তার জন্য তাঁর ইনিংসের শুরুর প্রেক্ষাপট আর শেষের অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চও যে জানতে হবে! টেক্টরের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩০০ রান করেছিল আয়ারল্যান্ড। জবাবে ২২তম ওভারে মার্টিন গাপটিল (৬১ বলে ৫১) যখন ফিরছেন, ১২০ রানেই ৫ উইকেট নেই নিউজিল্যান্ডের। সেখান থেকে ব্রেসওয়েলের ঝড়ের শুরু। শেষ হলো ইনিংসের শেষ ওভারের রোমাঞ্চে।

নিউজিল্যান্ডের তখনো ২০ রান দরকার, আগের ৯ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া ক্রেইগ ইয়াংয়ের বলে আশায় বুক বেঁধেছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু পাঁচ বল পর সব ছত্রখান! ৪, ৪, ৬, ৪, ৬ – রীতিমতো তান্ডব ব্রেসওয়েলের। তাতে রেকর্ডও হয়ে গেল। তাড়া করে জয়ের পথে নিউজিল্যান্ডের ২০ রানই যে এখন ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ইনিংসের ৫০তম ওভারে সর্বোচ্চ। আগেরটি ছিল ইংল্যান্ডের, ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা তাড়া করেছিল ১৮ রান।

default-image

ইনিংসটা শেষ ওভার পর্যন্ত যে গড়িয়েছে, সে-ও এক গল্প বটে! এ যুগে ওয়ানডেতে ৩০০ রান এমন কিছু নয়, তারওপর যখন লক্ষ্যটা নিউজিল্যান্ডের সামনে, প্রতিপক্ষ যখন আয়ারল্যান্ড। কিন্তু কেইন উইলিয়ামসন, ডেভন কনওয়ে, ড্যারিল মিচেলের মতো ব্যাটসম্যানদের বাড়িতে রেখে আয়ারল্যান্ডে যাওয়া নিউজিল্যান্ডকে কাল বেশ ভুগতেই হলো। ব্রেসওয়েলের ইনিংসের গুরুত্ব তাতে আরও বাড়ে আর কী!

ড্যারিল মিচেলের মতোই নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশে ঝড় তুলে নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের দলে ঢোকা ব্রেসওয়েলের। ১০ ইনিংসে ৪৭৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান ব্রেসওয়েলের, গড় ৮০, স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর কাছাকাছি! আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটাতেই কাল ব্রেসওয়েল বুঝিয়ে দিলেন, সুপার স্ম্যাশের চেয়ে বড় পরিসরে, জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা আস্কিং রেটের বিপরীতেও তাঁর ‘স্ম্যাশ’ করার ক্ষমতা দারুণ।

ফিফটিতে পৌঁছেছেন ৫১ বলে। কিন্তু সেঞ্চুরিতে যখন পৌঁছলেন, তাঁর ইনিংসের বয়স ৭৪ বল! তখনো অবশ্য নিউজিল্যান্ডের ১২ বলে ২৪ রান দরকার, ৪৯তম ওভারে লকি ফার্গুসনকে ক্রিজে ‘লক’ করে রেখে মাত্র ৪ রানই দেন মার্ক অ্যাডেয়ার। কিন্তু তখন কে জানত, শেষ ওভারে ২০ রানও নিরাপদ হবে না ব্রেসওয়েলের সামনে!

রানগুলো যে এলোপাতাড়ি শটে এসেছে, তা-ও নয়। দুই ফাইন আর স্কয়ার লেগকে বৃত্তের ভেতরে রেখে ৫০তম ওভারটা শুরু করেছিলেন ইয়াং, অফস্টাম্পের বাইরে ইয়র্কারের প্রস্তুতি। ব্রেসওয়েল অফসাইডে সরে এসে প্রথম দুই বলে স্কুপে মারলেন চার। পরের বলেও ক্রিজের ভেতরে শরীরের নড়াচড়ায় জায়গা করে নিয়ে মিডউইকেটে ছক্কা।

ইয়াং আর আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বলবার্নির মাথায় ভাঁজ। অনেক ভেবেচিন্তে মাঠে অনেক ফিল্ডিং বদলের মধ্যে স্কয়ার লেগকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু লাভ হলো না। চতুর্থ বলে ডিপ স্কয়ার লেগেই সিমি সিংয়ের হাতের নাগালের বাইরে রেখে চার। পরের বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে বল হসপিটালিটি তাঁবুতে।

default-image

ব্রেসওয়েলের ঝড়ে মলিন আইরিশ জার্সিতে টেক্টরের সেঞ্চুরি আর কার্টিস ক্যাম্ফারের অলরাউন্ড প্রদর্শনী। টেক্টর তো এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সবচেয়ে ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানদের একজন। কাল নিজের টানা চতুর্থ ফিফটিকে রূপ দিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরিতে। সর্বশেষ ১১ ইনিংসে তাঁর সাত ফিফটি, এক সেঞ্চুরি!

সেঞ্চুরিটা এসেছেও কী ঢংয়ে! ৪২তম ওভারে ব্লেয়ার টিকনারকে টানা চার চারে! ২৬ রানে ২ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৪৪তম ওভারে যখন ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন টেক্টর, দলের রান ২৫১। তাঁর নামের পাশে ১১৭ বলে ১১৩। কদিন আগে ভারতের বিপক্ষে ৩৩ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে টি-টোয়েন্টিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড নতুন করে লেখা টেক্টরের ওয়ানডেতে প্রথম শতকে যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরটা নতুন করে লেখা হলো, তা নিশ্চয়ই বলার দরকার পড়ে না।

default-image

টেক্টরের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৯৪ রানের জুটিতে দারুণ সঙ্গ দেওয়া ক্যাম্ফার (৪৭ বলে ৪৩) অবশ্য পরে বল হাতেও আলো ছড়িয়েছেন। ১০ ওভারে ৪৯ রানে নিয়েছেন গাপটিল, ল্যাথাম আর নিকোলসের উইকেট, রানআউট করেছেন ব্রেসওয়েলের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়া ইশ সোধিকেও (২৭)।

কিন্তু ব্রেসওয়েল তো ছিলেন! সোধির আগে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা গ্লেন ফিলিপসের (৩৮) সঙ্গে ছোট জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন, ভেঙেছেন আইরিশ হৃদয়!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন