মাহমুদউল্লাহ–এলিসের দুই রকম রেকর্ড
বৃষ্টিতে খেলা ভেসে যাওয়ার শঙ্কার পর সম্ভাবনা জাগিয়েও বাংলাদেশের ১২৭ রানে আটকে যাওয়া, টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের মন্থরতম ফিফটি এবং এই সংস্করণে অভিষেকে প্রথম হ্যাটট্রিক- এক ইনিংসে কত কিছুই না ঘটল আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে!
বাংলাদেশ দলের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মত কোনো সিরিজ জয়ের সুযোগ। এমন দিনেই কিনা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হানা দিল বেরসিক বৃষ্টি!
ঘন্টাখানেকের সে বৃষ্টি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনতে না পারলেও ২০ ওভার ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মত রান করতে পারেনি বাংলাদেশ।
আগে ব্যাট করতে নেমে আরো একবার ব্যর্থ ব্যাটসম্যানেরা। ধুঁকতে ধুঁকতে মাহমুদউল্লাহর করা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মন্থরতম ফিফটির সৌজন্যেই বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে করতে পেরেছে ১২৭ রান। জবাবে এখন পর্যন্ত ৭ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৩৩ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিল সৌম্য সরকার-মোহাম্মদ নাঈমের ওপেনিং জুটি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাদের যেন চেনাই যাচ্ছে না! প্রথম দুই ম্যাচের পর আজও ব্যর্থ এই দুই বাঁহাতি। ইনিংসের তিন ওভারের মাথায় দুজনই ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। স্কোরবোর্ডে দলের রান তখন মাত্র ৩।
তবে প্রথম দুই ম্যাচের মতো আজও শুরুর ধাক্কাটা সামাল দিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। দুজনই সতর্ক ছিলেন ইনিংসের শুরুতে। ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ২৬ রান এলেও উইকেট হারাতে দেননি তারা। ক্রিজে কিছুক্ষন সময় কাটানোর পর দুজনই খুঁজে পান কাঙ্ক্ষিত বাউন্ডারি।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পার বোলিংয়ের বিপক্ষেও ধরে রাখেন সাকিব। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সাকিবকে আউটও হতে হয় সেই জ্যাম্পারই টপ স্পিনে। জায়গা বানিয়ে সোজা ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং অন বাউন্ডারিতে। ভালো শুরুর পরও ১৭ বলে ২৬ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর বেশ হতাশই দেখাচ্ছিল আজই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর পূর্ণ করা সাকিবকে।
সাকিবের আউটে ভাঙ্গে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তাঁর ৩৬ বলে ৪৪ রানের দারুণ জুটি। তবে ফর্মে থাকা আফিফ হোসেন এসে সাকিবের শুন্যতাটা বুঝতে দিচ্ছিলেন না। ক্রিজে এসেই পেয়ে যান বাউন্ডারির দেখা। আফিফের ১৩ বলে ১৯ রানের ইনিংসটির অপমৃত্যু হয় রান আউটে। কাভার ড্রাইভ করে রান নিতে গিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির দুর্দান্ত থ্রোয়ে থামে তার ইনিংস। বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি শামীম হোসেনও।
আফিফের মতো নুরুল হাসানও ভালো শুরু করে রান আউট হয়ে যান এবং সেটিও সরাসরি থ্রো-তে। কাভারে ঠেলে এক রান নিতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেন মোয়েজেস হেনরিকেস। তাঁর সরাসরি থ্রোতেই ভেঙেছে স্ট্রাইক-প্রান্তের স্টাম্প। এর আগে অ্যাডাম জাম্পাকে দারুণ এক ছয় মেরেছিলেন ৫ বলে ১১ রান করা নুরুল।
এত ঝড়ঝাপটার মধ্যেও ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এক-দুই রানের সঙ্গে সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের রানটা তিন অংকে নিয়ে যান তিনিই। ৫৩ বলে তাঁর ৫২ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে ইনংসের শেষ ওভারে এলিসের বলে বোল্ড হয়ে।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদউল্লাহর ৫২ বলে করা ফিফটিই এখন পর্যন্ত মন্থরতম। তবে যে পরিস্থিতিতে ব্যাট করছিলেন, তাতে এরকম একটা রেকর্ড না করে তাঁর উপায়ও ছিল না।
মাহমুদউল্লাহর যেখান থেকে শেষ, সেখান থেকেই শুরু অস্ট্রেলিয়ার অভিষিক্ত পেসার এলিসের। ওভারের চতুর্থ বলে বাংলাদেশ অধিনায়ককে আউট করার পর শেষ দুই বলে মোস্তাফিজুর রহমান এবং মেহেদী হাসানকেও ফিরিয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক পেয়ে যান এই মিডিয়াম পেসার। তাতে একটা রেকর্ডেও নাম লেখা হয়ে যায় তাঁর। টি-টোয়েন্টির অভিষেকে যে হ্যাটট্রিকের ঘটনা এটাই প্রথম!