default-image

যদি এমন হতো যে, দুই দলের শতাব্দীপ্রাচীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস নেই এবং এটি বিশ্বকাপের ম্যাচ নয়। তা হলে এটি নিয়ে একটুও হইচই হতো কি না সন্দেহ। যে ম্যাচের ফল আগাম ঘোষণা করে দেওয়া যায়, সেটি নিয়ে কার আগ্রহ থাকে!
অস্ট্রেলিয়ায় খেলা সর্বশেষ ১৫ ম্যাচের ১৩টিতেই হেরেছে ইংল্যান্ড। কদিন আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিনবার। তৃতীয়টি ছিল ফাইনাল। যাতে মিচেল জনসনের প্রথম স্পেলেই ঝোড়ো বাতাসে শুকনো পাতার মতো উড়ে গেছে ইংল্যান্ড। এমসিজিতে আজ অস্ট্রেলিয়াই তো জিতবে। আসুন, আমরা বরং ব্যবধানটা নিয়ে আলোচনা করি।
না, ব্যাপারটা এত সরল নয়। হয়তো অস্ট্রেলিয়াই জিতবে। আবার না-ও জিততে পারে। দুই রকম সম্ভাবনার কথা শুধু ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তার কারণে নয়। আসল কারণ দুটি শুরুতেই বলা হয়েছে। এই দুই দেশের সুদীর্ঘ ক্রিকেট-দ্বৈরথের ইতিহাস, তার চেয়েও বড় কথা এটি বিশ্বকাপ। আগে কী হয়েছে না হয়েছে সবই এখানে অর্থহীন।
এউইন মরগান এমনই দাবি করবেন স্বাভাবিক। এমসিজির মহারণে নামার আগে ইংল্যান্ড অধিনায়কের প্রথম কাজই তো অতীত ভুলে দলকে সামনে তাকাতে উজ্জীবিত করা। অথচ মরগান নন, কথাটা বলছেন কি না শেন ওয়ার্ন! ‘বিশ্বকাপে আগের ম্যাচগুলো বা ইতিহাসের কোনো মূল্য আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশ্বকাপে চিন্তাভাবনাটাই বদলে যায়। মনে ভয় কাজ করে, “যদি আমরা ওদের কাছে হেরে যাই”!’
কাল সকালে ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আকর্ষণের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলো কিংবদন্তি লেগ স্পিনারকে। সেখানে ওয়ার্ন যা বললেন, ঘণ্টা দুয়েক পর জর্জ বেইলির মুখেও তার প্রতিধ্বনি। গত কিছুদিনের আবহের কারণে ঠিক শুনছি কি না ধন্দে পড়তে হলো সাংবাদিকদের।

এই ম্যাচকে ঘিরে দুদলের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে অনেক দিন থেকেই। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রতিটি ম্যাচের আগে-পরে দুদলের খেলোয়াড়েরা যা-ই বলেছেন, মাথায় ছিল বিশ্বকাপের এই ম্যাচ। ফাইনালের পর জশ হ্যাজলউড যেমন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয় না ওরা জানে আমাদের কীভাবে হারানো যায়, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায়।’ জনসনের তোপে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পরও মরগান সংবাদ সম্মেলনে বিস্ময় ছড়িয়ে বলেছেন, জনসনের বোলিং তেমন কিছুই ছিল না। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা খারাপ খেলেছে বলেই...। অমন গোহারা হারার পরও স্টুয়ার্ট ব্রড অবলীলায় বলেছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াই বেশি চাপে থাকবে। মাঠের বাইরেও খেলা চলছে। ইংল্যান্ড দলকে ব্যঙ্গ করে পোস্টার পড়েছে মেলবোর্নের দেয়ালে।

গত পরশু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সেটির রেশ। অস্ট্রেলিয়া দলের পেছনের সারিতেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। অনুষ্ঠানে সবার আগে হাজির এই দুই দল। তুমুল আড্ডার অফুরন্ত সময়। কিন্তু তা হলো নিজেদের মধ্যেই। দুদলের খেলোয়াড়দের একবার ‘হাই-হ্যালো’ করতেও দেখা গেল না। অথচ কাল সংবাদ সম্মেলনে জর্জ বেইলি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক আধিপত্যকে বড় করে দেখানোর বদলে কি না বলে দিলেন, বিশ্বকাপে ওসবে কিছু আসে যায় না!

আজ ব্যাটিংয়ে কেমন করেন, তাতেও নাকি কিছুই আসে যায় না! শুধু এই কথাটা তুলে দিলে ভুল বোঝার অবকাশ থাকে। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ম্যাচে অবশ্যই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চান। বেইলি কথাটা বললেন ‘কী করলে পরের ম্যাচে দলে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করেন’ প্রশ্নের জবাবে। মাইকেল ক্লার্ক নিশ্চিতভাবেই ফিরছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে। ক্লার্ক ফিরলে তাঁকেই বাদ পড়তে হবে বলে সাধারণ ধারণাটাকে সহাস্যে সমর্থন করলেন বেইলি, ‘এটা তো অজানা কিছু নয়। যা হওয়ার হবে।’

শুধুই নেতৃত্বগুণের জন্য দলে আছেন, ২০১৩ সালে রানের বন্যা বইয়ে দিয়ে এই ধারণা মুছে দিয়েছিলেন। ২২টি ওয়ানডেতে ৬৪.৫৯ গড়ে ১০৯৮ রান। যেটি এনে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। সেই বেইলিই ২০১৪ সালে একেবারে বিবর্ণ। ২৫.৩৭ গড়ের চেয়েও বেশি দৃষ্টিকটু ৭৪ স্ট্রাইক রেট। গত ৮টি ওয়ানডেতে ২৫ পেরোতে পারেননি। দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। উঠেছেও। বেইলি অবশ্য মনে করিয়ে দিলেন, তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ার বিশ্বের অন্য যে কারও সঙ্গে তুলনা করার মতোই। ভুল দাবি নয়। ৫৬ ম্যাচে ৪১.৭৪ গড়ে ১৯৬২ রান, স্ট্রাইক রেট ৮৬.৬৬। সমান ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এর চেয়ে বেশি রান করেছেন মাত্র চারজন-গ্রেগ চ্যাপেল, ম্যাথু হেইডেন, ডেভিড বুন ও রিকি পন্টিং। গত ১৩ মাসের দুরবস্থার পরও শীর্ষে থাকা গ্রেগ চ্যাপেল বেইলির চেয়ে মাত্র ৭১ রান এগিয়ে।

ক্লার্ক ফিরলে বাদ পড়াটা ভবিতব্য মেনে নিয়েছেন বলে বেইলির ওপর বরং প্রতিপক্ষ অধিনায়কের চেয়ে চাপ কম। এউইন মরগান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে টস করতে নামার কথা দুই মাস আগেও ভাবেননি। এটাও ভাবেননি যে, সেঞ্চুরি দিয়ে অধিনায়কত্বে ফেরার কয়েক দিন পরই তাঁর ফর্ম এমন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে। পরের চার ওয়ানডের তিন ইনিংসে দুটিতে শূন্য, অন্যটিতে ২। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও শূন্য রানে আউট হওয়ার পর জিওফ বয়কটের মতো অনেকে ভালো বোলিংয়ের বিপক্ষে মরগানের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেলেছেন।

ম্যাচের আগে দুই অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকল দর্শক। ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকের রেকর্ড এই এমসিজিরই। গত বছর ভারতের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে ৯২,১১২ দর্শকের সেই রেকর্ড আজ অক্ষুণ্নই থাকবে। কারণ এই ম্যাচে ৯০ হাজারের বেশি দর্শককে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ১৯৯২ ফাইনালে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮৭,৭৮৯ দর্শকের রেকর্ডটি কাঁপছে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায়!

মুখোমুখিঅস্ট্রেলিয়াইংল্যান্ড

                 ম্যাচ  অস্ট্রেলিয়া  ইংল্যান্ড   টাই   পরিত্যাক্ত

মোট          ১৩০        ৭৬            ৪৯         ২            ৩

অস্ট্রেলিয়ায় ৬৫         ৪৩            ২১         ০            ১ 

বিশ্বকাপে    ৬           ৪             ২          ০            ০

ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে খেলেছিল এই দুই দল। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৫ উইকেটে, তবে ৮২ করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ইংলিশ ওপেনার জন এডরিচ।

অস্ট্রেলিয়াতে দুদলের একমাত্র বিশ্বকাপ লড়াইয়ে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৮ উইকেটে। ১৯৯২ সালে সিডনির ওই ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ফিফটি করেছিলেন ইয়ান বোথাম।

এমসিজিতে সর্বশেষ ১০ ম্যাচের ৮টিতেই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

এমসিজিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ ম্যাচের ১৫টিই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। একটি ভেন্যুতে কোনো এক দলের বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি জয় আছে অস্ট্রেলিয়ার আর একটিই, সিডনিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে ১৭ বার।

১৬৭*

সবচেয়ে বড় ইনিংস রবিন স্মিথের

৬৫

সবচেয়ে বেশি উইকেটে ব্রেট লির

১৫৯৮

সবচেয়ে বেশি রান রিকি পন্টিংয়ের

৭/২০

সেরা বোলিং অ্যান্ডি বিকেলের

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন