মাশরাফির '২৫০' এবং সেই পুরোনো আক্ষেপ

বিজ্ঞাপন
default-image
>

আফগানিস্তানের বিপক্ষে কাল ২ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন মাশরাফি

সপাটে চালিয়েছিলেন হাশমতউল্লাহ শহিদি। বলের লাইন ও লেংথও ছিল চালানোর মতো লোভনীয়। কিন্তু আফগান ব্যাটসম্যান মাশরাফির চাতুরী ধরতে পারেননি। ওটা ছিল স্লোয়ার। ব্যস, যা হওয়ার তা–ই হলো। আগেই শট খেলে ফেলায় বলটা হাশমতউল্লাহর ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানল স্ট্যাম্পে। তখন বাংলাদেশের সমর্থকদের ঠিক কী মনে হয়েছে? ২৫০ উইকেট নিতে মাশরাফির ১৭ বছর লেগে গেল!

মাশরাফির অভিষেক ২০০১ সালে। তাঁর ১০ বছর পরে অভিষিক্ত হয়ে ২০টি ওয়ানডে বেশি খেলেছেন বিরাট কোহলি। এমন আরও অনেকেই আছেন। তবু মাশরাফি ছুটে চলছেন। পায়ের সাত-সাতটি অস্ত্রোপচার তাঁকে দমাতে পারেনি। এই চোটের ভয়াল গ্রাসে চলে গেছে তাঁর ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সোনালি সময়। যেটুকু বাকি আছে, তা পুঁজি করেই মাশরাফি পেয়ে গেলেন আড়াই শ উইকেটের দেখা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেট শিকারের গৌরবতিলক এখন তাঁর। মাশরাফির এই অনন্য অর্জনে আনন্দের চেয়ে কি আক্ষেপ বেশি? চোটে না পড়লে আজ তিনি কোথায় থাকতেন! তিন শ, সাড়ে তিন শ কিংবা চার শ? কে জানে!

চোট তাঁকে পিছিয়ে দিলেও শুধু মনের জোর দিয়েই ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ টপকে গেছেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’কে। আর বেশ আগেই মাশরাফির পেছনে পড়েছেন তাঁরই বোলিং গুরু কোর্টনি ওয়ালশ (২২৭), হিথ স্ট্রিক কিংবা ওয়ালশের বোলিং সতীর্থ কার্টলি অ্যামব্রোস (২২৫)। ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। শোয়েব আখতার। ক্যারিয়ারজুড়েই গতির হলকা ছোটানো পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই পেসারকে কাল টপকে গেলেন মাশরাফি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২ উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে।

১৩ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৪৭ উইকেট নিয়ে থেমেছিলেন শোয়েব। বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফির উইকেটসংখ্যাও ছিল ২৪৭। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, আড়াই শ উইকেট হলো কীভাবে? এই মাইলফলক ছুঁতে তো আরও একটি উইকেট লাগবে! হ্যাঁ তা বটে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফির উইকেটসংখ্যা ২৪৯। বাকি ১ উইকেট পেয়েছেন এশিয়া একাদশের হয়ে।

মাশরাফির সামনে থাকা নামগুলো আরও বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার। অনতি দূরেই আছেন কপিল দেব (২৫৩)। খুব বেশি দূরে নেই মাখায়া এনটিনি (২৬৬), জেমস অ্যান্ডারসন (২৬৯), হরভজন সিং (২৬৯), অ্যালান ডোনাল্ড (২৭২), জ্যাক ক্যালিসরা (২৭৩)। আরেকটু জোর কদমে ছুটতে পারলে হয়তো দেখা পাবেন জহির খান (২৮২), সাকলায়েন মুশতাক (২৮৮), এমনকি শেন ওয়ার্নের (২৯৩)। মাশরাফি কি পারবেন?

তাঁর চোট বিবেচনায় নিলে যতটুকু পেরেছেন বা পারছেন, তাতেই অনেকের কাছে প্রেরণার অপর নাম। তিনি আপাতত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে চান। হাতে তাই খুব বেশি সময় নেই। পঁয়ত্রিশ ছুঁয়ে ফেলবেন আগামী মাসে। ওয়ানডে ইতিহাসে উইকেটসংখ্যায় শীর্ষ ১০ পেসারের তালিকায় পৌঁছাতে মাশরাফির চাই আরও ৩৫ উইকেট। আগামী বিশ্বকাপের মধ্যে মাশরাফি কি পারবেন পঁয়ত্রিশে দাঁড়িয়ে ‘৩৫’-এর সমীকরণ মেলাতে?

বয়স নয়, তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে কিন্তু আশা করাই যায়। ২০১৭ থেকে এ পর্যন্ত বল হাতে তিনিই দলে সেরা পারফরমার। এক বছরের বেশি সময় ধরে ২৫ ম্যাচে বোলিং করে উইকেট তুলে নিয়েছেন ৩১টি। তাই বয়সের চোখরাঙানি এড়িয়ে এই মাশরাফিকে ঘিরে আশা করাই যায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন