দলগুলোও তাই এই মাঝের ওভারের খেলাটা জিততে চায় আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে। মূল ব্যাটসম্যানের রানের চাপে ফেলে ভুল শট খেলতে বাধ্য করলেই হলো। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বরাবরই ধারাবাহিক দল। গত দুই বছরে তো সেই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে মাঝের ওভারের সেরা বোলিং দলের তালিকার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

default-image

২০১৯ সাল থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ১১-৪০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের দলের ইকোনমি রেট মাত্র ৪.৫৭, যা টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। নিউজিল্যান্ড (৪.৬৪), আফগানিস্তান (৪.৬৬), শ্রীলঙ্কা (৫.১৩) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫.১৬) আছে বাংলাদেশের পরেই। ম্যাচের এ সময় খরুচে দলগুলোর মধ্যে আছে ইংল্যান্ড (৫.১৭), দক্ষিণ আফ্রিকা (৫.১৭), অস্ট্রেলিয়া (৫.২৫), পাকিস্তান (৫.৬৮) ও ভারত (৫.৭৭)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের কথাই ধরুন। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে মাঠ ভেজা থাকায় ম্যাচটা ৪১ ওভারে কমিয়ে আনা হয়। মাঝের ওভারও কমে আসে তাতে। ৮ ওভার থেকে ৩৩ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটির মাঝের ওভার ধরা হয়।

এ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬টি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল, রান দিয়েছে মাত্র ৮৪। এর সঙ্গে যদি ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-র ১ উইকেট জুড়ে দেওয়া যায়, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেথ ওভারে ঢোকার আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। খেলা ততক্ষণে বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়।

default-image

শুধু কি তাই! চাপ সৃষ্টির কাজটা বাংলাদেশ দলের বোলাররা করেছেন ডট বল দিয়ে। ৪১ ওভারের ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডট বলই খেলেছে ১৬১টি! কী স্পিন, কী পেস – বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ে যেন রান করারই উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না ক্যারিবীয়রা। শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলে চাপমুক্ত হওয়ার চেষ্টায় আউট হয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের বোলিং কৌশলই এটি। পাওয়ার প্লে-টা যেমনই হোক, মাঝের ওভারে ৩০ গজের বাইরে ৪ ফিল্ডার রেখে ম্যাচটার নিয়ন্ত্রণ ঠিকই দখলে নেয় বাংলাদেশ দল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন