default-image

২০০৩ সালের ভালোবাসা দিবসটির কথা মনে আছে কজনের? প্রসঙ্গটি অবশ্য খুব একটা রোমান্টিক নয়। সে বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের ম্যাচে লড়াইয়ে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্য কিছু মনে না থাকলেও সেদিনের ম্যাচে চামিন্ডা ভাসের হ্যাটট্রিকটি নিশ্চয়ই বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দগদগে ঘা হয়ে আছে এখনো। ইনিংসের একদম প্রথম তিনটি বলেই একে একে সাজঘরমুখো হন হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও এহসানুল হক। সেই এক ওভারে চারটি উইকেট ফেলে দিয়ে ভাস তছনছ করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ইনিংস।

ভালোবাসা দিবসে এতটা খুনে মেজাজে ভাস না থাকলেও পারতেন। মজার ব্যাপার হলো, আজও ভালোবাসা দিবসে সেই বিশ্বকাপেই হলো আরেক হ্যাটট্রিক। পার্থক্য কেবল, ভাস করেছিলেন ইনিংসের প্রথম তিন বলে। ফিন ৫০তম ওভারের শেষ তিন বলে।
আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক দেখেছে আটটি। ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করে ইতিহাসে নিজের নাম পাকাপোক্ত করে ফেলেন ভারতীয় বোলার চেতন শর্মা। সেবারের অন্যতম স্বাগতিক ছিল ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাগপুরে তিনজন ব্যাটসম্যানকে সরাসরি বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান এই পেসার।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১২ বছর। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওভালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন পাকিস্তানের সাকলায়েন মুশতাক। ঘূর্ণি জাদুতে একে একে আউট করেন গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, জন রিনি ও অ্যান্ড্রু হুইটালকে। ২০০৩ বিশ্বকাপে ভাস ছাড়াও আরেকটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার ব্রেট লি। প্রতিপক্ষ ছিল দুর্বল কেনিয়া।
পর পর দুটো বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার একমাত্র অর্জনটি ‘সিলিঙ্গার’ লাসিথ মালিঙ্গার। ২০০৭ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা চারটি উইকেট নেন মালিঙ্গা। সেটি ছিল ডাবল হ্যাটট্রিক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম ও একমাত্র নজির। গত বিশ্বকাপে মালিঙ্গার হ্যাটট্রিকটি ছিল কেনিয়ার বিপক্ষে। ২০১১ বিশ্বকাপেই দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় হল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেমার রোচ। সেিটও ছিল এই ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারিতেই।
বোলাররা বুঝি ব্যাটসম্যানদের একদমই ভালোবাসেন না!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন