দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাল শুরু হচ্ছে আইপিএল। আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দুই দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও চেন্নাই সুপার কিংস খেলবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিন স্টেডিয়ামে পুরো টুর্নামেন্টটি হবে জৈব নিরাপদ পরিবেশে।

টুর্নামেন্টের সব খবর সবার কাছে পৌঁছে দিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ধারাভাষ্যকাররা এর মধ্যেই আরব আমিরাতে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু আইপিএলের শুরু থেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নাম সঞ্জয় মাঞ্জরেকার থাকছেন না এবারের আইপিএল ধারাভাষ্যকারদের তালিকায়।

বিজ্ঞাপন
ইংরেজি ভাষা এখানে ভুল বোঝা হয়। বেশির ভাগ মানুষের জন্য ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষার মধ্যেও পড়ে না। বেশ কিছু কথার অর্থ সবাই পরিষ্কারভাবে বুঝে না।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, ভারতীয় ধারাভাষ্যকার

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণে ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকে মাঞ্জরেকারকে বাদ দিয়েছে। গত বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় বোলিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মাঞ্জরেকার। আরেক ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার পরও এমন ভুল করে বিপদেই পড়েছেন এই সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার।

চাকরি হারানোর পর বেশ কয়েকবার মাঞ্জরেকার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিসিসিআই বরাবর চিঠিও লিখেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এবারের আইপিএল হবে মাঞ্জরেকারকে ছাড়াই।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মাঞ্জরেকারকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্টার স্পোর্টসে না থাকলেও এবারের আইপিএলে বেশ কয়েকটি মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে দেখা যাবে মাঞ্জরেকারকে। যেমন ক্রিকইনফোর সঙ্গে মাঞ্জরেকারের সুসম্পর্ক বেশ পুরোনো। স্টার স্পোর্টসের চাকরি যাওয়ার পর নিয়মিত ক্রিকইনফোতে দেখা যাচ্ছে মাঞ্জরেকারকে। আইপিএল জুড়েও থাকবেন ক্রিকইনফোর সঙ্গে।

মাঞ্জরেকার নিজেই তা জানিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করাই ভালো। আমি ক্রিকইনফোর সঙ্গে প্রতি ম্যাচের আগে ও পরে থাকব। একটি নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে কথাবার্তার শেষ পর্যায়ে আছি। ফ্যান্টাসি লিগ প্ল্যাটফর্মে বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকব। কলাম লিখে যাব এবং এফএম রেডিও স্টেশনে থাকব।’

বিজ্ঞাপন

নিজের সমালোচকদেরও এক হাত নিয়েছেন সাবেক এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান। ইংরেজি ভাষা কম বোঝার কারণেই নাকি নিজের ধারাভাষ্যের ব্যবহৃত কিছু কথা নিয়ে এত সমালোচনা হয়েছে, ‘আমরা ভারতীয়রা সমালোচনার ক্ষেত্রে খুবই সংবেদনশীল। আরেকটা সমস্যা আছে, ইংরেজি ভাষা এখানে ভুল বোঝা হয়। বেশির ভাগ মানুষের জন্য ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষার মধ্যেও পড়ে না। বেশ কিছু কথার অর্থ সবাই পরিষ্কারভাবে বুঝে না।’

সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইনও একই বিপদে পড়েছিল। ১০ বছর আগে ভারতীয় দলের ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় ফিল্ডারদের সমালোচনা করতে গিয়ে ‘যারা খুব ধীরে চলে’ বলেছিলেন। মাঞ্জরেকার সেই উদাহরণ টেনে বলছেন, ‘নাসের হুসেইন একবার ভারতীয় ক্রিকেটারদের “ডাঙ্কি অন দ্য ফিল্ড” বলেছিলেন, যা ইংরেজিতে খুবই স্বাভাবিক কথা। এর অর্থ হচ্ছে যারা খুব ধীরে চলে। কিন্তু এটা নিয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়।’

মন্তব্য পড়ুন 0