রাজস্থান দলে মোস্তাফিজ ছাড়া খেলার মতো বিদেশি আছেন তিনজন।
রাজস্থান দলে মোস্তাফিজ ছাড়া খেলার মতো বিদেশি আছেন তিনজন।ছবি : আইপিএল ওয়েবসাইট

আইপিএলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ভুগতে থাকা দলের নাম সম্ভবত রাজস্থান রয়্যালস। সেটির মাঠের পারফরম্যান্সে যতটা, তার চেয়ে বেশি আনুষঙ্গিক কারণে।

এমনিতেই চোটের চোটপাট ছিল দলে। বেন স্টোকস ও জফরা আর্চার, দলের মূল ভরসাদের মধ্যে দুজন পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে গেছেন। তার ওপর আইপিএল ছেড়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার অ্যান্ড্রু টাই আর ইংলিশ ব্যাটসম্যান লিয়াম লিভিংস্টোনও। ভারতে করোনার ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে আইপিএলের আয়োজন যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে লিভিংস্টোন-টাইদের এভাবে আইপিএল ছেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হচ্ছে, এত কড়াকড়িভাবে জৈব সুরক্ষাবলয় মানতে গিয়ে মানসিকভাবে তাঁরা ক্লান্ত।

এমন অবস্থায় রাজস্থান রয়্যালস আর কী করতে পারত? বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানসহ দলে বিদেশিই এখন আছেন শুধু চারজন। মোস্তাফিজের দলটা তাই আইপিএলের অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে চিঠি লিখেছে, যাতে তাদের কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় ধার দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজ ছাড়া রাজস্থানের চোটমুক্ত, খেলার মতো বিদেশি খেলোয়াড় বলতে এখন আছেন শুধু জস বাটলার, ক্রিস মরিস ও ডেভিড মিলার।

আইপিএলে দলগুলো একাদশে চারজন বিদেশি খেলাতে পারে, সে ক্ষেত্রে পুরো দলেই শুধু চারজন বিদেশি থাকার মানে তো এই চার বিদেশির ওপর ধকল বেড়ে যাওয়া। এঁদের বদলে কাউকে নামানোর সুযোগ নেই, এঁদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানোর রাস্তাও বন্ধ। অথচ আইপিএলে এখনো গ্রুপ পর্বেই রাজস্থানের ৬০ শতাংশ ম্যাচ বাকি! সঞ্জু স্যামসনের অধীন দলটা গ্রুপ পর্বে নিজেদের ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৫টি খেলেছে।

তা ধারে বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়া তো রাজস্থানের দরকার ঠিকই, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কি তারা সেটা নিতে পারবে? আইপিএলের নিয়ম বলছে, সে সুবিধা আছে। আইপিএলে খেলোয়াড় ধারে নেওয়ার ‘উইন্ডো’ শুরু হয় মৌসুমে গ্রুপ পর্বের ২০ ম্যাচ পেরিয়ে যাওয়ার পরের দিন ভারতীয় সময় সকাল ৯টা থেকে। চলবে মৌসুমের ৫৬তম ম্যাচের পরদিন ভারতীয় সময় বিকেল পর্যন্ত।

এর মানে হচ্ছে, আজ ২৬ এপ্রিল সোমবার সকাল ৯টা থেকেই খেলোয়াড় ধারে নেওয়ার সে জানালা খুলে গেছে। কাল দিল্লি ক্যাপিট্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যে ম্যাচটি ছিল এবারের আইপিএলের ২০তম।

default-image

রাজস্থানের এই ধারে বিদেশি খেলোয়াড় চাওয়ার অনুরোধের ব্যাপারটি ভারতের ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের কাছে নিশ্চিত করেছেন আইপিএলের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহী। নাম গোপন রাখার স্বার্থে ‘দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক’ এক ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহীকে উদ্ধৃত করে ক্রিকবাজ লিখেছে, ‘দুদিন আগে তাদের (রাজস্থান) কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি। এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। দলের ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহীকে উদ্ধৃতি, ‘আমাদের উদ্বৃত্ত খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে তাদের দু-একজন খেলোয়াড় দিতে পারি কি না, সেটা বিবেচনা করে দেখব আমরা।’ রাজস্থানের সিংহভাগের মালিক মনোজ বাদালের কাছ থেকে প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানা যায়নি বলে লিখেছে ক্রিকবাজ।

বিজ্ঞাপন

ধারের ‘উইন্ডো’ খুলে তো গেল, কিন্তু কোন খেলোয়াড়েরা ধারে এক ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যেতে পারবেন? আইপিএলের নিয়ম বলে, ধারের মেয়াদের শুরুর সময় পর্যন্ত (মূল একাদশে বা কনকাশন—মাথায় আঘাত) বদলি হিসেবে দুই ম্যাচের কম খেলেছেন, এমন কাউকেই ধারে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পাঠানো যাবে। মৌসুমে একজন খেলোয়াড় শুধু একবারই ধারে কোথাও যেতে পারবেন, ধারের মেয়াদ হতে হবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।

default-image

তবে নিজের মূল দলের বিপক্ষে ধারে যাওয়া দলের হয়ে একজন খেলোয়াড় খেলতে পারবেন না। একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি অন্য কোনো নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এক মৌসুমে তিনজনের বেশি খেলোয়াড় ধারে দিতে পারবে না। এখানে এটাও জানানো জরুরি যে খেলোয়াড়ের ইচ্ছার বাইরে তাঁকে ধারে পাঠানো যাবে না।

এর বাইরেও ধারে খেলোয়াড় দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়মের কড়াকড়ি আছে। তবে টুর্নামেন্টটা করোনাকালে হচ্ছে বলে নানাবিধ কারণে খেলোয়াড়েরা আইপিএলের বাইরে ছিটকে পড়ছেন বলে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই) কিছু নিয়ম শিথিল করতে পারে বলে জানাচ্ছে ক্রিকবাজ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন