করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে রাজস্থান।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে রাজস্থান। ছবি: আইপিএল

শুরুটা প্যাট কামিন্স করে দিয়েছেন। ভারতে করোনা সংক্রমণ প্রকট আকার ধারণ করায় ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার। তাঁর প্রিয় ভারতকে সংকটের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তহবিলে কামিন্সের এই অর্থ দানের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে। ধীরে ধীরে ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

কামিন্সের পথ ধরে তাঁর পূর্বসূরি ব্রেট লি এগিয়ে এসেছেন। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার ভারতকে দ্বিতীয় ঘর বলে মনে করেন। ঘরের বিপদের সময় এক বিটকয়েন দান করেছেন। এই ক্রিপটো কারেন্সির বর্তমান কাগুজে মূল্য ৪৬ লাখ টাকার বেশি। রাজস্থান রয়্যালসও সরাসরি কাজে নেমে গেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির খেলোয়াড়, মালিক ও দলের অন্য সদস্যরা মিলে সাড়ে ৭ কোটি রুপি বা ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আজ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ঘোষণা দিয়েছে রাজস্থান। ২০০৮ আইপিএল বিজয়ী দলটি করোনার বিপক্ষে লড়াইয়ে ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্টের (বিএটি) সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এক বিবৃতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি জানিয়েছে, রাজস্থান রয়্যালস ভারতে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে তাৎক্ষণিক সাহায্য দেওয়ার লক্ষ্যে সাড়ে ৭ কোটি রুপি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলোয়াড়, দলের মালিকপক্ষ এবং ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা সবাই ফাইল তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং দাতব্য কাজে নিয়োজিত রাজস্থান রয়্যালসের অঙ্গসংগঠন রয়্যাল রাজস্থান ফাউন্ডেশনের সঙ্গী ব্রিটিশ এশিয়ান ট্রাস্টের সঙ্গে কাজ করছে।

দান করার জন্য কেন বিএটির সঙ্গে রাজস্থান কাজ করছে, সেটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে বিবৃতিতে, ‘কর্মদক্ষতা ও পড়াশোনা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করে বিএটি। এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্স চার্লস “ভারতের জন্য অক্সিজেন” নামের একটি জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। এ প্রকল্প বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়ার যন্ত্র অক্সিজেন কনসেনট্রেটর কেনা এবং সরবরাহ করার দিকে নজর দিয়েছে। হাসপাতালে সরবরাহ কম থাকলে যেন রোগীদের সাহায্য করা যায়, সে চেষ্টা করা হবে। রাজস্থান রয়্যালস যে তহবিল গঠন করছে, সেটা পুরো ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রাজস্থানেই বেশি নজর থাকবে।’

এদিকে রাজস্থানের পথে হেঁটেছে দিল্লি ক্যাপিটালসও। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এর আগে সবাইকে করোনায় আক্রান্ত মানুষদের সাহায্যার্থে প্লাজমা দানে উৎসাহ দিয়েছে। দিল্লির ওপেনার শেখর ধাওয়ান ভিডিও বার্তায় করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের সুপারহিরো বলেছেন। তাঁদের নিজেদের এই শক্তি কাজে লাগাতে বলেছেন প্লাজমা দান করে। আজ তারা সরাসরি দেড় কোটি রুপি দান করেছে দুটি ফাউন্ডেশনকে। ফাউন্ডেশন দুটি ভারতে করোনায় আক্রান্ত মানুষকে সাহায্য করছে।

এর আগে কামিন্স ভারতের করোনায় আক্রান্ত মানুষের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে কোটি মানুষের কাছে বার্তা পাঠানোর সুবিধা পাচ্ছি আমরা, সেটাকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। এটা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে আমি একটু অবদান রেখেছি, যাতে বিশেষ করে ভারতীয় হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরঞ্জাম কেনা যায়। আইপিএলের অন্য খেলোয়াড় এবং বিশ্বজুড়ে ভারতের আবেগ ও উদারতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের উৎসাহ দেব অবদান রাখার জন্য। আমি এটা ৫০ হাজার ডলার দিয়ে শুরু করছি। এমন সময়ে অসহায়বোধ করাটা সহজ। গত কয়েক দিনে আমারও এমন মনে হয়েছে। কিন্তু আশা করি এভাবে প্রকাশ্যে আবেদন জানিয়ে আমাদের মনের আবেগটা কাজে পরিণত করব, সেটা অনেক মানুষের জীবনে আলো এনে দেবে। আমি জানি, এই অনুদান খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু আশা করি এটা অন্তত কয়েকজনের জীবনে পার্থক্য গড়ে দেবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন