পাকিস্তান কদিন আগে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
পাকিস্তান কদিন আগে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ছবি: এএফপি

ভারতের মাটিতে এ বছরের অক্টোবরে হওয়ার কথা ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সে জন্য গত ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতের কাছে ভিসা আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এনে দিতে আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তা মেলেনি। সময় বাড়িয়ে এখন আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

কিন্তু এর মধ্যেও ভারতের কাছ থেকে ভিসা নিয়ে নিশ্চয়তা না এলে? পাকিস্তান হুমকি দিয়ে রেখেছে, তেমনটা হলে আইসিসির কাছে পাকিস্তান অনুরোধ করবে, বিশ্বকাপটাই ভারতের মাটি থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়া হোক।

পিসিবির চেয়ারম্যান এহসান মানি তেমনটাই জানিয়েছেন। এমনিতে ভারতকে কখনো ছাড় দিয়ে কথা বলেন না মানি, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার হুমকির পাশাপাশি পিসিবি চেয়ারম্যান নতুন করে খোঁচাও মেরেছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই)। বিশ্ব ক্রিকেটে ছড়িয়ে থাকা কথাটাই নতুন করে আবার বললেন। মানির চোখে, ভারত টাকা দিয়ে অন্য বোর্ডগুলোকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করে।

বিজ্ঞাপন

‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) বলেছিলাম ভারতের কাছ থেকে ভিসা ও নিরাপত্তা নিয়ে লিখিত অঙ্গীকার এনে দিতে। ভারত ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যদি ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতের দিক থেকে কোনো নিশ্চয়তাপত্র না আসে, সে ক্ষেত্রে পিসিবি আইসিসিকে বলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারত থেকে বদলে দিতে, সেটা হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত’—গতকাল পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজকে বলেছেন মানি।

default-image

খেলোয়াড় তো বটেই, পাকিস্তানের ক্রিকেটের সমর্থক, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা আর পাকিস্তান থেকে বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিক—সবার জন্যই ভিসার নিশ্চয়তা চেয়েছে পাকিস্তান।

প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক-কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাব তো ক্রিকেটে সব সময়ই পড়ে। ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আলোর মুখ দেখে না অনেক দিন হলো, ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলে খেলতে পারেন না পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা। এখন দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির প্রভাবটা বিশ্বকাপেও পড়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

মানিও সেটিই বললেন। পাকিস্তানের কখনো ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে আপত্তি ছিল না জানিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যানের কথা, ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানো একটা অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার। সৌরভ গাঙ্গুলীর (ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি) সঙ্গে আমার সম্পর্কটা খুব ভালো। তিনিও চান ভারতীয় দল পাকিস্তানে এসে খেলুক। কিন্তু তাঁদের সরকারই ক্রিকেটে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়।’

মানি কথা বলেছেন এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়েও। গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে পিছিয়ে যায় এশিয়া কাপ ক্রিকেট। এ বছরের জুনে সেটি হতে পারে, আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেখানেও বাগড়া বাধাতে পারে ভারতের সূচি।

তবে ভারতের এই রাজনীতির শিকার পাকিস্তান ক্রিকেট দল হবে না বলেও এর আগে অনেকবারই জানিয়েছেন মানি। নতুন করে আবার জানালেন আইসিসির কাছে তাঁদের পরামর্শের কথা, ‘তিন মোড়লের প্রতি ঝোঁকার মানসিকতা থেকে বেরোনো দরকার। বিসিসিআই অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে নিজেদের দিকে টানে। দেশের ভেতরে ও বাইরে সব পক্ষের কাছেই আমরা আমাদের ইচ্ছার কথা পরিষ্কার করে দিয়েছি, আর সেটি হলো ভারতকে ছাড়াই আমরা আমাদের ক্রিকেট এগিয়ে নিতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে মানি কথা বলেছেন আরও অনেক বিষয় নিয়ে। আগামী সেপ্টেম্বরে পিসিবি চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে সে ক্ষেত্রে আর থাকার ইচ্ছা নেই তাঁর, তবে পাকিস্তানের ক্রিকেটের তাঁকে ‘দরকার হলে’ তিনি থাকবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী মার্চের মধ্যে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।

default-image

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে পরিকল্পনায় বললেন, সেটিকে এমন জায়গায় রেখে যেতে চান, যাতে জাতীয় দলের বাইরেই জাতীয় দলে খেলার মতো ১০০ জন ক্রিকেটার রিজার্ভ হিসেবে থাকেন। পাশাপাশি মানি কথা বলেছেন এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে পিছিয়ে যায় এশিয়া কাপ ক্রিকেট। এ বছরের জুনে সেটি হতে পারে, আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেখানেও বাগড়া বাধাতে পারে ভারতের সূচি। মানির কথায় তেমনই আভাস, ‘শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টটার জন্য একটা উইন্ডো ঠিক করেছে। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বলে এই টুর্নামেন্টটাও টি-টোয়েন্টিই হবে। জুনে হওয়ার কথা। কিন্তু ভারত যদি জুনেই লন্ডনে হতে যাওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে উঠে যায়, সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্ট (এশিয়া কাপ) আরও পিছিয়ে যেতে পারে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন