বিকেলের সেশনে কোনো খেলা হতে দেয়নি বৃষ্টি।
বিকেলের সেশনে কোনো খেলা হতে দেয়নি বৃষ্টি।ছবি: এএফপি

বৃষ্টি নামায় সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছে কে?

সিরিজে পিছিয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ হার এড়াতে রাওয়ালপিন্ডিতে জিততেই হবে সফরকারীদের। এ অবস্থায় বৃষ্টিতে খেলার কিছু অংশ বাতিল হলে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা জাগে। সেদিক থেকে বৃষ্টির এমন বাগড়াতে বিরক্তি জাগতে পারে প্রোটিয়া অধিনায়ক কুইন্টন ডি ককের মনে। কিন্তু যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল, তাতে বৃষ্টি–বাধা হয়তো উপভোগই করেছেন ডি কক। অন্তত বৃষ্টির সুবাদে ম্যাচের নাটাই প্রথম দিনেই পাকিস্তানের দিকে হেলে পড়েনি।

বৃষ্টির পর মাঠ খেলার উপযুক্ত না হওয়ায় শেষ সেশনে একটি বলও হয়নি। এর আগে প্রথম দুই সেশন শেষে এগিয়ে ছিল পাকিস্তানই। ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান তুলে ফেলেছে পাকিস্তান। উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছেন বাবর আজম ও আগের টেস্টেই সেঞ্চুরি করা ফাওয়াদ আলম। বৃষ্টি বিরতিটা খুব একটা খারাপ সময়ে আসেনি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য।

বিজ্ঞাপন
default-image

দিনের প্রথম ঘণ্টায় অবশ্য অন্য কিছু মনে হচ্ছিল। ১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা দলটি কোনো উইকেট না হারিয়েই ২১ রান তুলে ফেলে। সেটা ২৩ বলের মধ্যে ৩ উইকেটে ২২ রান হয়ে যায়। নিজের টানা দুই ওভারে ইমরান বাট (১৫) ও আজহার আলীকে (০) ফিরিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। আর ৬ রান করতে ৪৩ বল খেলা আবিদ আলীর ৪৩ বলের সংগ্রাম শেষ হয়েছে পেসার আনরিখ নর্কিয়ার বলে। পাকিস্তানের ইনিংসের বয়স তখন ১৫ ওভারও হয়নি।

করাচি টেস্টে অবশ্য এর চেয়েও বড় ধস দেখেছিল পাকিস্তান। ২৭ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে সেদিন উদ্ধার করেছিলেন ফাওয়াদ আলম ও টেল এন্ডের ব্যাটসম্যানরা। পাকিস্তানকে আজ উদ্ধার করতে অধিনায়ক বাবর আজমই ছিলেন। অন্যদিকে ফাওয়াদ প্রোটিয়া বোলারদের দাপট সামলেছেন রক্ষণের ঢাল বনে। আর বাবর রান তুলেছেন ঈর্ষণীয় স্বাচ্ছন্দ্যে। রাওয়ালপিন্ডিতে এর আগে দুবার খেলেছেন বাবর। দুটি ইনিংসেই সেঞ্চুরি ছিল তাঁর। পিন্ডির উইকেট যে তাঁর কত পছন্দ, আবার টের পাওয়া গেছে।

default-image

শুরুতে উইকেটে প্রাণ ছিল। প্রোটিয়া পেসাররা নিজেদের সর্বোচ্চই দিয়েছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠেছে উইকেট। এ অবস্থায় স্পিনাররাই মূল ভরসা। দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্ভাগ্য মাত্র ২.৫ ওভার করার পরই হাতের আঙুলে ব্যথা পেয়ে উঠে গেছেন স্পিনার জর্জ লিন্ডে। সারা দিনে আর বোলিং করা হয়নি তাঁর। অন্যদিকে মহারাজ ২৫ ওভার বল করেছেন। কিন্তু প্রাথমিক দুই সাফল্যের পর দিনটা হাপিত্যেশ করে কাটাতে হয়েছে মহারাজকে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হতাশ করেছেন বাবর ও ফাওয়াদ। দুজন দুইভাবে। একদিকে বাবর দুর্দান্ত গতিতে ছুটেছেন। ১২৫ বলে ৭৭ রান তুলেছেন ১২ বাউন্ডারিতে। অন্যদিকে বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছেন ফাওয়াদ। ১৩৮ বলের ইনিংসে ৫টি চার আছে ফাওয়াদের। তবে ৪২ রানের ইনিংসের মূল দিকটা ছিল ১১৪ ডট বল। এমনিতেই একজন বোলার কম নিয়ে খেলছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মাঝে ফাওয়াদের এমন শিকড় গড়া ইনিংসে কাগিসো রাবাদা ও নর্কিয়াদের দম ফুরিয়ে এসেছিল।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন