বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে এমন হেলায় প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট খেলা বন্ধ হবে বলে আশা করছেন মিনহাজুল। প্রধান নির্বাচক চাইছেন, প্রতিটি বিভাগীয় দলের কার্যক্রম সারা বছর ধরে চালু রাখতে। তাই প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কোচ, ম্যানেজার, ট্রেনার, ফিজিও থাকবেন, যাঁদের অধীনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা সারা বছর অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। অনুশীলন উইকেটের চরিত্রও হতে হবে ভিন্ন ভিন্ন। সারা বছর থাকবে ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা।

বছরজুড়ে এমন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাঠামো উন্নয়নও দরকার। ঢাকার বাইরে সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজার, রাজশাহী ও বগুড়ায় অবকাঠামো আগে থেকেই আছে কিছুটা। বরিশাল, রংপুরে সে রকম অবকাঠামো এখনো নেই। তবে বিসিবির আশা, দ্রুত সেখানেও সারা বছর ক্রিকেট কার্যক্রম চালু রাখার মতো অবকাঠামো তৈরি হবে। মূলত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ক্রিকেট একাডেমির আদলেই গড়া হবে বিভাগীয় একাডেমি।

এ ব্যাপারে মিনহাজুল কাল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমাদের তো কোনো কাঠামো কখনোই ছিল না। এভাবে চললে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেট অগ্রসর হবে না। তাই এসব কাঠামোগত পরিবর্তন আনতেই হতো। প্রথম শ্রেণির সম্পূর্ণ কাঠামোটা তাদের বিভাগেই থাকবে। তাদের যেন ঢাকায় এসে অনুশীলন করতে না হয়। তাদের যেন মিরপুরে এসে চোট পুনর্বাসন, অনুশীলন করতে না হয়। অবকাঠামো উন্নতির জন্যই আমাদের এই পরিকল্পনা।’

প্রথম শ্রেণির দলকে শক্তিশালী রাখতে প্রতিটি বিভাগে অনূর্ধ্ব-২৩ দল গড়ার কথাও জানালেন মিনহাজুল। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের পর কোনো ধাপ না থাকায় ক্রিকেটারদের একটি বিরাট অংশ হারিয়ে যায়। বিভাগীয় ক্রিকেটে তাই অনূর্ধ্ব-২৩ ধাপ যোগ করার পরিকল্পনা মিনহাজুলের। সে জন্য বিভাগের নিযুক্ত কোচ, ম্যানেজার মিলে বিভাগের বয়সভিত্তিক দল থেকে ক্রিকেটার বাছাই করবেন।

যদি প্রথম শ্রেণির দলে কোনো ক্রিকেটার দরকার হয়, তাহলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্রিকেটাররা সিনিয়র দলে সুযোগ পাবেন। জাতীয় লিগের সময় ৮টি প্রথম শ্রেণির দলের অনূর্ধ্ব-২৩ দলও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলবে। মূল দল যখন খেলবে জাতীয় লিগের চার দিনের ম্যাচ, একই সময় অনূর্ধ্ব-২৩ দল ভিন্ন ভেন্যুতে খেলবে তিন দিনের ম্যাচ।

মিনহাজুল জানালেন, তাঁর এই পুরো প্রক্রিয়াটাই ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে গড়া, ‘অনূর্ধ্ব-২৩ দলটা গড়া হবে প্রথম শ্রেণির দলগুলোর দ্বিতীয় সারির দল হিসেবে। তিন দিনের ম্যাচ খেলবে ওরা পাশাপাশি। সেখান থেকে সেরা পারফর্ম করা ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণিতে উঠে আসতে পারবে। মূল দলের কেউ খারাপ করলে তাদের অবনমন হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় একাদশের মধ্যে যেন একটা ভারসাম্য থাকে। আর অনূর্ধ্ব-২৩-এর সঙ্গে দু-তিনজন অভিজ্ঞকেও রাখা যাবে। যেমনটা হয় ইংলিশ কাউন্টিতে, সেটা এখানেও করতে চাচ্ছি।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন