মিরাজ ৪ উইকেট নিয়ে বিপর্যয়ে ফেলেছেন উইন্ডিজ
মিরাজ ৪ উইকেট নিয়ে বিপর্যয়ে ফেলেছেন উইন্ডিজছবি: শামসুল হক

জশুয়া দা সিলভার ওপর যেন চেতেশ্বর পুজারা ভর করেছিল! একের পর এক বল খেলেই যাচ্ছিলেন। রান করার কোনো চেষ্টা নেই! আরেক প্রান্তে জার্মেইন ব্ল্যাকউড আবার সম্পূর্ণ উল্টো। মারার বল পেলে বাউন্ডারির সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। দুজনের জুটি এগোচ্ছিল সেঞ্চুরির পথে।

সাকিব আল হাসান না থাকায় চার বোলারের দল বাংলাদেশের কাঁধ যেন একটু একটু নুয়ে আসছিল। দ্রুত এই জুটি না ভাঙলে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত লিডের আশা ধূলিসাৎ হতে পারে। এই ভাবনার বহিঃপ্রকাশ দলের সদস্যদের শরীরী ভাষায় ফুটে উঠছিল।

বিজ্ঞাপন

উইকেটে কিছু নেই। ম্যাচ ফেরার একমাত্র উপায় নতুন বল কাজে লাগানো। গতকাল নতুন বলেই ২ উইকেট নিয়ে উইন্ডিজ টপঅর্ডার কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আজও হয়তো তাই করবেন। অধিনায়ক মুমিনুল হক সেই আশাতেই বলটা তুলে দেন মোস্তাফিজের হাতে, আরেক প্রান্তে ছিলেন তাইজুল ইসলাম।

শর্ট মিড উইকেটে দাঁড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজও লাল চকচকে বলে আশার ঝিলিক দেখছিলেন। মৃতপ্রায় বাংলাদেশ দলটাকে চাঙা করতে তিনিই বলে উঠলেন, ‘একজনের উইকেট নিলেই হবে। পরে আর কোনো ব্যাটসম্যান নেই।’ জশুয়া ও ব্ল্যাকউডের পর আসলেই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিল না ক্যারিবীয়দের।

default-image

মিরাজের কথা শুনে যেন মাঠের বাকি ফিল্ডাররাও একটু নড়েচড়ে দাঁড়ান। তাঁর বিশ্বাস যেন দলের বাকিদের মধ্যেও ছড়িয়ে গেল। স্কয়ার লেগ থেকে মুশফিকুর রহিম, স্লিপ থেকে নাজমুল হোসেনও গলায় জোর খুঁজে পান। মোস্তাফিজের বলগুলোও জশুয়ার প্যাডে আঘাত হানতে থাকে। শর্ট মিড উইকেট থেকে আবার মিরাজের চিৎকার, ‘পায়ে খাবে ভাইয়া পায়ে খাবে!’

কয়েক ওভার পরই অফ স্পিনার নাঈম হাসানের নিচু হয়ে আসা বলে ক্যাচ দেন জশুয়া। পরের ওভারে মিরাজের লেগে করা বলে ব্যাট ছুঁইয়ে ক্যাচ দেন ব্ল্যাকউড। ঠিক চা বিরতির আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ২ উইকেট। বিরতির পর মাত্র তিন ওভারেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। সেই মিরাজই বিরতির পর নেন আরও ২ উইকেট। তাইজুলের আরও এক উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে ২৫৯ রানে।

২৬ ওভারে ৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা বোলার ছিলেন প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা মিরাজ। শুধু বোলিং-ব্যাটিং নয়, কথা দিয়েও তিনি পারফর্ম করলেন, দলকে অনুপ্রাণিত করলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন