default-image

সৌভাগ্যবান তো বটেই, নিজেকে এক দিক দিয়ে অনেকের চেয়ে অভিজ্ঞও মনে করেন ফারুক আহমেদ। বিশ্বকাপের দল নির্বাচন করার সুযোগ যেখানে অনেক নির্বাচকের কপালে একবারও জোটে না, সেখানে তিনি কি না কাজটা করছেন দ্বিতীয়বারের মতো! ২০০৭ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় বিসিবির প্রধান নির্বাচক ছিলেন ফারুক, এবার ২০১৫ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময়ও তাই।
তবে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল এবার বাজারে অনেক। পত্রপত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সাবেক ক্রিকেটারের বিশ্বকাপ দল ছাপা হচ্ছে। সেসব দল নিয়ে তুমুল আলোচনাও। কার দলে কে আছেন, কার দল থেকে কে বাদ পড়লেন। নির্বাচকেরা আসল দল ঘোষণার আগেই এসব সম্ভাব্য দল চিন্তার নতুন নতুন জানালা খুলে দিচ্ছে। যদিও ফারুক আহমেদের দাবি, সাবেকদের এসব দল তাঁদের চিন্তাভাবনায় কোনো প্রভাবই বিস্তার করছে না। বেশির ভাগ দল নাকি তিনি দেখেনওনি। প্রধান নির্বাচক বরং ব্যাপারটাকে একটু অন্যভাবেই নিচ্ছেন, ‘এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বলে সবাই কতটা রোমাঞ্চিত। মানুষের আগ্রহ আছে। কে কী দল দিচ্ছে সবাই দেখছে। তবে আমাদের দলটা আমাদের যে চিন্তাভাবনা আছে, তার মধ্যেই করার চেষ্টা করব।’
সেই চিন্তাভাবনা সম্পর্কে একটা ধারণাও দিলেন, ‘দল বানানোর সময় আমরা চিন্তা করি কে কোথায় খেলবে। এটা খুব জরুরি। আপনি কয়েকজন সেরা ক্রিকেটারের নাম লিখে দিলেন। কিন্তু কে কোন পজিশনে আসতে পারে, কাকে দিয়ে কী করাতে পারি, কার রিপ্লেসমেন্ট কে—আমার মনে হয় না এসব সবাই চিন্তা করবে। এটা অবশ্য ওনাদের কাজও না। এটা নির্বাচক কমিটিরই কাজ।’
এমনিতে বিশ্বকাপের দল আর সাধারণ একটা সিরিজের দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য তিনি দেখেন না। ফারুকের ভাষায়, ‘এটাতে নতুন কিছু নেই।’ বিশ্বকাপের দল তাঁর কাছে শুধু একটা দিক দিয়েই আলাদা, ‘বিশ্বকাপ দল করার একধরনের চাপ আছে। মানুষের চাপ, গণমাধ্যমের চাপ...অনেক দিক থেকে চাপ। সাধারণ সিরিজের জন্য দল করার সময় এত চাপ থাকে না।’ ব্যাপারটাকে আরেকটু ব্যাখ্যা করে পরে বললেন, ‘এটা বিশ্বকাপ, চার বছর পর পর আসে। তবে যখনই আসে, সারা বিশ্বের দৃষ্টি এটির ওপর থাকে। এটা একটা শোকেসের মতো। বাংলাদেশ দল কতটুকু উন্নতি করল, সেটা একবারে পুরো দুনিয়াকে জানিয়ে দেওয়ার সুযোগ।’
২০০৭ বিশ্বকাপে সেটা খুব ভালোভাবেই জানাতে পেরেছিল ফারুক আহমেদের নির্বাচিত দল। প্রথম ম্যাচেই ভারতকে হারানো এবং সে ম্যাচে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের ফিফটি বিশ্বকাপের দলে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তকে দিয়েছিল সার্থকতা। আট বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করে ফারুক বললেন, ‘তখন বিকল্প খুব বেশি ছিল না, যে কারণে কাজটা অনেক কঠিন ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো অতটা ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। সে জন্য বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বেশি নজর দিতে হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ বা ১৯ পর্যায়ে যে ছেলেগুলো তিন-চার বছর ধরে ভালো খেলছিল, তাদের নিয়ে ভাবতে হয়েছে। আসলে একটু বাজি ধরার মতোই ছিল ব্যাপারটা।’ আর এখন? ‘এখন ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। সাকিব, তামিম, মুশফিকরা ছয়-সাত বছর ধরে এই অঙ্গনে আছে। ওরা প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়। অন্য যারা আছে, তারাও ঘরোয়া এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ের তুলনায় পরিণত। এখন তাই চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন’—বলছিলেন প্রধান নির্বাচক।
২০০৭ বিশ্বকাপে সবাই যেটাকে ‘চমক’ বলেছিল, ফারুক সেটাকে বলছেন ‘ঝুঁকি’, ‘চমকের চেয়ে আমি বলব, যে ঝুঁকিটা নেব, সেটা যেন হিসাব-নিকাশ করে নেওয়া হয়। একটা ছেলেকে সুযোগ দেওয়ার পর তার কাছ থেকে আমি পারফরম্যান্স যেমন চাইব, সে যেন হকচকিয়ে না যায় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে তিন-চারটা ছেলেকে দেখে মনে হয়েছিল এরা এই পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত।’ তাদের মধ্যে তিনজন প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করায় ফারুক মনে করেন, তাঁদের চিন্তাটা সঠিক ছিল। সঙ্গে অবশ্য এটাও জানিয়ে দিলেন, ‘এর মানে এই না যে, সব সময় আমি পুরোপুরি সফল হব। তবে যত বেশি চিন্তা করে বা যুক্তি খাটিয়ে আপনি দলটা বানাবেন, সফল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।’
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ দিন ৭ জানুয়ারি। ফারুক আহমেদের ইচ্ছা, তার দু-এক দিন আগেই সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করবেন দল। সেটার আগ পর্যন্ত নির্বাচকদের টেবিলে চিন্তা আর যুক্তির তর্ক চলবেই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন