বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসরে যাওয়ার পর থেকেই ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক কোহলি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন ২০১৭ সালে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিত এবং ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কয়েক মাস ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে কোহলির। কিছুদিনের মধ্যেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তটা কোহলি নিজেই জানিয়ে দেবেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘বিরাট নিজেই ঘোষণাটা দেবে। ওর কাছে মনে হচ্ছে ওর ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত। আবার সেটাই হওয়ার চেষ্টা করা উচিত যেটা ও সব সময় ছিল— বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান!’

ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্বে দারুণ কিছু সাফল্য আছে কোহলির, ৬৫ ম্যাচে ৩৮ জয় নিয়ে টেস্টে ভারতের সফলতম অধিনায়কই তিনি। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে কোহলির নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর অধীনে ভারত এখনো বৈশ্বিক কোনো ট্রফি জেতেনি। ২০১৭ সালে ধোনির কাছ থেকে কোহলি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে তাঁর অধীনে ভারত শুধু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালেই উঠেছিল। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাদ পড়তে হয় সেমিফাইনাল থেকেই।

default-image

কিন্তু এখন এসে অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন কেন তিনি? আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঠিকই, কিন্তু এরপর আগামী বছর আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, ২০২৩-এ আছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, আগামী দুই বছরের দুই বিশ্বকাপের জন্য এখনই দায়িত্বটা রোহিতের হাতে ছেড়ে দিতে চান কোহলি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপের পর কোহলি ও রোহিতের মধ্যে বিভেদের গুঞ্জন বেশ চাউর হয়েছিল। কিন্তু টাইমস অব ইন্ডিয়া গত মার্চেই লিখেছিল, করোনাকালে লকডাউনের সময়ে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা আরও গুছিয়ে নিয়েছেন ভারতের ক্রিকেটের সময়ের দুই বড় তারকা। কিন্তু এখন আবার কোহলির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া এবং রোহিতের দায়িত্ব নেওয়া অনেক গুঞ্জনের জন্ম দিতে পারে, এই শঙ্কার কথাও ভেবে রেখেছে বিসিসিআই।

ভারতের বোর্ডের সূত্রকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘তিন সংস্করণের অধিনায়কত্ব বিরাটের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে। আমরা বুঝতে পারছি (বিরাট দায়িত্ব ছাড়লে) তিলকে তাল বানিয়ে গুজব ছড়ানো লোকেরা কাজে নেমে পড়বে, এসব ঘটনাতে নিজেদের মতো করে রঙ চড়াবে। এ কারণেই বিসিসিআই আগে থেকেই এসব পরিকল্পনা করে রাখছে। দিন শেষে বড় ব্যাপার হচ্ছে, বিরাট আর রোহিত এ ব্যাপারে একইভাবে ভাবছে।’

default-image

রোহিত শর্মা এর আগে কোহলির অনুপস্থিতিতে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়ে দুটি শিরোপাও জিতিয়েছেন ভারতকে। দুটিই ২০১৮ সালে—আমিরাতের এশিয়া কাপ ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফি, দুবারই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশ শেষ বলে হেরে গিয়েছিল ভারতের কাছে।

ভারতীয় দলে এই সাফল্যের বাইরে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে রোহিতের অধিনায়কত্বের রেকর্ড তো চোখধাঁধানো! মুম্বাইকে পাঁচবার শিরোপা জিতিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে সফলতম অধিনায়কই তিনিই। অন্যদিকে কোহলি এখনো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলের একটি শিরোপাও জেতেননি।

ব্যাট হাতে এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছেন ৩৪ বছর বয়সী রোহিত। আত্মবিশ্বাসটা তাঁর অধিনায়কত্বেও সাহায্য করবে বলে আশা ভারতীয় বোর্ডের, এমনটাই জানাচ্ছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। বিসিসিআইয়ের ওই সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, রোহিত ও কোহলি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলে নিজেদের ভূমিকা কী রকম হবে, এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। কোহলি টেস্ট দলের অধিনায়ক থাকায় রোহিতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়া বিসিসিআইয়ের চোখে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন।’

]‘সাদা বলের ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক হতে ওর (রোহিত) জন্য যদি আদর্শ কোনো সময় থেকে থাকে, সেটি এখন। ভারতীয় দলের জন্যও এ ক্ষেত্রে দুই দিক থেকেই ভালো হবে কারণ দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে বোঝাপড়াটা এখন দারুণ’— টাইমস অব ইন্ডিয়াতে বিসিসিআইয়ের সূত্রের উদ্ধৃতি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন