষ স্মৃতি। কার্যকরী এই ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারে সোনালি সময় এসেছিল কলম্বোয়, ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে, স্বাগতিকদের বোলিং তোপে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। শেষমেশ স্যামুয়েলসের ৭৮ রানের ইনিংসে ১৩৭ রানের পুঁজি নিয়ে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে ম্যাচটা হেরে যায় শ্রীলঙ্কা, ম্যাচসেরা হন স্যামুয়েলস।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই অবস্থা। ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে স্যামুয়েলসের ৮৫ রানের ইনিংসটার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশি। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৭টা সেঞ্চুরি করেছেন, রান তুলেছেন ১১,১৩৪। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১৫২ টি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন দুরন্ত রাজশাহী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, পুনে ওয়ারিয়র্স, মেলবোর্ন রেনেগেডস, পেশোয়ার জালমি, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মতো দলগুলোর হয়ে।

default-image

অবসরের আগে অবশ্য একটা বিতর্ক উসকে দিয়ে গেছেন। বেন স্টোকসের এক নির্দোষ রসিকতার পরিপ্রেক্ষিতে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেদিন। বিবিসির ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংলিশ অলরাউন্ডার রসিকতার সুরেই বলছিলেন, কোয়ারেন্টিনের যন্ত্রণায় যেন আমার সবচেয়ে বড় শত্রু এমনকি স্যামুয়েলসও যেন না পড়ে! কোয়ারেন্টিনে থাকা খুবই কঠিন এক কাজ। ক্যারিবীয় স্পিনিং অলরাউন্ডারের সঙ্গে স্টোকসের ‘শত্রুতা’ পুরোনো। মাঠে দুজনের লেগেছে একাধিকবার। ২০১৫ সালের এপ্রিলে গ্রেনাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে স্টোকসকে আউট করে স্যালুট দিয়েছিলেন স্যামুয়েলস।

স্টোকস যতই রসিকতা করুন, এটি শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্যামুয়েলস। তা না হয় রাগলেন, তাই বলে ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে প্রকাশের অযোগ্য ভাষায় এভাবে আক্রমণ করবেন! স্যামুয়েলসের স্টোরিতে বর্ণবাদী কথা তো আছেই। স্টোকসের স্ত্রীকে টেনে যা–তা লিখেছেন ৩৯ বছর বয়সী জ্যামাইকান ব্যাটসম্যান। ইনস্টাগ্রামে স্যামুয়েলস টেনে এনেছেন তাঁর আরেক পুরোনো শত্রু শেন ওয়ার্নকেও। স্টোকস আর ওয়ার্নকে যেভাবে গালিগালাজ করেছেন স্যামুয়েলস, তাতে তিনি নিন্দিতই হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বে।

শেন ওয়ার্ন চুপ থাকার মানুষ নন। খেলা ছাড়ার পর ধারাভাষ্যকক্ষে সুযোগ পেলেই কথার চাবুকে স্যামুয়েলসকে তুলাধোনা করে থাকেন অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি। এবার ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানকে তিনি চিকিৎসকদের শরণ নিতে পরামর্শ দিতে বললেন, ‘যেহেতু তার (মানসিক) অবস্থা খুব একটা ভালো না, তার জরুরিভাবে (চিকিৎসকের) সহায়তা দরকার। কিন্তু ওর তো কোনো বন্ধু নেই আসলে। এমনকি সাবেক সতীর্থরাও তাকে পছন্দ করে না। তুমি ক্রিকেটার হিসেবে খুব সাধারণ ছিলে, ব্যক্তি হিসেবেও সস্তা হওয়ার দরকার নেই। (চিকিৎসকের) সাহায্য নাও বাছা।’

অবসরের আগে ক্রিকেটভক্তদের কাছে স্যামুয়েলসের শেষ স্মৃতি তাই এই বিতর্কটাই!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0