বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ভয়ংকর চাপ মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন ওয়ার্নার। আইপিএলে ফর্ম হারিয়ে ফেলায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ টুর্নামেন্টের শেষ দিকে একাদশ থেকেই বাদ দিয়েছিল তাঁকে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো করেননি। অস্ট্রেলিয়া দলে তাঁর জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই নিজের জাত চিনিয়েছেন ওয়ার্নার। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন। সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ৪৯ রান দলকে কক্ষপথে রেখেছিল।

গতকাল ফাইনালেও ছিলেন দুর্দান্ত। ১৭৩ রানের লক্ষ্যে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ শুরুতেই ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, মিচেল মার্শ আগ্রাসী থাকায় ওয়ার্নারের দায়িত্ব ছিল এক প্রান্ত ধরে রাখার। কিন্তু আউট হওয়ার সময় দেখা গেল, এক প্রান্ত ধরে রাখার দায়িত্ব নেওয়া ওয়ার্নার ৫৩ রান করেছেন ৩৮ বলেই! কালকের ইনিংসের পর এই বিশ্বকাপে ওয়ার্নারের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৮৯ রানে। ৪৮.১৭ গড় ও ১৪৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে তোলা এ রানই তাঁকে টুর্নামেন্টের সেরা বানিয়েছে।

default-image

এদিকে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন বাবর আজম। ওয়ার্নারের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেই ৩০৩ রান করেছেন বাবর। গড়টাও দুর্দান্ত, ৬০.৬০। শোয়েব আখতার তাই পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়কের পুরস্কার না পাওয়াকে অন্যায় মনে করছেন। টুইটারে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন এভাবে, ‘বাবর আজমের ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কোনো সন্দেহ নেই, অন্যায় সিদ্ধান্ত (ওয়ার্নারের সেরা হওয়া)।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে না উঠেও টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার নজির আছে। ২০১২ বিশ্বকাপে শেন ওয়াটসন ও ২০১৬ সালে বিরাট কোহলির এই কীর্তি আছে। তবে ২০১২ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান ছিল ওয়াটসনের, সেটাও ১৫০ স্ট্রাইক রেটে। বোলিংয়েও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ওয়াটসন।

default-image

ওদিকে ২০১৬ বিশ্বকাপে কোহলি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করলেও প্রথম পর্বের হিসাব (তামিম ইকবাল) বাদ দিলে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। সেমিফাইনালে দল হারলেও কোহলি ছিলেন নিজের আলোয় উজ্জ্বল। ৪৭ বলে ৮৯ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি উইকেটও নিয়েছিলেন। এর আগে বাঁচা-মরার ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত ৮২ রানের এক ইনিংস খেলেছিলেন।

এদিক থেকে বাবর এই বিশ্বকাপে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। প্রায় সব ম্যাচেই রান করলেও কোনো ম্যাচেই ম্যাচের সেরা হতে পারেননি। টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১২৬.২৫। সেমিফাইনালে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল আরও বাজে। তাঁর ৩৪ বলে মাত্র ৩৯ রানই পাকিস্তানের বড় স্কোরের পথে বাধা হয়ে উঠেছিল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন