>ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ কেমন, এই স্কোয়াডে সেটি কেবল মুশফিকুর রহিমেরই জানা। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টেই সেঞ্চুরি আছে মুশফিকের, সেটিও আবার ভারতের মাটিতেই। সাকিব-তামিমকে ছাড়া আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজেও তাই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা হবেন তিনিই।

দুই বছর আগে যেবার সর্বশেষ ভারত সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ, মুশফিকুর রহিম ছিলেন অধিনায়ক। এবার অধিনায়কত্বের ব্যাটন তাঁর হাতে নেই। বিরাট কোহলির সঙ্গে আগামীকাল টস করতে নামবেন মুমিনুল হক। তবে অধিনায়কত্ব না থাকলেও মুশফিকের গুরুদায়িত্ব কিন্তু কমছে না একটুও। ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে সাফল্য পেতে তাঁর ব্যাটের দিকেই যে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের সমর্থকেরা।

স্কোয়াডে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মতো নির্ভরযোগ্য দুজন ব্যাটসম্যান না থাকায় এমনিতেই মুশফিকের ওপর দায়িত্বটা এবার বেশি। দায়িত্বটা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডের বাকি ব্যাটসম্যানদের অতীত পারফরম্যান্স। মুশফিক ছাড়া স্কোয়াডের আর কোনো ব্যাটসম্যানের যে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি নেই!

default-image

ক্যারিয়ারে ভারতের বিপক্ষে চারটি টেস্টে মাঠে নেমেছেন মুশফিক। বর্তমান টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিপক্ষে মুশফিকের পারফরম্যান্স বেশ ভালোই বলতে হবে। ৪ টেস্টে রান করেছেন ৩৩৭। ক্যারিয়ারের ৬ টেস্ট সেঞ্চুরির ২টিই ভারতের বিপক্ষে। ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৪.৭৩, ভারতের বিপক্ষে সেটি ৫৬.১৬।

ভারতের মাঠে টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ কেমন, সেটিও এই স্কোয়াডে কেবল মুশফিকেরই জানা। ২০১৭ সালে সর্বশেষ সফরে এসে হায়দরাবাদে খেলেছিলেন ১২৭ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস। যদিও ম্যাচটি বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, তবুও অশ্বিন-জাদেজাদের সামলে খেলা মুশফিকের ইনিংসটি ছিল দুর্দান্ত।

ভারতের বিপক্ষে মুশফিকের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা এসেছিল অবশ্য ৯ বছর আগে, সেটিও আবার পড়শি দেশের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টেই। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসেও করেছিলেন ৪৪ রান। মুশফিক ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারলে হয়তো ১১৩ রানে হারা টেস্টটার ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।

এই স্কোয়াডে মুশফিকের পর টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। সেঞ্চুরি না পেলেও ভারতীয়দের বিপক্ষে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস আছে তাঁর। এর মধ্যে ২০১০ সালের ঢাকা টেস্টে ৮ নম্বরে নেমে খেলেছিলেন অপরাজিত ৯৬ রানের একটি ইনিংস। অপর প্রান্তে সঙ্গীহারা হয়ে না পড়লে সেঞ্চুরির দেখাটাও হয়তো পেয়ে যেতেন। ওই সিরিজে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছিলেন, আট নম্বরে ব্যাট করা বিশ্বের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। ওই সিরিজেরই চট্টগ্রাম টেস্টেও ৬৯ রানের একটি ইনিংস ছিল তাঁর। আর ভারতের মাটিতে সর্বশেষ টেস্টেও আছে ৬৪ রানের একটি ইনিংস।

সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান, মোহাম্মদ মিঠুনরা প্রথমবার ভারতে টেস্ট খেলতে গেছেন। টেস্ট সেঞ্চুরির দিক থেকে এই স্কোয়াডের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের রেকর্ডও ভারতের মাটিতে খুব একটা ভালো নয়। বড় সংগ্রহের জন্য তাই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহই বড় ভরসা হবেন বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন