বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাউদির করা প্রথম ওভারে ৭ রান উঠলেও বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারিয়েছে দ্বিতীয় ওভারেই। বোল্টের প্রথম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন সাদমান ইসলাম। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই শূন্যতে ফেরার শঙ্কায় পড়েছিলেন নাঈম, সাউদির বলে কট-বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সে দফা বিপদ না ঘটলেও ৩ বল পর বাড়তি বাউন্সের ডেলিভারিতে পেছনে গিয়ে স্টাম্পে বল ডেকে আনার সঙ্গে বিপদটা ডেকে এনেছেন নাঈম। অভিষেকে ২৫তম বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান হিসেবে এ বাঁহাতি ফিরেছেন ০ রানেই।

নাজমুল হোসেন এরপর বোল্টের বলে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। এর আগপর্যন্ত বাঁহাতি বোল্টকে ভালোভাবে সামাল দিলেও বেশ দেরিতে সুইং করা বলে ল্যাথামের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। মুমিনুল হক এরপর দুর্দান্ত সাউদির শিকার। ফুললেংথ থেকে ভেতরের দিকে ঢোকা বলটা ফাঁকি দিয়েছে শট খেলতে উদ্যত মুমিনুলের রক্ষণ। অধিনায়ক ফিরেছেন ০ রানে।

চা-বিরতির আগে ইয়াসিরকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন লিটন দাস, তবে বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই বোল্টের শিকার তিনি—উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ব্লান্ডেলের হাতে। ২৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এরপর একটু স্বস্তি দিয়েছিলেন ইয়াসির ও নুরুল।

রান করার সুযোগ ছাড়েননি দুজন। তাঁদের জুটির সময় সামান্য অধৈর্যও হয়ে পড়েছিলেন নিউজিল্যান্ড বোলাররা। নিউজিল্যান্ডকে এরপর ব্রেকথ্রু দিয়েছেন সাউদি, ৬২ বলে ৬ চারে ৪১ রান করা নুরুল হয়েছেন এলবিডব্লু। রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে বল ট্র্যাকিংয়ে উইকেট দেখিয়েছে আম্পায়ারস কল, ফলে ভেঙেছে ইয়াসিরের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি।

মিরাজকে বোল্ড করে চতুর্থ নিউজিল্যান্ড বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেট পেয়েছেন বোল্ট। পরের দুই উইকেট জেমিসনের—তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তাসকিন ও ইয়াসির। ইয়াসির শেষ পর্যন্ত ৫৫ রান করেছেন ৯৫ বলে, মেরেছেন ৭টি চার। দিনের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে শরীফুলকে বোল্ড করে ইনিংসের পঞ্চম উইকেটটি পেয়েছেন বোল্ট, নিউজিল্যান্ডের শেষটা তাতেই হয়েছে ‘পারফেক্ট’।

default-image

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা অবশ্য ইতিবাচকই হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথম দিন মাত্র ১ উইকেটের দেখা পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে নিয়েছিল ৪টি। দিনের প্রথম বলেই ৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ডেভন কনওয়ে। তবে ল্যাথামের ডাকে সাড়া দিয়ে কাভার থেকে সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজের সরাসরি থ্রোয়ে রান-আউট হয়ে দ্রুতই ফিরতে হয় তাঁকে। এর আগে ল্যাথামের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে উঠেছে ২১৫ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে যেটি নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড।

হ্যাগলি ওভালের অভিবাদন ও বাংলাদেশের গার্ড অব অনারে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেলর শুরুটা করেছিলেন আক্রমণাত্মক। তবে সম্ভাব্য শেষ ইনিংসে ৩৯ বলে ২৮ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে স্কয়ার লেগে শরীফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তি। নিউজিল্যান্ড ইনিংসে এরপর নামে ছোটখাট ধস—মধ্যাহ্নবিরতির আগে ১২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় তারা। ইবাদতের বলে ০ রানে কট-বিহাইন্ড হন হেনরি নিকোলস, দারুণ রিভিউয়ে সে উইকেট পায় বাংলাদেশ। ৩ রান করে শরীফুলের বলে কট-বিহাইন্ড হন ড্যারিল মিচেল।

default-image

পরের সেশনে অবশ্য ল্যাথাম ও টম ব্লান্ডেল করেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। বিরতির আগেই তাসকিনকে কাভার দিয়ে চার মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দ্বিশতক পান ল্যাথাম, বিরতির পর মুমিনুলকে ছয়, চার, ছয়—এই ক্রমের শটে পৌঁছে যান ২৫০ রানে। অবশ্য ঠিক পরের বলে আবার তুলে মারতে গিয়ে খাড়া ক্যাচ তোলেন, ভাঙে ব্লান্ডেলের সঙ্গে ৭৮ বলে ৭৬ রানের জুটি।

৩৭৩ বলে ২৫২ রানের ইনিংস খেলার পথে ল্যাথাম ৩৪টি চারের সঙ্গে মারেন ২টি ছয়। ক্যারিয়ারে এর আগে এতো স্ট্রাইক রেটে এতো রানের ইনিংস খেলেননি তিনি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৪ রান ছুঁতে না পারলেও হ্যাগলি ওভালের সর্বোচ্চ ইনিংসটা খেলেছেন ল্যাথাম। ল্যাথাম ফিরলেও অবশ্য নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। ৬০ বলে ৮ চারে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন ব্লান্ডেল। দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ঘণ্টায় ৯৮ রান তুলে ৬ উইকেটে ৫২১ রান নিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন