ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত ওয়ানডে খেলার সুযোগ সম্ভবত হচ্ছে না হার্দিকের।
ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত ওয়ানডে খেলার সুযোগ সম্ভবত হচ্ছে না হার্দিকের।ছবি: এএফপি

ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ড। জনি বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকস মিলে ৩৩৬ রানকেও মামুলি বানিয়ে দিয়েছেন গতকাল। পুনেতে ভারতীয় বোলিংয়ের এই দুর্দশা ভাবিয়ে তুলেছে সাবেক ক্রিকেটারদের। দলের ব্যাটিং নিয়েও কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছেন। এতটা সাবধানী শুরু না করলেও পারত কি না, সে আলোচনা চলছে। তবে বোলিং নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিধা নেই। ভারত যে পঞ্চম বোলারের অভাবে ভুগছিল, সেটা বুঝতে পেরেছেন সবাই।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ভারতের পঞ্চম বোলারের দায়িত্ব পালন করেছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত ক্রুনাল খারাপ করেননি। ওয়ানডে অভিষেকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়ে ১০ ওভারের কোটাও পূরণ করেছিলেন। বাঁহাতি স্পিনে ১০ ওভারে ৫৯ রান দেওয়ার পাশাপাশি ১ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেই দেখিয়ে দিয়েছে, কেন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেতে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে।

সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিশ্লেষক সুনীল গাভাস্কার বলছেন, ক্রুনালকে পঞ্চম বোলার ধরে এগোতে চাইলে ভুল করবে ভারত। পঞ্চম বোলার হিসেবে তাঁকে খেলানোর কোনো কারণও দেখছেন না গাভাস্কার।

বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল ভুলে যাওয়ার মতো এক ম্যাচ কেটেছে ক্রুনাল পান্ডিয়ার। মাত্র ৬ ওভার বল করতে পেরেছেন। এর মধ্যে তাঁর এক ওভারেই ২৮ রান তুলেছিলেন বেন স্টোকস। ৬ ওভারে ৬ ছক্কা খেয়ে ৭২ রান দিয়েছেন ক্রুনাল। স্টার স্পোর্টসে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের ভুল কোথায় ছিল, এ নিয়ে আলোচনা করছিলেন গাভাস্কার। সেখানেই ভারত দলের পরিকল্পনায় গলদটা খুঁজে পেয়েছেন, ‘আমি বলব, ভারত দলের বোলিং একটু দুর্বল ছিল। কারণ, ক্রুনাল পান্ডিয়া আপনার পঞ্চম বোলার হতে পারে না। কারণ, সে এমন বোলার নয় যে ১০ ওভার বল করতে পারে। এমন উইকেটে আপনার যুজবেন্দ্র চাহালের মতো বোলার লাগবে, যে ১০ ওভার করতে পারে।’

ভারতের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে অন্য পান্ডিয়ার চোট। দীর্ঘ মেয়াদি চোট থেকে সেরে ওঠা হার্দিক পান্ডিয়া টি-টোয়েন্টিতে বল করলেও এখনো ওয়ানডেতে নিয়মিত বল হাতে নিচ্ছেন না। ফলে এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে বোলিংয়ের সুবিধা আপাতত পাওয়ার সুযোগ নেই ভারতের। ফলে দলে থাকা অন্য অলরাউন্ডারকে পূর্ণ ১০ ওভার করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাই দুই পান্ডিয়া ভাইকে খেলানো যে ভুল হচ্ছে, সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন গাভাস্কার, ‘পান্ডিয়া ভাইয়েরা মিলে ১০ ওভার করতে পারে। কিন্তু ভারত দল যদি ভালো করতে চায় এবং আগামী ম্যাচ জিততে চায়, তবে তাদের চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ বোলার নিয়ে খুব ভালোভাবে ভাবতে হবে।’

default-image

যশপ্রীত বুমরা ও মোহাম্মদ শামির মতো বোলারদের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাচ্ছে না ভারত। ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে নতুন বল ভাগাভাগি করছেন প্রসিধ কৃষ্ণ ও শার্দূল ঠাকুর। তিনজনই দুই ম্যাচেই ভালো করেছেন। গতকাল রানবন্যার মাঝেও এ তিনজন রান আটকে রেখেছিলেন। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম বোলার ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ক্রুনালের ৭২ রানের পাশে বাঁহাতি লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদব ১০ ওভারে ৮৪ রান দিয়েছেন। এ দুজনের ১৬ ওভারেই ১৫৬ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। এ সময়টুকুই ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।

২৮ মার্চের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাই দলে কিছু পরিবর্তন চান গাভাস্কার, ‘বেন স্টোকস ও জনি বেয়ারস্টোর ওপর কোনো চাপ ছিল না। ভারত দলে যদি যুজবেন্দ্র চাহাল বা রবীন্দ্র জাদেজার মতো স্পিনার থাকত, তাহলে গল্পটা অন্য রকম হতেও পারত। আপনি যদি ক্রুনাল পান্ডিয়াকে সাতে খেলান, এর মানে হলো, আপনি তাঁকে বোলার হিসেবেই দেখছেন যে ব্যাট করতে জানে। কিন্তু এটা কি আসলেই তাঁর জায়গা? তাঁকে যদি পাঁচ বা ছয় নম্বরে ব্যাট করে এবং ৪/৫ ওভার বল করে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু ভারত দলে পাঁচ বোলার দরকার। আর ষষ্ঠ বোলার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া থাকতে পারে যে ৩-৪ ওভার করবে।’

ভারতের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপে ঋষভ পন্তকে পাঁচে নামতে হচ্ছে। আর পন্ত না থাকলে লোকেশ রাহুলের মতো টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানকে খেলতে হচ্ছে পাঁচে। আবার ছয়ে খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া, যিনি আপাতত বোলিং করছেন না। এই অবস্থায় ক্রুনাল পান্ডিয়ার যে পাঁচে নামা হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত। আর ভারতের টপ অর্ডার যেমন খেলছে, তাতে সাতে ক্রুনালকে না খেলিয়ে পরের ম্যাচে শার্দূলকে ওপরে টেনে আরেকজন পরিপূর্ণ স্পিনার নামানোর পরামর্শ দিচ্ছেন সবাই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন