বাকি কাজটা ‘করে দেখানো’র তৃপ্তি তামিমের

দক্ষিণ আফ্রিকায় জয়টা বাংলাদেশকে সামনে আরও প্রেরণা জোগাবেছবি: এএফপি

দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন মুহূর্তের মুখোমুখি কখনো হয়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের নিয়তিতে হার ছাড়া আর কিছু লেখা ছিল না। অতীতের সে ছবিটা আজ থেকে কেউ মনে রাখবে না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের আঙ্গিনায় ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ইতিহাসটা নতুন করে লিখেছে তামিম ইকবালের দল।

ম্যাচ শেষে গর্বিত অধিনায়ক সে কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় এই সিরিজ জয়কে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম বলছিলেন, ‘এটি অনেক বড় (অর্জন)। খুব সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের, আমাদের ক্যারিয়ারের, আমরা চারজন সিনিয়র আছি, যারা ১৫ বছর ধরে খেলছি... আমাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। আমি এই সিরিজ জয়কেই সবার ওপরে রাখব।’

অধিনায়কের মতোই সিরিজ জয়ের ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম
ছবি: এএফপি

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে আরও ভালো করতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তামিম বলছিলেন, ‘এটি আমাদের বিশ্বাস জোগাবে যে আমরা বিদেশে শুধু হারব না, আমরা ম্যাচ জিততে পারি, সিরিজ জিততে পারি। এই সিরিজ জয় অবশ্যই সেই আত্মবিশ্বাস দেবে দলের সবার মধ্যে।’

সংস্করণটা ওয়ানডে হলে ঘরের মাঠে যে কোনো দলকে হারানোর আত্মবিশ্বাস রাখে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক রেকর্ডও সে কথাই বলে। দেশের বাইরে বড় দলের বিপক্ষে শুধু আচমকা জয়েই খুশি থাকতে হতো বাংলাদেশকে। এবার সে ছবিটা পাল্টে দিল তামিমের বাংলাদেশ, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে আমাদের অনেক গর্ব। আমরা বিশ্বাস করি ওয়ানডেতে আমরা অনেক ভালো দল। আমাদের ঘরের মাঠে বিশ্বের সব দলকেই হারিয়েছি। আমার মতে, এই সংস্করণে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ৫-৬ বছর ধরেই খুব ভালো করছি। বিদেশে জেতাই বাকি ছিল। এই সিরিজে আমরা তা করে দেখিয়েছি।’

সেটাও এসেছে একজন ফাস্ট বোলারের হাত ধরে। তাসকিন আহমেদ ৩৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করে শুধু ম্যাচ সেরাই হননি। সিরিজ সেরার পুরস্কারটিও গেছে তাঁর হাতে।

সাকিবের প্রশংসা ঝরেছে তামিমের কণ্ঠে
ছবি: এএফপি

তামিমের জন্য এ বিষয়টিও গর্বের, ‘আমি খুবই গর্বিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার পাঁচ উইকেট নিয়েছে, ম্যাচসেরা, সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছে। আপনি এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারেন না। বাংলাদেশের ব্যাপারে সবাই স্পিন বোলিংয়ের কথা বলে। কিন্তু ফাস্ট বোলিং ডিপার্টমেন্ট গত দুই বছর ধরে দুর্দান্ত... আমি সব কোচদের এবং আগেও যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের সঙ্গে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছেন।’

সাকিব আল হাসানের কথাও আলাদা করে বললেন ওয়ানডে অধিনায়ক। মানসিক ও পারিবারিক নানা জটিলতা নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন তিনি। অধিনায়কের কথায় উঠে এল সাকিবের সেই ত্যাগের কথা, ‘আমার মতে, সাকিবের এখানে আসা ও খেলা অনেক বড় বিষয় ছিল। বিশেষ করে ওর দুই মেয়ে, মা এবং শাশুড়ি হাসপাতালে ভর্তি। তবু সে দেশের হয়ে খেলছে। এটিই ওর চরিত্র প্রমাণ করে। সাকিব সিরিজটি জিততে চেয়েছিল। আমি ওকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। পুরো সিরিজে ও দুর্দান্ত ছিল।’