বেয়ারস্টোর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ইংল্যান্ডের
অস্ট্রেলিয়া ততক্ষণে রক্তের গন্ধ পেয়ে গেছে! পাঁচ উইকেট হারিয়ে কাঁপছে ইংল্যান্ড। এমন অবস্থায় প্যাট কামিন্সের বল সরাসরি লাগল জনি বেয়ারস্টোর হাতে। নির্ভুলভাবে বললে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ডান হাতের আঙুলে চোট পেলে ব্যাট করা কঠিন।
কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গেলেন বেয়ারস্টো। শুধু তা–ই নয়, চোয়ালবদ্ধ সংকল্পে দিনের একদম শেষ ওভারে তুলে নিলেন শত রান। বেয়ারস্টোর ব্যাটে চড়েই এই অ্যাশেজে প্রথম ব্যক্তিগত শত রানের দেখা পেল ইংল্যান্ড। বুড়ো আঙুলে চোট নিয়েও বেয়ারস্টোর অসাধারণ শতক পুরো দিনে ইংল্যান্ডের লড়াকু মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল।
তৃতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৭০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৮ রান। উইকেটে বেয়ারস্টোর সঙ্গে আছেন জ্যাক লিচ। এখনো ১৫৮ রানে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। খুব ভালো অবস্থায় যে আছে ইংল্যান্ড, তা বলা যাবে না। কিন্তু ৩৬ রানে প্রথম ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার হিসেবে ইংল্যান্ড বেশ ভালোই করেছে বলতে হবে। ইংল্যান্ডের এখন লক্ষ্য, এই ভালো সময়কে যত দূর সম্ভব টেনে নেওয়া।
১৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই সাবধানে খেলছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। লাভ হয়নি। স্কোরবোর্ডে রান যোগ না হলেও উইকেট ঠিকই পড়ছিল সমানে। এমনও অবস্থা হয়েছে, টানা ৭০ বলে কোনো রান নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। উল্টো উইকেট খুইয়েছে তিনটি।
অন্যান্য টেস্টে ইংল্যান্ডকে আলোর পথ দেখানো অধিনায়ক জো রুটও শূন্য রানে আউট হন। মেলবোর্নের পর এই টেস্টেও স্কট বোল্যান্ডের বলে নাকাল হয়েছেন ইংলিশরা। জ্বালিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিনের মতো পেস বোলিং অলরাউন্ডারও। গ্রিনের প্রথম চার ওভারে তো রানই নিতে পারেননি রুট-স্টোকসরা। ওদিকে বোল্যান্ডের বোলিং ফিগার একসময় দেখাচ্ছিল ৮-৫-৮-২!
এ অবস্থা থেকে ইংল্যান্ডকে আস্তে আস্তে তুলে আনেন স্টোকস আর বেয়ারস্টো। গড়েন ১২৮ রানের জুটি। দুর্দান্তভাবে অর্ধশতক তুলে নেওয়া স্টোকসের ব্যাট যখন আরও খোলতাই হচ্ছে, তখনই তাল কেটে গেল নাথান লায়নের বলে। এ স্পিনারের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরলেন স্টোকস। জস বাটলারকেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি কামিন্স। এরপর শুরু বেয়ারস্টোর লড়াইয়ের গল্প।
এ টেস্ট যেদিন শুরু হয়, সেদিন ছিল বেয়ারস্টোর বাবা ডেভিড বেয়ারস্টোর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম টেস্টে শতক পেলেন তিনি। ২০০০ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় বেয়ারস্টোর চেয়ে বেশি শতক শুধু মাইকেল ভন আর অ্যালিস্টার কুকেরই আছে।
ইনিংসটা এখন কত বড় করতে পারেন, দেখার বিষয় সেটাই। যত বড় করতে পারবেন, সিডনি টেস্ট বাঁচাতে পারার স্বপ্নটাও ততই বড় হবে ইংল্যান্ডের।