default-image

মুম্বাই ইন্ডিয়ানস নামের বাধাটা যে আইপিএলে পাঁচ ম্যাচ পর কাল অবশেষে ভাঙতে পারল দিল্লি ক্যাপিটালস, সেটার মূল কৃতিত্ব কার? উত্তরটা নিয়ে সম্ভবত সংশয় খুব বেশি থাকবে না। কে আবার, অমিত মিশ্র!

২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মুম্বাইয়ের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন ভারতীয় লেগ স্পিনারই। উইকেটগুলো কার! রোহিত শর্মা, ঈশান কিষান, হার্দিক পান্ডিয়া ও কাইরন পোলার্ড! ম্যাচসেরা খুঁজে নিতে তাই খুব একটা ভুগতে হয়নি কাউকে। ম্যাচের পর আলোচনায়, সংবাদের শিরোনামেও মিশ্রই। আলোচনার মধ্যেই ৩৮ বছর বয়সী লেগ স্পিনারকে নিয়ে এক গল্প বললেন ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ।

গল্পটা ২০০৮ সালের, আইপিএলের প্রথম মৌসুমের। আইপিএলে দিল্লির ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম এখন দিল্লি ক্যাপিটালস হলেও আগে নাম ছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। আইপিএলের শুরুতে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের আইকন ছিলেন শেবাগ, সে দলে ছিলেন মিশ্রও। সে বছরই একটা হ্যাটট্রিক করার পর শেবাগকে নাকি মিশ্র অনুরোধ করেছিলেন বেতন বাড়িয়ে দিতে!

বিজ্ঞাপন

মিশ্রর দারুণ বোলিংয়ে মুম্বাইয়ের মিডল অর্ডার ধসে যায়, ২০ ওভার শেষে মুম্বাই করতে পারে ৯ উইকেটে ১৩৭। মুম্বাইয়ের কাছে আইপিএলে আগের পাঁচ সাক্ষাতেই হার দেখা দিল্লি ক্যাপিটালস সে রান তাড়া করেছে ৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে। এরপরই দিল্লির পারফরম্যান্স নিয়ে শেবাগ কথা বলেন ভারতীয় ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে। উঠে আসে মিশ্রর কথা।

২০০৮ সালের মিশ্রর সেই হ্যাটট্রিক ছিল আইপিএলের ইতিহাসেরই প্রথম হ্যাটট্রিক। এখন পর্যন্ত আইপিএলে সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকের কীর্তিও মিশ্রর—৩টি। এর প্রথমটির পরের গল্পই কাল বললেন শেবাগ। হ্যাটট্রিকটা ছিল এখন বিলুপ্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের জার্সিতে। শেবাগ ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। মিশ্রকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেবাগ বলছিলেন, ‘ও (অমিত মিশ্র) এমন একজন, যে কিনা খুব শান্ত স্বভাবের, সবার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলে। সবার সঙ্গে দ্রুত মিশে যেতে পারে। সে কারণে সবার প্রিয়ও হয়ে ওঠে। ও মার খেলে ওর সতীর্থদেরও খারাপ লাগে। আর ও যখন উইকেট পায় সবাই খুশি হয়ে যায়।’

এর মধ্যে ২০০৮ সালের সেই ম্যাচের স্মৃতি মনে পড়ে গেল শেবাগের, ‘ (আইপিএলে) ওর প্রথম হ্যাটট্রিক পাওয়ার সময়টার কথা মনে আছে। ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কী চাও। ও বলল, “বীরু (শেবাগের ডাকনাম) ভাই, প্লিজ আমার বেতনটা বাড়িয়ে দিন না!” এখন আমার মনে হয় ওর এত টাকা পাওয়ার কথা যে ওর এখন আর হ্যাটট্রিক পেলে কাউকে বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করতে হবে না।’

default-image

কালকের ম্যাচটা ছিল মিশ্রর জন্য ফিরে আসার ম্যাচ। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে এবারের আইপিএলে দিল্লির প্রথম ম্যাচের পর টানা দুই ম্যাচ দলের বাইরে ছিলেন মিশ্র। দলে ফিরেই এমন বোলিং করলেন যে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে দিল্লির কোনো বোলারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডই গড়ে ফেললেন।

শেবাগ পরে জানালেন মিশ্রর আইপিএলের ইতিহাসের সেরা বোলারদের একজন হয়ে ওঠার রহস্য, ‘পাওয়ার প্লের সময় মিশ্রকে নার্ভাস মনে হচ্ছিল। ওর বলে সূর্যকুমার যাদব কাভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরেছে। কিন্তু পাওয়ার প্লে যখন শেষ হলো, মিশ্রজিও দারুণভাবে ফিরে এলেন! কারণ, মাঠে ফিল্ডারদের ছড়িয়ে দিতে পারলে ওর এই অনুভূতিটা হয় যে ও নিজের স্বাভাবিক গতিতে বোলিং করতে পারবে, সে ক্ষেত্রে ওকে মারতে গেলে ব্যাটসম্যানদের ঝুঁকি নিতেই হবে।’

মিশ্রর কারণেই মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বেশি আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ পাননি বলে মনে হচ্ছে শেবাগের, ‘ও দারুণ বোলিং করেছে। এই কারণেই ও টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সেরা বোলারদের একজন। স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট ওরই। রোহিত শর্মা যদি ওকে ঠিকভাবে খেলতে পারত, তাহলে সহজেই কাল ৬০-৭০ রান করতে পারত।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন