default-image

রেকর্ডটা মহেন্দ্র সিং ধোনির দখলে ছিল বহুদিন ধরে। সেই কবে ২০১৬ সালে ভারত দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, তবু এত দিন তাঁকে ধরার সম্ভাবনা কেউ জাগাতে পারেননি। অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে ৪১টি ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন ধোনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সে সময় তাঁর ধারেকাছে ছিলেন শুধু ড্যারেন স্যামি। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচে জয় পাওয়া স্যামি তো ২০১৬ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

রেকর্ডটা তাই ধোনির দখলে থাকবে বলেই মনে হয়েছিল। কারণ, এ দুজনের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছিলেন শুধু আসগর আফগান। বেশ দ্রুতগতিতে ধোনির পেছনে ছুটছিলেনও। কিন্তু সেই আসগর আফগানকে বিতর্কিত কারণে আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। একের পর এক তরুণকে অধিনায়ক বানালেও অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। গুলবদিন নাইব ও রশিদ খানদের হাত ঘুরে অবশেষে আসগর আফগানকে অধিনায়ক বানিয়েছে আফগানিস্তান। ফলও মিলছে।

আজ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪৭ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এ জয়ে শুধু প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করেনি তারা, অধিনায়ককে অনন্য এক অর্জনও এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে ম্যাচ জেতা অধিনায়ক এখন আসগর আফগান।

বিজ্ঞাপন

ভারতের হয়ে ৭২ ম্যাচে ৪১ ম্যাচ জিতেছিলেন ধোনি। গতকালই ৪১তম ম্যাচ জিতে তাঁর পাশে বসেছিলেন আসগর। আর আজকের জয়ে ধোনিকেও ছাড়িয়ে গেলেন। অনন্য এ কীর্তি গড়তে তাঁর ম্যাচ খেলতে হয়েছে ধোনির চেয়ে অনেক কম। মাত্র ৫২ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেই ৪২টি জয় পেয়েছেন আফগান। জয়ের হারের দিক থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ধারেকাছে নেই কেউ।

ম্যাচের একপর্যায়ে অবশ্য এ অর্জনের জন্য আসগর আফগানের অপেক্ষা বাড়বে বলে মনে হয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ৫৩ রান তুলে ফেলা আফগানরা হঠাৎ ছন্দ হারায় এরপর। পরের ৩ ওভারে রানের জন্য ভোগা আফগানিস্তান ৯ ওভার শেষ করেছে মাত্র ৫৭ রানে। দশম ওভারে ম্যাচের গতি পাল্টানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন করিম জানাত। শেষ ৩ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় সে ওভার থেকে ১৭ রান এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের ওভারেই আউট জানাত। দ্বাদশ ওভারে অন্য প্রান্ত থেকে বিদায় নিলেন উসমান গনিও। ১৬ ওভার শেষেও আফগানিস্তানের রান ছিল ১১৪। টেনেটুনে ১৫০ হবে বলেই মনে হচ্ছিল।

default-image

অধিনায়ক আসগরকে নিয়ে ম্যাচের মোড় এরপরই ঘোরালেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। দুজনে মিলে ১৯তম ওভারেই ১৫০ রান এনে দিয়েছেন। ১২ বলে ২৪ করে আফগান ফিরলেও নাজিব থামেননি। মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে শেষ ওভারেও ১৬ রান এনে দিয়েছেন। ৩৫ বলে ৭২ রানে থেমেছেন নাজিবুল্লাহ। অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৫ ছক্কা। ৭ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে আফগানিস্তান।

রান তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বস্তিতে ছিল না জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে তবু ৪০ রান তুলেছিল দলটি। কিন্তু এরপর আর রানের গতি তুলতে পারেনি তারা। ১০০ ছুঁতেই ১৭তম ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে তাদের। ১১তম ওভারে মাত্র ৫৬ রানে ৫ উইকেট হারানোটাই শেষ করে দিয়েছে দলটিকে। সিকান্দার রাজা (২৯ বলে ৪১) ও রায়ান বার্ল (৩১ বলে ৩৯) মিলে ৮০ রানের জুটি গড়ে শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন