default-image

এক বছরের বেশি হলো, তিনি কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি। এটা যদি স্বস্তি হয়; বাংলাদেশ দলের জন্য বড় অস্বস্তি, সর্বশেষ পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচই খেলেছেন বাংলাদেশের মাটিতে। তবে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি।
বলা হচ্ছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথা, রেকর্ড ঘেঁটে যার ফর্ম অনুমান করা বিরাট বোকামিই হবে। বরং এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা বোলারদের কাছেও যে ওটাই দুঃস্বপ্নের অন্য নাম, তা মনে রেখে এগোনোই ভালো। এক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি না খেলাটাও তার জন্য কোনো সমস্যা নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটটাও যে ডি ভিলিয়ার্স টি-টোয়েন্টির মতো করেই খেলেন! গত বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। আট ম্যাচে ৪৮২ রান করেছেন ৯৬.৪০ গড়ে। সিডনিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর সেই ভয়ংকরতম চেহারাটাও নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরির পর অপরাজিত ছিলেন ৬৬ বলে ১৬২ রানে। এর কিছুদিন আগেই মাত্র ৩১ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে গড়েছেন ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।
সেই এবি ডি ভিলিয়ার্স এখন বাংলাদেশে। টেস্ট সিরিজে খেলবেন না। তবে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে আছেন। আছেন বাংলাদেশের জন্য ভয়ের প্রতিশব্দ হয়েই। ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচ সে ভয় আরেকটু বাড়িয়ে দিচ্ছে। না, পরশু তেমন একটা তাণ্ডব ছড়ায়নি তাঁর ব্যাট। ১৯ বলে ২৫ করে অন্যদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে অবসর নিয়ে নিয়েছেন। এবিকে নিয়ে ভয়টা আসলে অন্যখানে। এমনিতে চার-পাঁচে ব্যাট করলেও প্রস্তুতি ম্যাচে ওপেন করলেন। কাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি আভাস দিলেন, ‘হ্যাঁ, এবিকে এবার একটু আগে নামানোর চিন্তাভাবনা আছে আমাদের। সেটা ওপেনিংয়েও হতে পারে, আবার তিন নম্বরেও হতে পারে। এখনো আমরা এটা নিয়ে ভাবছি।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের মতো ব্যাটসম্যান যত দেরিতে উইকেটে আসে, প্রতিপক্ষের জন্য ততই মঙ্গল। এই সিরিজে তাহলে বাংলাদেশের বোলারদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা একেবারে শুরুতেই। যদিও বাংলাদেশ দল সূত্র জানাচ্ছে, ডি ভিলিয়ার্স যে জায়গাতেই ব্যাট করতে নামুক, তাকে নিয়ে বোলিং পরিকল্পনা বদলাবে না। ডি ভিলিয়ার্স চার নম্বরে নামবেন, এটা ধরেই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আগে নামলেও পরিকল্পনা একই থাকবে।
ভাবতে পারেন, সারা বিশ্বের বোলারদের কাছে যিনি ‘ত্রাসের রাজা’, তাঁকে কি তবে বাংলাদেশ কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না! আসলে ব্যাপারটা উল্টো। ডি ভিলিয়ার্সের বিপক্ষে কোনো পরিকল্পনাতেই কোনো কাজ হবে না ভেবেই তাঁকে নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নয় বাংলাদেশ শিবির। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তো কাল হাসতে হাসতে বলেই দিলেন, ‘একটা ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়েও ব্যাট করতে পারে, শুয়েও ব্যাট করতে পারে, আবার উল্টোও ব্যাট করতে পারে—তাঁকে নিয়ে এখন আপনি কী পরিকল্পনা করবেন! এর চেয়ে আমরা আমাদের সেরা বোলিং করার চেষ্টা করে যাব, সেই ভালো। ভুল সবাই-ই করে। সে-ও তো মানুষ...।’
ডি ভিলিয়ার্সের আগে নামা বা পরে নামাতে অবশ্য খুব পার্থক্য দেখছেন না মাশরাফি, ‘যে জায়গাতেই নামুক, সে তার কাজ করে দেবে। চার নম্বরে নেমেও অল্প সময়ে অনেক রান করে ফেলার সামর্থ্য আছে ওর। তার চেয়ে আগে নামলে ওকে আগে ফেরানোর একটা সম্ভাবনা থাকে।’
আগের দিন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও প্রায় একই কথা বলে গেছেন। সঙ্গে হেসে বলেছেন, ‘এবিকে আমরা বল করব আর প্রার্থনা করে যাব, যেন সে দ্রুত আউট হয়ে যায়।’ এবি ডি ভিলিয়ার্স ব্যাটিং করার সময় সব প্রতিপক্ষই সম্ভবত তা-ই করে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0