বিশাল এক দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড গিয়েছে পাকিস্তান।
বিশাল এক দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড গিয়েছে পাকিস্তান।ছবি: টুইটার

নিউজিল্যান্ডে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। নিজেরাই নিয়ম না মেনে নিউজিল্যান্ড সরকারের শ্যেনদৃষ্টির নিচে পড়েছে।

করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কঠোর ও সফলতম দেশগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড। করোনা প্রতিরোধে কী কী নিয়ম মানতে হবে, সেটি নিউজিল্যান্ডে নামার পরই পইপই বলে দেওয়া হয়েছিল বাবর আজমদের। কিন্তু সেটি মানেননি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে গতকাল খবর আসে, পাকিস্তানের ছয়জন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত। নিউজিল্যান্ড সরকার হোটেলের গোপন ক্যামেরায় পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নিয়ম না মানার এই প্রবণতা দেখে হুমকি দেয়, এভাবে নিয়ম না মানতে থাকলে পাকিস্তানিদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে আজ পাকিস্তানের আরও একজনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। এত আপদ-বিপদের মধ্যে নিজেদের খেলোয়াড়দের এভাবে ‘পাইকারি হারে’ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তদন্ত করে একটা সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। সেটি এই, নিউজিল্যান্ড যাওয়ার পথে বিমানের সস্তা টিকিট কেনার খেসারত দিচ্ছে পাকিস্তান!

বিমানের টিকিটের দামের সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্পর্ক কী? নিউজিল্যান্ডে সিরিজ খেলতে শুধু পাকিস্তান জাতীয় দলই নয়, পাকিস্তানের ‘এ’ দল—যেটিকে এখন পাকিস্তান শাহিনস নামে ডাকা হয়, তারাও একসঙ্গে ধরেছে নিউজিল্যান্ডের বিমান। জাতীয় ও এ দলের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা—সব মিলিয়ে ৫৩ জনের বিশাল বহর নিয়ে নিউজিল্যান্ডে গেছে পাকিস্তান। কিন্তু এত ক্রিকেটার নিতে আলাদা বিমান ভাড়া করেনি, বরং সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানে অন্য যাত্রীদের সঙ্গেই গেছেন বাবর আজমরা।

বিমানে আসনবিন্যাসে খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরিতে ভেদাভেদ ছিল বলে জানাচ্ছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। ‘বিজনেস ক্লাসে’র টিকিট না পাওয়ায় শাহিনসদের কয়েকজন খেলোয়াড় গেছেন তুলনামূলক সস্তা বিজনেস ক্লাসে করে। পাকিস্তানের ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকেট পাকিস্তান লিখেছে, সেটিই দলে করোনা ছড়ানোর একটা কারণ হতে পারে। নাম উল্লেখ না করে দল–সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ক্রিকেট পাকিস্তান লিখেছে, ‘সূত্র বিশ্বাস করে, শাহিনস দলের দুজন খেলোয়াড়, যাঁরা করোনা পজিটিভ হয়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। কারণ, তাঁরা (শাহিনসের খেলোয়াড়েরা) ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বসেছিলেন, যেটা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।’

default-image

পাকিস্তান থেকে যাওয়ার আগে নিয়ম মেনে সবারই করোনা পরীক্ষা হয়েছিল। তখন সবারই নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ড নামার পর পরীক্ষায় গত দুদিনে পাকিস্তান দলের সাতজনের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া গেল। সবার এখন ন্যূনতম ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। এই সাতজন ছাড়া কাল সফরের তৃতীয় দিনের সোয়াব টেস্টের ফলে সবারই নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তবে নিউজিল্যান্ডে হোটেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিয়ম না মানার ঘটনাও বেশ সমালোচিত হয়েছে। সফরের প্রথম তিন দিন হোটেলে নিজ কক্ষে আইসোলেশনে থাকার কথা থাকলেও তাঁদের কক্ষের বাইরে আড্ডা দিতে, খাবার ভাগাভাগি করতে দেখা গেছে। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন পর করোনা পরীক্ষায় সবার নেগেটিভ এলে খেলোয়াড়েরা ছোট ছোট গ্রুপে অনুশীলনে নামার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে দলের কয়েকজন খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এখন সেই সুবিধা পাচ্ছে না পাকিস্তান।

এর মধ্যে গতকালই খবর আসে, হোটেলে করোনার নিয়ম ভাঙায় পাকিস্তানকে পরশু কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এরপর খেলোয়াড়েরা আর নিয়ম ভাঙলে সফর বাতিল করে তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ড. অ্যাশলি ব্লুমফিল্ড। এর আগে গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা নিউজিল্যান্ড সফরে এসে করোনা প্রতিরোধের নিয়ম ভাঙায় তাঁদেরও অনুশীলন–সুবিধা সাময়িকভাবে কেড়ে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন
default-image

পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা কী কী নিয়ম ভেঙেছেন, সেটিও পরিষ্কার করে বলেছিলেন ব্লুমফিল্ড, ‘প্রথম টেস্টের ফল আসার আগপর্যন্ত প্রথম তিন দিনে খেলোয়াড়দের নিজেদের কক্ষে থাকার নিয়ম থাকলেও সেটি না করে কক্ষের বাইরে আড্ডা দিয়েছেন খেলোয়াড়েরা, খাবার ভাগাভাগি করেছেন, মাস্কও পরেননি।’ তবে বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের হুমকির পর শুক্রবার খেলোয়াড়দের নিয়ম মানার ক্ষেত্রে উন্নতি এসেছে বলেও জানান ব্লুমফিল্ড।

নিউজিল্যান্ডের হুমকির পর পরশু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ক্রিকেটারদের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান, ‘ছেলেরা, আমি নিউজিল্যান্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, তিন-চারবার নিয়ম ভাঙা হয়েছে। তারা এসব ব্যাপারে কোনো অনিয়ম মানে না এবং আমাদের বলেছে, শেষবারের মতো সতর্ক করেছে তারা। আমরা জানি এটা খুব কঠিন সময়, ইংল্যান্ডেও এভাবে থাকতে হয়েছিল। এটা সহজ নয়। কিন্তু এটা জাতির মান-সম্মানের ব্যাপার। এ ১৪ দিন নিয়ম মেনে চলো। এরপর রেস্তোরাঁয় যাও বা স্বাধীনভাবে ঘুরো। ওরা পরিষ্কার বলে দিয়েছে, আর একবার নিয়ম ভাঙলেই ওরা আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেবে।’

মন্তব্য করুন