default-image
>বিপিএলে আজ চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের আন্দ্রে রাসেল। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান তুলেছে চিটাগং

এবার বিপিএল কী হ্যাটট্রিকের টুর্নামেন্ট?

প্রশ্নটি উঠতেই পারে। এক টুর্নামেন্টে তিন হ্যাটট্রিকের নজির যে বিপিএলে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। শুরুটা করেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস ইসলাম। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেন এই স্পিনার। পরশু খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে একই নজির গড়েন কুমিল্লার পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। আর আজ হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের আন্দ্রে রাসেল। চিটাগং ভাইকিংসের ইনিংসে শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে এই ক্যারিবীয়ান নিয়েছেন তিন উইকেট। অর্থাৎ তিন হ্যাটট্রিকে ‘হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক’ দেখল এবারের বিপিএল।

জিতলেই শেষ চার নিশ্চিত। এই হিসেব মেলানোর পরীক্ষায় আগে ব্যাটিংয়ে নেমে চিটাগং যে হ্যাটট্রিকের শিকার হবে তা জানত কে! যত বেশি সম্ভব রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে খুব বেশি সফল হতে পারেননি দলটির ব্যাটসম্যানদের। ৫ উইকেটে ১৭৪ রানে থেমেছে চিটাগংয়ের ইনিংস। মন্থর শুরু আর রাসেলের করা শেষ ওভারে তিন উইকেট না পড়লে রানটা আরও বাড়তে পারত।

চিটাগংয়ে ব্যাটসম্যান তো আর কম নেই! কিন্তু স্কোরবোর্ডে রানটা ইনিংসের শুরুতে একটু কম-ই উঠেছে। ওপেন করেছেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও ক্যামেরন ডেলপোর্টের মতো দুই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। অথচ প্রথম ৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ড রান ১ উইকেটে ৪৪। ষষ্ঠ ওভারে সুনীল নারাইনের স্পিনে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন শাহজাদ। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ভালো শুরু পেয়েছিলেন এই আফগান, কিন্তু থাকতে পারেননি। ফিরেছেন ১৫ বলে ২১ রান করে।

default-image

চিটাগংয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় দলে ঢোকা ইয়াসির আলী আগের কয়েকটি ম্যাচে বেশ ভালো খেললেও আজ পারেননি। তিন ফিফটিতে এই বিপিএলে নিজেকে চেনানো ইয়াসির ১৯ রানে আউট হলেও তাঁর ২০ বল খেলাটা ভক্তদের বেশি চোখে লাগতে পারে। তিনে নামা ইয়াসিরকে ১২তম ওভারে তুলে নিয়েছেন সেই নারাইন-ই। চিটাগংয়ের স্কোরবোর্ড তখনো খুব একটা পুষ্ট নয়। ওভার প্রতি গড়ে ৭.৮৩ রানে ২ উইকেটে ৯৪।

ডেলপোর্ট ও মুশফিক এখান থেকে টেনেছেন দলের ইনিংসকে। ৮ ওভার বাকি থাকতে মুশফিক যখন উইকেটে এলেন ডেলপোর্ট তখন এক প্রান্তে ৩৪ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত। দুজনেই হাত খুলেছেন খুব দ্রুতই। পরের ৯ বলে এবার বিপিএলে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ডেলপোর্ট। ৪৩ বলে ফিফটির পর দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই প্রোটিয়া। তবে অন্য প্রান্তে মুশফিক ছিলেন বেশি আক্রমণাত্নক। উইকেটে এসেই রানের খাতা খুলেছেন নারাইনকে চার মেরে। এরপর বাজে বলে তো কথাই নেই, ভালো বলকেও সীমানা ছাড়া করেছেন অবলীলায়। তাঁর ২৪ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি শেষ দিকে চিটাগংয়ের রান তোলার গতি বাড়িয়েছে।

শেষ ওভারে মুশফিক ফেরার পরের বলে আউট হন ডেলপোর্টও। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৭ বলে ৭১ রান করেন তিনি। পরের বলে শানাকাকেও তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের দেখা পান রাসেল। শেষ বলে সিকান্দার রাজা ছক্কা মেরে ১৭০ রানের কোটা পার করে দেন চিটাগংকে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন