default-image

মানুকা ওভালে গিয়ে কাল দুটি ইতিবাচক খবর পেল বাংলাদেশ দল, যা আফগানিস্তান ম্যাচের আগে হতে পারে বাড়তি স্বস্তির কারণ।
প্রথমটি, ১৮ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও মাঠের কিউরেটর নাকি আশ্বস্ত করেছেন, বৃষ্টি হলেও সমস্যা নেই। পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা খুব ভালো। মুষলধারে বৃষ্টি না হলে খেলায় বিঘ্ন ঘটবে না।
দ্বিতীয়ত, মাঠটা অনেক বড় হওয়ায় স্পিনারদের সুবিধা হবে। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের বিশ্বাস, ‘সোজাসুজি ৮০ গজ, দুই পাশে কমপক্ষে ৭০ গজ তো হবেই। এত বড় মাঠে আফগানদের ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিং ক্যাচের ফাঁদ তৈরি করবে। আমাদের স্পিনারদের জন্য এটা একটা বাড়তি সুবিধা।’
প্রথম ম্যাচের ভেন্যু মানুকা ওভালে বাংলাদেশ দল প্রথম অনুশীলন করবে আজ। তবে কাল দুপুরে কিপ্যাক্স ওভাল থেকে অনুশীলন সেরে হোটেলে ফেরার সময় মাঠটা দেখতে গিয়েছিল পুরো দল। মাঠের আয়তন বা পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা ছাড়াও মানুকা ওভালের আরেকটা ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে উঠছেন মাহমুদ। সেটা অবশ্য যতটা না মাঠ দেখে, তার চেয়ে বেশি বিশ্বকাপে কাল পর্যন্ত হওয়া ম্যাচগুলো দেখে, ‘প্রতিটা ম্যাচেই তিন শর ওপরে রান উঠছে। আমার ধারণা, বিশ্বকাপের সব উইকেটই ওরা এ রকম বানিয়েছে...সবখানেই রান হবে। প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ও রকম উইকেট না পেলেও ম্যাচের উইকেট ভালো হবে আশা করি।’
একই ধারণা ক্রিকেটারদেরও। বিশ্বকাপে কাল পর্যন্ত হওয়া চারটি ম্যাচ দেখে তাঁরা মনে করছেন, এই বিশ্বকাপে রানেরই খেলা হবে। যা করতে হবে, ব্যাট হাতেই। ‘ছেলেরা সবাই ম্যাচে চোখ রাখছে। সবাই বুঝতে পারছে রান না করলে হবে না’—কাল মুঠোফোনে বলছিলেন ম্যানেজার। দুটি ‘আনঅফিশিয়াল’ এবং দুটি ‘অফিশিয়াল’ প্রস্তুতি ম্যাচে খুব বেশি বড় ব্যক্তিগত ইনিংস পায়নি বাংলাদেশ। তবে মাহমুদ এতে উদ্বিগ্ন নন, ‘মাহমুদউল্লাহ তিন ম্যাচে রান করেছে। তামিম, সাকিব, মুশফিক সবাই কিছু না-কিছু রান করেছে। এগুলো কাজে লাগবে।’

default-image


তবে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর হারের হতাশা একটু আছেই। অনুশীলন শেষে সাংবাদিকেরা প্রসঙ্গটা তুললে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে স্বীকার করলেন, ‘হার জিনিসটা কখনোই ভালো নয়। অবচেতনে হলেও কিছু ব্যাপার তো কাজ করবেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে খেলোয়াড়েরা এই কন্ডিশনে ভালো খেলে।’ প্রশ্ন হয়েছে প্রথম ম্যাচের দলের সমন্বয় নিয়েও। কোচ ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট। ব্রিসবেনের সুযোগ-সুবিধা ভালো ছিল। এখানেও এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি ভালো। কম্বিনেশনের ব্যাপারে আমরা ভালোভাবেই জানি কী করতে হবে।’ দলসূত্রে অবশ্য জানা গেছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের তিনে মুমিনুলের বদলে সৌম্যকে খেলানোর চিন্তাই নাকি বেশি কাজ করছে হাথুরুসিংহের মাথায়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যের ৪৫ রানের আত্মবিশ্বাসী ইনিংসই এর কারণ।
প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান হলেও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ বলে বাংলাদেশ দলের ওপর একটা চাপ থাকবেই। কোচ সেটা মানেন, তবে বিশ্বকাপ শুরু করতে চান জয় দিয়েই, ‘প্রথম ম্যাচে জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কিছু করার দিকেই সবার দৃষ্টি। আমার মনে হয় আমরা যদি আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, ভালো লড়াই হবে।’ আর চাপ, প্রত্যাশা—এই বিষয়গুলো তাঁর চোখে ইতিবাচক, ‘প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান হোক কিংবা অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড, একটু স্নায়ুচাপ থাকা খারাপ নয়। আমি মনে করি এটা ভালো খেলার প্রত্যাশা থেকেই আসে এবং তা ভালো।’
ক্রিকেটের তিন সংস্করণেরই সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা কখনোই খুলে বলেন না হাথুরুসিংহে। কিন্তু কাল সাকিবের প্রসঙ্গ উঠতেই কোচ একেবারেই খোলামেলা, ‘আশা করি সে ভালো ফর্মে থাকবে। দলের সাফল্যে মূল ভূমিকা রাখবে। সাকিব মেলবোর্ন রেনিগেডসের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলেছে। ও একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বোলার হিসেবেও খুব বুদ্ধিমান।’ অবশ্য শুধু সাকিব নন, বিশ্বকাপ মঞ্চে দলের তরুণেরাও কিছু করে দেখাবেন বলে আশা হাথুরুসিংহের।
সঙ্গে অবশ্য শঙ্কার কথাটিও বলে রাখলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটি আর জল-হাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা যে বাংলাদেশ দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই নেই!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন