কেন? সহজ কথায় বলে দেওয়া ভালো। নিজেদের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা আজ ৪৫৩ রানে অলআউট হয়ে চা বিরতিতে যায়। শেষ সেশনে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। শুধু ফলোঅন এড়াতেই এখনো দরকার ১১৫ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ৩১৪ রানে পিছিয়ে মুমিনুল হকের দল।

উইকেটে আছেন মুশফিকুর রহিম (৩০*) ও ইয়াসির আলী (৮*)। এরপর ব্যাটসম্যান বলতে এক অলরাউন্ডার শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ দিন পার করা মুশফিক ও ইয়াসির কাল কতটা লড়তে পারবেন, এরপর মিরাজ এসে সেই প্রতিরোধ কতটা টানতে পারবেন—এসব যদি-কিন্তুর ওপর পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে ফলের অনেক কিছুই নির্ভর করছে। বলা ভালো, দলের অভিজ্ঞতম ব্যাটসম্যান মুশফিকই এখন যা একটু ভরসা হয়ে আছেন।

default-image

শুরুটাই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ডারবানে অসাধারণ শতক তুলে নেওয়া মাহমুদুল হাসান ইনিংসের পঞ্চম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ডুয়ানে অলিভিয়েরের আউটসুইং ডেলিভারিটা ছিল দুর্দান্ত। রানের খাতা খোলার আগেই মাহমুদুল আউট হওয়ার পর আজকের দিনে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে ভালো জুটিটা গড়েন তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন। দ্বিতীয় উইকেটে ১২০ বলে ৭৯ রানের এই জুটিটার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পাওয়ার ছিল বাংলাদেশের।

মাহমুদুল আউট হওয়ার পর ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন তামিম ও নাজমুল। জোর করে মারেননি তবে খারাপ ডেলিভারি পেলে ছাড়েননি। লিজাড উইলিয়ামস, অলিভিয়ের ও সাইমান হারমারদের উইকেটের চারপাশেই খেলেছেন এই জুটি। আর তাই ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ওভারপ্রতি গড়ে ৪ ছুঁইছুঁই (৩৮/১)।

তামিম যেভাবে আধিপত্য বজায় রেখে ব্যাট করেন, দীর্ঘ ১১ মাস পর টেস্টে ফিরে আজও সেভাবেই ব্যাট করছিলেন। ৮টি দর্শনীয় চারের মারের এই ইনিংসটা অকালমৃত্যু ঘটে ২১তম ওভারে মুল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। রিভিউ না নিয়েই ফিরে যান ৫৭ বলে ৪৭ রান করা তামিম। এই ইনিংসটা যতটা দর্শনীয়, তাঁর উইকেটে টিকে থাকা এর চেয়েও বেশি প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের জন্য।

default-image

তামিম আউট হওয়ার পর পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যায় বাংলাদেশ। একজন আউট তো খুব দ্রুত-ই আরেকজনও আউট! মাঝে এক ওভার পর নাজমুলও তামিমের মতোই এলবিডব্লিউ হন সেই মুল্ডারের বলেই। দুজনেই তাঁর ভেতরে ঢোকা বল খেলতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা রিভিউ নিয়ে নাজমুলের ৭৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটায়।

বাংলাদেশ ৮৫ রান তুলতে ৩ উইকেট হারানোর পরও আজ-ই ভিতটা শক্ত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তৃতীয় (৩), চতুর্থ (১৫), পঞ্চম (২২) উইকেট জুটিতে ওঠা রানগুলো একবার দেখুন। লড়াইটা করতে পারেননি কেউ। ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিকুর রহিম এবং ইয়াসির আলী ৪৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রানের জুটি গড়ে দিন পার না করলে অবস্থা আরও খারাপ হতো বাংলাদেশের।

ডারবানে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২ রান করা মুমিনুলকেও (৬) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মুল্ডার। এই প্রোটিয়া পেসার ৫ ওভারের সেই স্পেলে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

default-image

চাপ কাটাতে লিটন দাস এসে শুরুতে তামিমের মতোই ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন। মুল্ডারের এক ওভারেই দুটি চার মারেন। কিন্তু মুমিনুল আউট হওয়ার তিন ওভার পর লিটনও আউট!অলিভিয়ের বল ব্যাটে খেলতে না পেরে আউট হন ১৪ বলে ১১ রান করা লিটন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ উইকেট মুল্ডারের, ২ উইকেট অলিভিয়েরের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন