default-image

কোনো সিরিজের আগে ভবিষ্যদ্বাণী করলে কী হয়, সেটা ভালোভাবেই টের পেয়েছেন মাইকেল ভন। গত বছরের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া-ভারত ওয়ানডে সিরিজ মাত্র শুরু হয়েছে, এমন অবস্থায় সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, টেস্টে ভারত পাত্তা পাবে না। নিজের ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর আস্থা রেখে কদিন পর আরও জোর আওয়াজ তুললেন, যখন সিরিজের প্রথম ম্যাচের পরই বিরাট কোহলি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ভন বলেছিলেন, কোহলির উপস্থিতিতে প্রথম ম্যাচেই ভালো না করলে ভারত ধবলধোলাই হবে। কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত ৩৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অ্যাডিলেডে। তখন পর্যন্ত ভনের কথাই সঠিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু সিরিজ শেষ কী ঘটেছে, সেটি সবারই জানা। অস্ট্রেলিয়াকে খর্বশক্তির এক দল নিয়েই ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এসেছে ভারত। তাই ভবিষ্যদ্বাণী করাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; যতই শর্ত জুড়ে দেওয়া হোক না কেন।

নিখিল চোপরা তবু ভবিষ্যদ্বাণী করার লোভ সামলাতে পারলেন না। ৫ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড। চার টেস্টের এ সিরিজ শেষ হবে মার্চে। সাবেক ভারতীয় স্পিনার ও বর্তমান বিশ্লেষক বলেছেন, ভারতের সামনে ইংল্যান্ড গুঁড়িয়ে যাবে। আর সেটি আটকানোর উপায় একটাই, ইংলিশ স্পিনারদের ফর্মে থাকা।

default-image
বিজ্ঞাপন

ভারতের হয়ে ১৯৯৯ বিশ্বকাপ খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল চোপরার। অফ স্পিন বোলিং ও শেষ দিকে কিছুটা পিঞ্চ হিটিংয়ের ক্ষমতা তাঁকে ৩৯টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল। ওয়ানডে স্পেশালিস্ট তকমা লেগে যাওয়া চোপরা একটি টেস্ট খেলারও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘরের মাঠের সে টেস্টই তাঁর শেষ হয়ে ছিল। ভারতের উইকেট মানেই যে স্পিনারদের জন্য স্বর্গ, সে কথা ভুল প্রমাণ করেছিলেন চোপরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টে ২৪ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন চোপরা। ইংলিশ স্পিনারদেরও সতর্ক করে দিলেন। বলে দিলেন, ভারতের উইকেটে নিজের সেরাটাই দেখাতে হবে জ্যাক লিচ ও ডম বেসকে।

গত মাসেই শ্রীলঙ্কা সফর করেছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করে এসেছে সফরকারীরা। সিরিজের সেরা হয়েছেন অধিনায়ক জো রুট। কিন্তু দুই টেস্ট জয়েই দারুণ অবদান ছিল বাঁহাতি স্পিনার লিচ ও অফ স্পিনার বেসের। প্রথমবারের মতো ভারত সফর করছেন এই দুজন। চোপরার ধারণা, এ দুজন কেমন করেন, সেটার ওপরই ভারতের ভাগ্য নির্ভর করছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কলামে চোপরা লিখেছেন, ‘আমার মতে এখানেই সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে—ভারতের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ইংলিশ স্পিনাররা কেমন বল করে। তারা যদি ওদের পেস বোলিং আক্রমণকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারে, তাহলে ইংল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। কিন্তু ওরা যদি অতীতের অন্য স্পিনারদের মতো ভেঙে পরে, ভারত ঘরের মাঠে ওদের গুঁড়িয়ে দিয়ে আরেকটি টেস্ট সিরিজ জিতবে।’

২০১৬ সালে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিল ইংল্যান্ড। পাঁচ টেস্টের সিরিজে দাপট ছিল স্পিনারদের। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা মিলে ৫৪ উইকেট নিয়েছিলেন। ওদিকে ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ ও মঈন আলী পেয়েছিলেন ৩৩ উইকেট। ফলাফলটাও তেমন হয়েছে। সিরিজে মাত্র একটি ম্যাচ ড্র করতে পেরেছিল অ্যালিস্টার কুকের দল। বাকি সব কটিতেই হেরেছিল দলটি। ২০১২ সালে এর ঠিক উল্টো হয়েছিল। চার টেস্টের ওই সিরিজে দুই স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান ও মন্টি পানেসার ৩৭ উইকেট পেয়েছিলেন। সেবার সিরিজও জিতেছিল ইংলিশরা।

এবারও ডানহাতি ও বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিনার জুটি নিয়ে ভারতে গিয়েছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কায় দুই ম্যাচে বেস (১২) ও লিচ (১০) মিলে ২২ উইকেট পেয়েছেন। দারুণ ফর্মে থাকা এ দুজনের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ইংল্যান্ড। তবে নিখিল চোপরার ধারণা, শ্রীলঙ্কায় যে সাফল্য পেয়েছেন এ দুজন, সেটা ভারতে পাওয়া কঠিন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় বেস ও লিচ দুজনই সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা আরও গোছানো এবং আরও পরিণত। ফলে, এখানে আরও প্রতিরোধের মুখে পড়বে তারা। ইংলিশ স্পিনারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজেদের দক্ষতা ও পরিকল্পনা পরিবর্তন করা সহজ না। বিশেষ করে যখন উইকেট পাবেন না, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বেস ও লিচ ওভাবে মুড়িমুড়কির মতো উইকেট পাবে না ভারতে।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী ভারতের দুর্দশার পূর্বাভাস দিয়ে পরে ক্ষমা চেয়েছিলেন ভন। এবার ভারতের মাটিতে আরেক সফরকারী দল নিয়ে মন্তব্য করে পরে চোপরাকে কী করতে হয়, দেখার এখন সেটিই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন