default-image
>

মাশরাফি খুশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের লেট অর্ডার রান পাওয়ায়। এটা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে তাঁর মত। তবে দ্রুত ৩ উইকেট পড়ার ব্যাপারটিতে বিরক্তি ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বেশ ভয় পাইয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়ছিল। ৩ উইকেটে ১৩৭ থেকে একপর্যায়ে স্কোরবোর্ড বাংলাদেশ দেখছিল ৬ উইকেটে ১৩৯। পরপর ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকেই আলোর পথ দেখান ইমরুল কায়েস, সাইফউদ্দিনকে সঙ্গী করে। দিন শেষে দাপুটে জয়ের পরেও ক্রিকেটপ্রেমীদের ব্যাপারটা বেশ ভাবাচ্ছে। যদি ইমরুল ১৪৪ রানের ইনিংসটা না খেলতে পারতেন, যদি সাইফউদ্দিনের ব্যাট কথা না বলত...!

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য অতো শত ভাবতে চান না। তিনি বরং খুশিই হয়েছেন দলের এই অবস্থায়। আজ চট্টগ্রামে সংবাদমাধ্যমকে কিছুটা চমকেই দিলেন তিনি। দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতায় অধিনায়ক খুশি?

তবে মাশরাফি ব্যাখ্যা করেই বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি মনে মনে ব্যাপারটায় খুশি হয়েছেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন পরপর ৩ উইকেট হারানোর ব্যাপারটা কিন্তু তাঁকে ঠিকই ভাবাচ্ছে, ‘আমার দিক দিয়ে বলব আমি খুশিই হয়েছি। সাইফউদ্দিন রান করেছে। এই পজিশনটা দেখা। আমি আগেও বলছি হয়তো বা এটা আদর্শ পরিস্থিতি না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে যা হয় আরকি, এই যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিগুলো যদি আমরা না দেখতাম তাহলে ওদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়ত না, আমাদেরও বাড়ত না। অন্য দলের অনেক সময় টপ অর্ডার রান পেলে লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয় না। কিন্তু আমাদের লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয়ে সেখান থেকে ফিরে আসতে পেরেছি, এটা কিন্তু আমাদের আরও ওপরে উঠতে সাহায্য করবে। সব সময় যদি আমরা মুশফিক আর রিয়াদে খেলা শেষ করি, বড় মঞ্চে গিয়ে যখন সেটা হবে না, তখন কিন্তু দল বিপদে পড়বে। সুতরাং এটা এক দিক দিয়ে ভালো যে লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয়েছে এবং ওরা রান পেয়েছে।’

৩ উইকেট হারানোটা ‘আদর্শ’ মানছেন না মাশরাফি। একই সঙ্গে তাঁকে চিন্তিত করছে আরও একটা ব্যাপার—টপ অর্ডারের একজন বড় রান পেলেও সংগ্রহটা তিন শ পেরোচ্ছে না। এশিয়া কাপের ফাইনাল কিংবা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ গল্পটা কিন্তু একই। এশিয়া কাপের ফাইনালে ওপেনিংয়ে বড় সংগ্রহ ছিল লিটন দাসের একারই। কিন্তু দলীয় সংগ্রহটা বড় হয়নি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও ইমরুলের ১৪৪ রানের বিশাল ইনিংসের পরেও রান ২৭১-এ এসে আটকে গেছে, ‘টপ অর্ডারে একজন এক শ করার পরেও রানটা কিন্তু তিন শ হচ্ছে না। সাধারণ টপ অর্ডারের একজন সেঞ্চুরি পেলে দলীয় সংগ্রহটা তিন শ ছাড়িয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এই জায়গাটা চিন্তার। টপ অর্ডারে বড় সংগ্রহের পর পরের দিকে যে সাহায্যটা দরকার সেটা এত পরে আসছে যে রানটা বড় হচ্ছে না। এই জায়গায় একটু মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়, চট্টগ্রামে পরের দুটি ম্যাচে দল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাবে কিনা, এটা কিন্তু একটা ব্যাপার। মাশরাফি জানালেন যেহেতু দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হতে এখনো ২৪ ঘণ্টার মতো সময় বাকি আছে, তাই এ নিয়ে ভাবনাটা পরিষ্কার হবে আরও পরে, ‘আমরা কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। ফজলে রাব্বিকে নেওয়া হয়েছে। সে আরও সুযোগ প্রত্যাশা করে। সেটা দিতেও হবে। নাজমুল হোসেন শান্ত বসে আছে, তার সুযোগ পেতে হবে। বসে আছে আরিফুল হকও। আবু হায়দারও আছে। তবে আমাদের ক্লিনিক্যাল হতে হবে। ম্যাচ না হেরে একজন দুজন করে কীভাবে সুযোগ দিতে পারি সেটা দেখতে হবে।’

মাশরাফি নিজে পুরোপুরি ফিট নন। গ্রোয়েনে একটা সমস্যা আছে। তবে মাশরাফি খেলছেন যেহেতু তাঁর খেলা সুযোগ কম বলেই, ‘আমি তো একটা ফরম্যাটেই খেলি। আমি বিশ্রামে থাকতে পারতাম। তবে এই সিরিজের পর ৩-৪ সপ্তাহ খালি আছে। তবে গ্রোয়েন থেকে সের উঠতে আমার একটু সময়ের দরকার। চিকিৎসার দরকার। আমি সেটা ভাবছি। আর বিশ্রামের সময় স্ট্রেংথের কাজ, ফিটনেস ট্রেনিং ইত্যাদি ঠিকমতো করতে পারলে আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন