বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

নিঃসন্দেহে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। ফলে, উপলক্ষটা যদি হয় কোনো ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ভারতের মানুষের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত, যার প্রভাব পড়ে ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়। ভক্ত-সমর্থকেরা জার্সি থেকে শুরু করে আরও নানা সরঞ্জামাদি কেনার জন্য ফরমাশ দেন, বন্ধুরা মিলে রেস্টুরেন্টে বা পানশালায় বসেন একসঙ্গে ভারতের খেলা উপভোগ করার জন্য। দেশের বেশির ভাগ স্থানে লাগে উৎসবের ছোঁয়া। বিভিন্ন ব্র্যান্ডও তখন ক্রিকেটে আরও বিনিয়োগ করতে থাকে, কারণ অগণিত মানুষ এই খেলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।


কিন্তু যখন কারও পছন্দের দল হারতে থাকে, তখন কী হয়? সমর্থকেরা হতাশ হন, পছন্দের দল ম্যাচ জিতলে যে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করার কথা, সেটা আর করা হয় না। রেস্টুরেন্টগুলোও আস্তে আস্তে খালি হতে থাকে। যেখানে ভারতের মতো ক্রিকেটপাগল জাতির কাছে বিশ্বকাপে এক ম্যাচ হারাই অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে ভারত এবার হেরে গেছে পরপর দুই ম্যাচ।

default-image

২৪ অক্টোবর ছিল রোববার, ভারতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। সেদিন পাকিস্তানের কাছে ভারতের শোচনীয় পরাজয় দেখে পরদিন নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন অনেক ভারতীয়। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে আবার হেরে বসায় ভারতের সমর্থকেরা এই বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁদের সমস্ত আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন।


ম্যাডিসন মিডিয়া গ্রুপের অংশীদার এবং প্রধান নির্বাহী বিক্রম সাখুজা ভারতের এই হারের কারণে টেলিভিশনগুলোর রেটিং কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ‘ক্রিকেট ভারতের জনগণের কাছে নেশার মতো। বিশ্বকাপে দলের এমন বিপর্যয় চ্যানেলগুলোর ওপর চরম প্রভাব ফেলবে। যখন ভারত জিততে থাকে, তখন চ্যানেলগুলোর রেটিং বেড়ে যায় এবং হারলে কমে যায়। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বে চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে জয় পায় ভারত। ফলে তখন পুরুষ দর্শকেরা বিভিন্ন চ্যানেলে সম্প্রচারিত সুপার টেনের খেলাগুলোকে ৪.৪ রেটিং দিয়েছিল। কিন্তু এবার যেহেতু ভারতের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি, ফলে এই বিশ্বকাপের রেটিং ৩ হলেও আমি মোটেও অবাক হব না। যেসব কোম্পানি খেলা উপলক্ষে চ্যানেলগুলোয় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, তাদের জন্য ভারতের এমন হার বড়সড় ধাক্কার মতোই। কিন্তু কোনোভাবে ভারত যদি সেমিফাইনালে যেতে পারে, তখন আবার রেটিং বেড়ে যাবে। এ কারণে সমর্থক ও বিজ্ঞাপনদাতারা এখন সেই প্রার্থনাই করছেন।’

default-image

গো-জুপ (gozoop) কোম্পানির মিডিয়া পরিচালক সুশীল অনন্তরমনের মতে এবার বিজ্ঞাপনদাতারা যত খরচ করেছেন, তত পরিমাণ ব্যবসা করতে পারবেন না, ‘যেসব বিজ্ঞাপনদাতা টুর্নামেন্টের শুরুতেই টাইটেল স্পনসর থেকে শুরু করে আরও নানা খাতে এককালীন যে টাকা খরচ করেছেন, তাঁরা অবশ্যই ভারতের এমন হারের জন্য ভুক্তভোগী হবেন। কারণ, ভারত সেমিফাইনালে না গেলে অনেক মানুষ আর খেলা দেখবেন না। এ কারণে তাঁরা তাঁদের পণ্য যে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে ভেবেছিলেন, সে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না এবং আশানুরূপ ব্যবসাও হবে না। কিন্তু ভারত যদি অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়ে সেমিফাইনালে চলে যায়, তখন বিজ্ঞাপনদাতাদের চিন্তার কোনো কারণ থাকবে না।’


এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতীয়রা অন্যান্যবারের তুলনায় একটু বেশিই উত্তেজিত ছিলেন। এই কারণে ব্র্যান্ডগুলোও টেলিভিশন এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের পেছনে টাকা খরচ করতে কার্পণ্য করেননি। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্টার স্পোর্টস বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় প্রায় ১ হাজার কোটি রুপি আয় করেছে। বাইজুস, ড্রিম ইলেভেন, কোকাকোলা, বিমল, রিলায়েন্স ট্রেন্ডজ, আপস্টক্স, ক্রেড ও স্যামসাংয়ের মতো বড় বড় কোম্পানি বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের জন্য স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ডিজনিপ্লাস হটস্টারে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে ড্রিম ইলেভেন, অপো, মারুতি, ফোনপে ইত্যাদি কোম্পানি। ভারত সুপার টুয়েলভ থেকে বাদ পড়লে তারা প্রত্যেকেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন