default-image
>প্রিমিয়ার লিগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ীদের নিয়ে গঠিত শাইনপুকুর হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডানকে

করোনাভাইরাস ঘরোয়া ক্রিকেটেও থাবা বসাল। ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এক রাউন্ড হতেই স্থগিত হয়ে গেল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ক্রিকেটাররাও পেয়ে গেছেন অপ্রত্যাশিত এক ছুটি। ছুটির আগেই অবশ্য একটি জয়ের স্বাদ নিয়ে ঘরে ফিরছে বিশ্বকাপজয়ীরা। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই খেলছেন শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবে। আজ প্রিমিয়ার লিগে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে শাইন পুকুর।

দিনের অন্য দুটি ম্যাচে। তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৯ রানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহর গাজী গ্রুপকে। আর মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজাদের শেখ জামাল ৫৫ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজদের খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতিকে।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল মোহামেডান। দলটির টপ ও মিডল অর্ডার দেখিয়েছে কীভাবে সুযোগ নষ্ট করতে হয়। ইনিংস গড়ার কঠিন কাজটা সবাই সামলে নিয়েছেন কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ। পুরো ইনিংসেই দলটি ৫–এর ওপর রান রেট ধরে রেখেছে। কিন্তু কেউ এক প্রান্ত ধরে রাখতে পারেননি বলে ঝড় তোলা হয়নি অন্য প্রান্তে। সর্বোচ্চ স্কোর পাঁচে নামা মাহমুদুল হাসানের (৫৮)। তাঁর আগে নামা চারজনের স্কোর ২৯, ৪২, ৪৬ ও ২৫। সাতে নেমে শুভাগত হোম ২৫ বলে ৩১ রান করে দলকে ২৫৭ রান এনে দিয়েছিলেন।

জবাবে যুব বিশ্বকাপে চমকে দেওয়া তানজিদ হাসান দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছেন। টানা দুটি পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছেন তামিম। ৭৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তানজিদের বিদায়ের পর দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন রবিউল ইসলাম ও তৌহিদ হৃদয়। রবিউলের ৫১ বলে ৫৪ রানের ইনিংস ম্যাচটা একদম হাতের নাগালে এনে দিচ্ছিল শাইন পুকুরকে। দলের ১৬০ রানে যখন রবিউল ফিরছেন, ১৮ ওভারে দলের দরকার ৯৮ রান। তৌহিদ হৃদয় একটু ধীরে এগোনোয় ম্যাচটা শেষ ওভারে গড়িয়েছে। ৭৯ বলে ৫০ করা তৌহিদের পর ৪৭ বলে ৪৯ রান করা মাহিদুল অঙ্কনও আউট হয়েছেন ৪৯তম ওভারে। বাকি ১১ রান নিতে অবশ্য ৫ বল লেগেছে সাজ্জাদুল হক ও রবিউল হকের।

মিরপুরে প্রাইমের দুই ওপেনার ব্যর্থ হয়েছেন দলকে ভালো শুরু এনে দিতে। তামিম ইকবাল (১৯) ও এনামুল (০) ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছেন রনি তালুকদার। তাঁর ৭৯ রানের পর নাহিদুল (৫৩*) ও নাঈম হাসানের (৪৬*) দুটো দ্রুতগতির ইনিংস প্রাইমকে ২৫১ রান এনে দিয়েছে। সৌম্য ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৫১ বলে তাঁর ৪৯ রানের যোগ্য সঙ্গ কেউ দিতে পারেননি। ৬০ বলে ৩২ রান করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ইনিংসই ছিল সবচেয়ে ধীরগতির। আটে নামা মেহেদী হাসানের ৪৯ বলে ৫৬ রানও দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। ২৮ বলে ৩১ রান করেছেন বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক আকবর আলী।

বিকেএসপিতে শেখ জামালের টপ অর্ডারে আশরাফুল ছাড়া সবাই ভালো করেছেন। সৈকত আলীর ঝোড়ো শুরুর (৭৯ বলে ৮৩) পর নাসির হোসেন (৫৬) ও নুরুল হাসান (৫৮) বাকি কাজটা করেছেন। ২৭৭ রানের লক্ষ্যে নেমে খেলাঘরের অধিনায়ক জহুরুলই যা একটু প্রতিরোধ গড়েছেন। কিন্তু তাঁর ৬৫.৩৮ স্ট্রাইক রেটের ৫১ রানই বলে দিচ্ছে দলের বাকিদের অবস্থা। ৯ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানে থেমেছে খেলাঘর।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন