সাকিব না পারলেও দারুণ খেলেছেন রানা।
সাকিব না পারলেও দারুণ খেলেছেন রানা। ছবি: আইপিএল

সাকিব আল হাসান সুযোগ পাবেন কি না দলে, ম্যাচের একাদশ ঘোষণার আগে যত সংশয় ছিল এ নিয়ে। সে সংশয়ের অবসান হয়েছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী আর সাকিবভক্তরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। সাকিবকে দলে নিয়েই আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে নেমেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামার পর কলকাতার ওপেনার নিতিশ রানা আর পরে তিনে নামা রাহুল ত্রিপাঠি এমন ব্যাটিং করছিলেন যে এরপর সাকিবভক্তদের হয়তো শঙ্কা ছিল—সাকিব ব্যাটিং পাবেন কি না!

default-image

শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন বটে। কিন্তু পেয়ে যা করতে পেরেছেন সাকিব, তাতে ব্যাটিংয়ে না নামতে হলেও সাকিবভক্তদের হয়তো খেদ আরও কম থাকত। ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ বলে নেমেছেন সাকিব, ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৫ বলে করতে পেরেছেন মাত্র ৩ রান!

সাকিব না পারলেও রানা আর ত্রিপাঠির দুই ফিফটিতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করেছে কলকাতা। নিজের সাবেক দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে কিছু করতে না পারা সাকিব বল প্রথম বলেই পেয়েছেন উইকেট।

বিজ্ঞাপন

সাকিব যে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পেরেছেন, সে জন্য কলকাতার ভক্তরা না হলেও সাকিবের ভক্তরা আফগানিস্তানের অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীকে ‘ধন্যবাদ’ দেবেন। ১৮তম ওভারে নবী পরপর দুই বলে নিতিশ আর এউইন মরগানকে তুলে নেওয়াতেই তো সাকিবের ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হলো!

প্রথম যখন কোনো বলে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন সাকিব, তখন ১৮তম ওভারের শেষ বল চলছে। নবীর বলটাকে আলতো ঠেলে দিয়ে ১ রান নিয়ে রানের খাতা খুললেন সাকিব, ধরে রাখলেন স্ট্রাইকও। তার মানে পরের ওভারেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

১৯তম ওভার করতে এলেন টি নটরাজন। নিজের সাবেক দলের বাঁহাতি পেসারের প্রথম বলটা ওয়াইড। বৈধ প্রথম বলে পরে আবার লং অনে ঠেলে দিয়ে ১ রান নিলেন সাকিব। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী দীনেশ কার্তিক ‘উঠান কুড়োনো’র ঢঙে পরের বলে ১ রান নেওয়ায় আবার ক্রিজে এলেন সাকিব। এবার কিছু হবে, দেখা যাবে সাকিবের ব্যাটে চার কিংবা ছক্কা?—এমন প্রশ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সাকিবভক্তদের প্রায় পিলে চমকানোর জোগাড়। নটরাজনের ইয়র্কার লেংথ বলটা অফ স্টাম্পের ইঞ্চি কয়েক বাইরে পড়ায় বোল্ড হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান পরাস্ত সাকিব। পরের বলে আবার ১ রান।

ওই ওভারে আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি সাকিব, শেষ দুই বলে একটি চারের পর সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখেন কার্তিক। শেষ ওভারে কি ব্যাটিং আর পাবেন সাকিব, তখন সংশয় সেটিই। পেলেও সাকিবের খেলার ধরনে মনে হচ্ছিল, সিঙ্গেল নিয়ে এখন কার্তিককে ক্রিজে আনাই তাঁর পরিকল্পনা। হয়তো দলেরও পরিকল্পনা তা-ই ছিল!

default-image

ভুবনেশ্বর কুমারের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে গেল। প্রথম তিন বলে ছক্কা-চারের পর দুই রান নেন কার্তিক। মাঝে একটা ওয়াইডের পর চতুর্থ বলে আবার দুই রান, তবে কার্তিককে আবার স্ট্রাইকে ফেরাতে ঝুঁকি নিয়ে সাকিব এত জোরে না দৌড়ালে দুই রান সেখানে হওয়ার কথা ছিল না। এত করেও অবশ্য লাভ হয়নি। পঞ্চম বলে সিঙ্গেলই নিতে পেরেছেন কার্তিক, ইনিংসের শেষ বলে তাই স্ট্রাইকে যেতেই হলো সাকিবকে।

তাতে অপরাজিত আর থাকা হলো না আরকি! ওভার দ্য উইকেটে আসা ভুবনেশ্বরের আড়াআড়ি স্লো বলটা ছিল অফ স্টাম্পের লাইনে। আগে থেকেই লেগ সাইডে ঘুরিয়ে মারার স্টান্স নিয়ে দাঁড়ানো সাকিব হাঁকালেন বটে, কিন্তু ব্যাটে-বলে হলো না। মিডউইকেট থেকে দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ ধরে ফেলেন আব্দুল সামাদ। শেষ হলো সাকিবের রোমাঞ্চহীন ছোট্ট ইনিংস।

বিজ্ঞাপন
সাকিব বল হাতে প্রথম বলেই পেয়েছেন উইকেট। আউট করেছেন ঋদ্ধিমান সাহাকে।

সাকিব না পারলেও কলকাতার ইনিংসে চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে রোমাঞ্চের কমতি রাখেননি রানা ও ত্রিপাঠি। বিশেষ করে রানা। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরের প্রথম ইনিংসে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম যে কলকাতার জার্সিতে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, এরপর থেকে কলকাতার হয়ে আর কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। আজ রানা সে অপেক্ষা শেষ করে দেবেন বলেও মনে হচ্ছিল! শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে যা হয়েছে, তাতে রানাকে নিয়ে তৃপ্ত থাকবেন কলকাতার ভক্তরা।

default-image

১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে নবীর বলে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরার আগে ৫৬ বলে ৮০ রান করেছেন রানা। যাতে চার ৯টি, ছক্কা ৪টি। ওপেনিং জুটিতে শুভমন গিলকে নিয়ে ঝড় তুলেছিলেন রানা। তাতে পাওয়ার প্লে-তেই ৫০ রান হয়ে গিয়েছিল কলকাতার। সপ্তম ওভারের শেষ বলে গিল (১৩ বলে ১৫ রান) আউট হয়ে যান, কিন্তু তারপর থামার তো নামই নেই, উল্টো আরও গতিশীল কলকাতার ইনিংস। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ত্রিপাঠিকে নিয়ে ৫০ বলে ৯৩ রান এনে দেন রানা।

১৬তম ওভারে আসে ধাক্কা। ২৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৩ রান করে ত্রিপাঠি আউট হয়ে যান রশিদ খানের বলে। মাঝে নটরাজন এসে ফেরান আন্দ্রে রাসেলকে (৫)। এরপর ১৮তম ওভারে নবীর জোড়া ধাক্কা। সাকিবও পারেননি। তবু শেষ দিকে পথ হারানোর শঙ্কা থেকেও যে বেশ কিছু রান পেয়েছে কলকাতা, তার কৃতিত্ব ৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করা সাবেক অধিনায়ক কার্তিকের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন