বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আঁটসাঁট লাইন-লেংথে বল করে রান কম দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে বেঁধে রাখাটাই হচ্ছে সেই পরিকল্পনা। রানের চাপে ফেলে ব্যাটসম্যানদের ভুলের অপেক্ষায় থেকেই সাম্প্রতিক সময়ে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ দলের বোলাররা। মিরাজ এ ক্ষেত্রে ছিলেন এককথায় দুর্দান্ত। তাঁর ক্যারিয়ার ইকনমি রেট যেখানে ৩.১৪, গত দুই বছর খেলা ১১ টেস্টে সেটি কমে এসেছে ওভার প্রতি ২.৭৭ রানে। রান কম দেওয়ার মন্ত্র জপে সাফল্য পেয়েছেন তাইজুল ইসলামও। ৩.০৯ ক্যারিয়ার ইকনমি থেকে তাইজুল গত দুই বছরে ৭ টেস্ট খেলে রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ২.৭৭ রান করে। ধৈর্যের পরীক্ষায় জিতে দুজন সাফল্যও পাচ্ছেন, যার মাপকাঠি হলো উইকেট। এ সময়ে তাইজুল (৩৯) ও মিরাজ (৩৮) উইকেট শিকারেও ছিলেন ধারাবাহিক।

সাকিব না থাকায় চট্টগ্রাম টেস্টে তাইজুলের একাদশে থাকাটা নিশ্চিতই বলা চলে। কিন্তু মিরাজের শূন্যতা পূরণ করতে হবে তরুণ অফ স্পিনার নাঈমকে। মিরাজ থাকলে যা করতেন সেটির জন্যই দুই দিন ধরে নাঈমকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথের কাছে নাঈমের একটাই চাওয়া—রান কম দেওয়া। নাঈম সেদিন এ নিয়ে বলছিলেন, ‘অনেক দিন দলের সঙ্গে ছিলাম না। আরও দুই-এক দিন অনুশীলন করলে হয়তো দলের চাহিদাটা ধরতে পারব। কোচ চাচ্ছেন রান কম দিয়ে বল করি। আমিও সে চেষ্টাই করছি।’

টেস্ট ক্রিকেটে বোলিংয়ের প্রথম শর্তই হচ্ছে এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করে যেতে হবে। এরপর বৈচিত্র্যের কথা চিন্তা করতে হবে। সেখান থেকে যতটুকু বৈচিত্র্য আনা যায়, সেটা হতে পারে ইনসুইং, আউটসুইং কিংবা রিভার্স সুইং।
রেজাউর রহমান, পেসার, বাংলাদেশ দল

ডট বল করে যাওয়ার এই বোলিং-দর্শন শুধু স্পিনারদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। টেস্ট দলের পেসাররাও বুঝতে শিখেছেন, উইকেট হলো রান কম দেওয়ার উপজাত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি টেস্টে খেলা পেসার খালেদ আহমেদ বলছিলেন, ‘আমাকে ওভারপ্রতি দুইয়ের কম রান দিতে হবে। তা না হলে লম্বা সময় বোলিং করার সুযোগ পাব না। আমার উইকেট নেওয়ার সুযোগও কমে আসবে। রান কম দিলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা চাপে থাকবে। ব্যাটসম্যান ভুল তখনই করে যখন সে চাপে থাকে।’

default-image

বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের নতুন সদস্য রেজাউর রহমানও শিখছেন এই একই তত্ত্ব। সেদিন অনুশীলনের সময় রেজাউরের প্রতি পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের একটাই বার্তা ছিল, ‘ডট বলের পর ডট বল করে যাও। আর কিছু না।’ কাল চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের হোটেলেও রেজাউর জানালেন একই কথা, ‘টেস্ট ম্যাচে কীভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বল করা যায়, ডোনান্ডের সঙ্গে সেটা নিয়েই কাজ হচ্ছে। তিনি আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করছেন। টেস্ট ক্রিকেটে বোলিংয়ের প্রথম শর্তই হচ্ছে এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করে যেতে হবে। এরপর বৈচিত্র্যের কথা চিন্তা করতে হবে। সেখান থেকে যতটুকু বৈচিত্র্য আনা যায়, সেটা হতে পারে ইনসুইং, আউটসুইং কিংবা রিভার্স সুইং।’

সাকিব-মিরাজের অনুপস্থিতিতে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শৃঙ্খল পরাতে কতটা সফল হয় বাংলাদেশ, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন