কোহলিকে ওপেনার হিসেবে দেখতে চান কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার।
কোহলিকে ওপেনার হিসেবে দেখতে চান কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলির শুরুটা হয়েছে ওপেনার হিসেবে। ২০০৮ সালে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শুরু তাঁর ক্যারিয়ার। সেই ম্যাচে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নেমেছিলেন কোহলি। কিন্তু কয়েকটা ম্যাচ যেতে না যেতেই ব্যাটিং পজিশনটা বদলে ফেলেন তিনি। বর্তমানে টেস্টে তাঁর ব্যাটিং পজিশন চার, ওয়ানডেতে তিনি ব্যাটিং করেন তিন নম্বরে। আর টি-টোয়েন্টিতে কখনো কোহলি চারে নামেন, কখনো নামেন তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে কোহলি ব্যাটিং করেছেন তিন নম্বরে। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রান করে আউট হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন অপরাজিত ৭৩ রান। পরের ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করে দলকে জিতিয়েছেন কোহলি। পরের ম্যাচে আবার চার নম্বরে নেমে করেছেন মাত্র ১ রান। চারটি ম্যাচেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুল। যার কারণে ‘ফাইনাল’ বনে যাওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে কোহলিকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রানে জেতা গতকাল সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে একাদশে রাখেননি। রোহিত শর্মার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামেন কোহলি নিজেই। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ৬ বার ওপেন করেছেন কোহলি। তবে কাল টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস ওপেন করতে নামলেন ২৮ ইনিংস পর। সর্বশেষ তিনি টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস ওপেন করতে নেমেছিলেন ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৮ সালের ২৯ জুন। সেই ম্যাচে অবশ্য মাত্র ৯ রান করে আউট হয়েছিলেন কোহলি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কাল অবশ্য দারুণ সফল ওপেনার কোহলি। ৫২ বলে ৭টি চার ও ২টি ছয়ে করেছেন অপরাজিত ৮০ রান। তাঁর দুর্দান্ত এই ইনিংসে ভর করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তুলতে পারে। ওপেনিংয়ে কোহলির এমন ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আর বর্তমানে ক্রিকেট–পণ্ডিত ও ধারাভাষ্যকার চাইছেন, কোহলি স্থায়ীভাবে ওপেনার হয়ে যান।

default-image

কোহলিকে ভারতের হয়ে ইনিংস ওপেন করার পরামর্শ কেন দিচ্ছেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গাভাস্কার, ‘আপনার দলের সেরা ব্যাটসম্যানের অবশ্যই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যত বেশি ওভার সম্ভব ব্যাটিং করা উচিত। এ কারণেই কোহলির ব্যাটিং অর্ডারে ওপরের দিকে ব্যাট করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’ লোকেশ রাহুলের হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলাটা ভারতের জন্য আখেরে লাভ হয়ে এসেছে বলেই মনে করেন গাভাস্কার, ‘আমি তো মনে করি, লোকেশ রাহুলের ফর্ম হারিয়ে ফেলাটা আশীর্বাদ হয়েই এসেছে ভারতের জন্য। এর কারণে আমরা ভবিষ্যতে ওপেনিংয়ে নতুন করে সমন্বয় করার একটা সুযোগ পেয়ে গেছি।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওপেনার ছিলেন না। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে দলের সেরা এই ব্যাটসম্যানকে উইকেটে বেশি সময় দিতে টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে ওপেনিংয়ে নিয়ে যায়। আর এর সুফল ভারত সেই সময় খুব ভালোভাবেই পেয়েছে। কোহলিকে ওপেনার বনে যাওয়ার পরামর্শ দিতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গও তুলে এনেছেন গাভাস্কার, ‘শচীন টেন্ডুলকারও একসময় ওয়ানডেতে নিচের দিকে ব্যাটিং করত। কিন্তু তাকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর পর শুধু তার ব্যাটিংয়েই পরিবর্তন আসেনি, এটা পুরো দলের ব্যাটিংই বদলে দিল।’

বিজ্ঞাপন
default-image

টেন্ডুলকারের উদাহরণ টেনে কোহলির ওপেনার বনে যাওয়া প্রসঙ্গের উপসংহার গাভাস্কার টেনেছেন এভাবে, ‘তাই পরিষ্কারভাবেই আপনার সেরা ব্যাটসম্যানকে যত বেশি সম্ভব ওভার দিতে হবে।’

কে জানে, গাভাস্কারের এই পরামর্শ ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট আর অধিনায়ক বিরাট কোহলি ভেবে দেখবেন কি না! তাহলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে ভারত ‘নতুন’ একজন ওপেনার পেয়েই যেতে পারে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন