‘হ্যাঁ, অতীতে আমরা চোক করেছি...’
২০১২ ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির আগে কলম্বোর সংবাদ সম্মেলনে এই ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের সাহসী উচ্চারণ। দক্ষিণ আফ্রিকার সব ক্রিকেটার যে শব্দটি থেকে পালাতে চান, সেটির মুখোমুখি হয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ইতিহাস বদলে দেওয়ার। তাতে লাভ হয়নি। এবার এখনো ওই ‘চোক’ করার পর্যায়ে যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গ্রুপ ম্যাচেই খেতে হলো বড়সড় এক ধাক্কা। ফেবারিট হয়ে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পরাজয়!
এবারও ডি ভিলিয়ার্সের সত্য প্রকাশে কুণ্ঠা নেই, ‘আমাদের জন্য এই হার বিব্রতকর। ১৩০ রানে হার মানে বড় ধাক্কা। এত বড় ব্যবধানে হার কখনোই কাম্য নয়। নিজেদের পারফরম্যান্সে আমাদের অনেক গর্ব। কিন্তু আজ গর্ব করার মতো কিছু করতে পারিনি। এই ক্ষত আমাদের যথেষ্টই পোড়াবে। এমন পারফরম্যান্সের পর আত্মবিশ্বাসেও বড় চোট লাগার কথা। আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্ব পারফরম্যান্স দিয়েই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার।’
ভারতের বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে প্রথম দুই ম্যাচই ছিল কঠিন পরীক্ষা। তাতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ‘লেটার মার্কস’ পেয়েই পাস। রোমাঞ্চও গোপন করেননি মহেন্দ্র সিং ধোনি, ‘টানা দুটি বড় ম্যাচ জয় সত্যিই তৃপ্তির, বিশেষ করে আমরা যেভাবে জিতলাম। দুটি ম্যাচেই ব্যাটিং দুর্দান্ত হয়েছে, বোলাররা সেটিতে সমর্থন জুগিয়েছে। ফিল্ডিংও ছিল ভালো। সব মিলিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।’
কাল ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার ছিলেন অশ্বিন। তবে টপ ও মিডল অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো নিয়েছেন দুই পেসার মোহাম্মদ শামি ও মোহিত শর্মা। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়েও ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ৩ পেসার। পেসারদের জন্য বরাদ্দ ছিল ভারত অধিনায়কের আলাদা প্রশংসা, ‘উইকেট থেকে হয়তো একটু সহায়তা মিলেছে। তবে ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে জায়গামতো বোলিং করায়। খুব দ্রুতই উইকেট পড়ে লেংথ বুঝে নিয়েছে ওরা। ব্যাটসম্যানদের কোনো সুযোগ দেয়নি।’
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘাটতি সব জায়গাতেই। এমনকি কাল ফিল্ডিংও ছিল না নিজেদের মতো। দলের এমন পারফরম্যান্সে হৃদয়ের ক্ষত লুকাননি ডি ভিলিয়ার্স, ‘পরের ম্যাচ জিততেই হবে আমাদের। তবে এ মুহূর্তে, আজ আমি রুমে ফিরে মন খারাপ করে বসে থাকতে চাই। কাল দেখব মন কেমন থাকে...!’
এই চোটই এখন যদি ঘা দিয়ে জাগায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে! এএফপি, রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন