কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নবদীপ সাইনি।
কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নবদীপ সাইনি। ছবি: এএফপি

দুজনের চেহারায় মিল আছে, এমনটা কেউ দাবি করবেন বলে মনে হয় না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুজনই এখনো নতুন। ভারতের বাইরে তেমন নামডাকও হয়তো নেই। সে কারণেই কি না, ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে দুজনের মধ্যে গুবলেট পাকিয়ে ফেললেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। পরে ক্ষমাও চেয়েছেন কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। যদিও গিলক্রিস্ট যে দুই ভারতীয় ক্রিকেটারের নামে ভুল করে ফেলেছেন, তাঁদের একজন ম্যাচে ছিলেন, আরেকজন ছিলেন না।

ঘটনাটা কাল সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে। ভারতকে ৬৬ রানে হারিয়ে সিরিজে দারুণ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচে ভারতের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডেটি খেলতে নেমেছেন নবদীপ সাইনি। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন গিলক্রিস্ট, যে সিরাজ কিনা ম্যাচে খেলেনইনি!

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচে সাইনিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ধারাভাষ্যে গিলক্রিস্ট বলেন, এই মাসের শুরুর দিকেই বাবাকে হারান সাইনি। তথ্যটা ভুল ছিল। আসলে ২০ নভেম্বর বাবা হারান সিরাজ। ধারাভাষ্যে দুজনের পরিচয়ে ভুলটা যে করেছেন গিলক্রিস্ট, সেটি তিনি পরে বুঝতে পারেন টুইটারে এসে। তাঁকে ভুলটা ধরিয়ে দেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটভক্ত। এঁদের মধ্যে একজন অবশ্য বিখ্যাত—নিউজিল্যান্ডের পেসার মিচেল ম্যাকলেনাহান।
আনশু নায়ার নামের এক ক্রিকেটভক্ত গিলক্রিস্ট আর সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান ফক্স ক্রিকেটকে ট্যাগ করে লেখেন, ‘নবদীপ সাইনির বাবা মারা যাননি, মারা গেছেন সিরাজের বাবা।’ গিলক্রিস্ট সেই টুইট দেখে পরে রিটুইট করে ক্ষমা চেয়েছেন সাইনি ও সিরাজ দুজনের কাছেই, ‘ধন্যবাদ আনশু। টুইটারে আমাকে ট্যাগ করা লেখাগুলো দেখে বুঝতে পেরেছি আমি ভুল করেছি। অনেক বড় এই ভুলটার জন্য নবদীপ সাইনি ও সিরাজ দুজনের কাছেই ক্ষমা চাইছি।’

ম্যাকলেনাহান অবশ্য গিলক্রিস্টকে ট্যাগ করেননি, ফক্স ক্রিকেটকে ট্যাগ করে টুইট করেছেন, ‘সিরাজ তার বাবাকে হারিয়েছে, সাইনি নয়। সিরাজের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি।’ টুইটটি চোখে পড়ে ‘গিলি’র। কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান ম্যাকলেনাহানকে ট্যাগ করে রি-টুইট করেছেন, ‘হ্যাঁ। ধন্যবাদ, মিচেল। আবারও সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

ভারতীয় দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর গত ২০ নভেম্বর বাবা মারা যাওয়ার কথা জানতে পারেন সিরাজ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন সিরাজকে অনুমতি দেয় দেশে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে শোকের সময়টা কাটানোর জন্য। কিন্তু ভারতের টেস্ট দলের অংশ হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া সিরাজ থেকে যান অস্ট্রেলিয়ায়।

মায়ের সঙ্গে কথা বলার পরই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন। মায়ের বলা কথাগুলো তখন প্রেরণা হয়ে আসে সিরাজের কাছে, ‘মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আমাকে বলেছেন, ‘‘বাবা, সবাইকেই একদিন যেতে হবে। আজ তোমার বাবা চলে গেছেন, কাল আমি হয়তো যাব, কোনো একদিন তোমাকেও যেতে হবে। তোমার বাবা সব সময় চেয়েছেন তুমি ভারতের হয়ে খেলো, তাই তুমি ওখানেই থাকো, সেটাই করো (ভারতের হয়ে খেলা)। ভারতের জন্য ভালো খেলো।”’

default-image

খেলছেন ঠিকই, কিন্তু বাবার কথাও তো মনে পড়ছে সারাক্ষণ। সেই শোকও সিরাজের শক্তি হয়েই আসছে, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন তিনিই করেছেন। আমি অনেক বড় কিছু হারালাম। তিনি চেয়েছেন আমি ভারতের হয়ে খেলি, দেশকে গর্বিত করি। আমি শুধু বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই গত বছর অ্যাডিলেডে ওয়ানডে অভিষেক হয় ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় পেসারের, এখন পর্যন্ত ওই একটি ওয়ানডেই খেলেছেন ভারতের হয়ে। টি-টোয়েন্টি অভিষেক আরও তিন বছর আগেই হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনটি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন