খেলা নেই, প্রেসবক্সেও তাই ঢিলেঢালা ভাব। খেলা সম্প্রচারের কাজে আসা টেলিভিশন ক্রুদের হাতেও অখণ্ড অবসর। হাতে ক্যামেরা নিয়ে, মনিটরে চোখ রেখেই খেলার সময়টা কাটে তাঁদের। আজ সেই ব্যস্ততা না থাকায় তাঁরাই নেমে গেলেন খেলতে। মাঠে নয় অবশ্য, সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ও সম্প্রচারকক্ষের মাঝের করিডোরে হলো টেলিভিশন ক্রুদের ক্রিকেট ম্যাচ। তাঁদের বেশির ভাগই ভারত ও ইংল্যান্ডের বলে প্রীতি ম্যাচটাও হলো ‘ভারত’ আর ‘ইংল্যান্ডে’র মধ্যেই। সেই ম্যাচে ব্যাট বানানো হলো স্টাম্পকে, স্টাম্পের জায়গা নিল প্লাস্টিকের চেয়ার।

মিরপুরে টেলিভিশন ক্রুদের এই ম্যাচ মনে করিয়ে দিচ্ছিল পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আসিফ ইকবাল ও ইংল্যান্ডের ড্যারেক আন্ডারউডের স্মৃতি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৯৭৮ সালে ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের ম্যাচ চলছিল অস্ট্রেলিয়া একাদশ ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে। ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় বিশ্ব একাদশের দুই ক্রিকেটার আসিফ ও আন্ডারউড মিলে ড্রেসিংরুমেই স্টাম্প দিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। তাঁদের সেই খেলার ছবি ক্রিকেট ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে আজও।

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা আজ বৃষ্টি–বিরতির অফুরন্ত অবসর সময়টা কীভাবে কাটিয়েছেন, সেটা অবশ্য পুরোপুরি জানা যায়নি। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ গিয়েছিলেন একাডেমির জিমে। বৃষ্টি থামলে মাঝে একবার ছাতা মাথায় ইনডোরে গিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন সাকিব। ঘণ্টাখানেক পর ফিরেছেন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে।

ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে মাঝমাঠে এসে সাকিব যেটা করলেন, সেটাকে বলতে পারেন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের একমাত্র চুম্বক অংশ। উইকেটের কভারের ওপর বৃষ্টির পানি জমে ছিল। দৌড়ে এসে সেই পানিতে স্লাইড করলেন সাকিব, যেন ফিরে যেতে চাইলেন শৈশবে! সঙ্গে ৬.২ ওভার খেলা হওয়ার দিনে ফটোসাংবাদিকদের দিলেন ক্যামেরার শাটার ফেলার মোক্ষম এক উপলক্ষও।