মাহমুদউল্লাহ-লিটন ভরসা দিচ্ছেন

লিটনের ব্যাটে পাল্টা লড়াই করছে বাংলাদেশ।ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট টুইটার

দ্বিতীয় সেশনে আরও ৩টি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে একটু স্বস্তি নিয়ে চা-বিরতিতে গেছে তারা। ৫৬ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত লিটন, মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং করছেন ৪৩ বলে ১৪ রানে।

মধ্যাহ্নবিরতির পর মুমিনুল হকের ফিফটিতে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থানের দিকে এগোতে থাকলেও ৬ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেয়েছিল আবার। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে এলবিডব্লু হয়েছেন মুশফিকুর রহিম, পরের ওভারে ভিক্টর নিয়াউচির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

মুমিনুল বিরতিতে গিয়েছিলেন ৩২ রান করে, ফিফটি করতে এরপর বেশি সময় নেননি তিনি। যে ফ্লিক শটটা বাংলাদেশ অধিনায়কের ইনিংসের হাইলাইটস, মুজারাবানির বলে সে শটেই পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটিতে।

মধ্যাহ্নবিরতির পর বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। ফিফটি পর্যন্ত সব মিলিয়ে তিনি মেরেছিলেন ১০টি চার, এর মাঝে ৮টিই ফ্লিক করে। ফিফটির পরপরই একটা ক্যাচ তুলেছিলেন মুমিনুল, তবে মিড-অনে থাকা রিচার্ড এনগারাভা সেটি বুঝতেই পারেননি। শেষ পর্যন্ত তারা নাগালের বাইরে পড়েছে সে ক্যাচ।

এরপরই ব্রেক থ্রু পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। আঙুলের চোট নিয়ে একটু অস্বস্তিতে থাকা মুশফিক এর আগে ড্রাইভ করতে গিয়ে বিপদ প্রায় ডেকে এনেছিলেন। তাঁর ব্যাটের কানায় লেগেছিল বলটি। তবে সেটি ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে হয়েছিল বাউন্ডারি। এরপর মুজারাবানির বাইরে থেকে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি।
ছবি: এএফপি

তবে সেটি লেগেছিল তার পেছনের পায়ে। যদিও খোলা চোখে বেশ উঁচু মনে হচ্ছিল সেটিকে, তবে আম্পায়ার ল্যাংটন রুজেরে দিয়েছেন আউট। স্বাভাবিকভাবেই সেটি সহজে মানতে পারেননি মুশফিক, মুখভঙ্গি বলছিল অবাকই হয়েছেন তিনি। তবে এ টেস্ট ডিআরএস নেই বলে কিছু করারও ছিল না তার। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছেন ৩০ বলে ১১ রান।

সাকিব অবশ্য হাঁটা দিয়েছেন নিজে থেকেই। নিয়াউচির বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন তিনি, হয়েছেন কট-বিহাইন্ড। ক্রিজে এসেই একটা ক্যাচের মতো তুলেছিলেন, সে দফা বাঁচলেও টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার দিনে ৫ বলে ৩ রান করেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

আরেকটি সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকলেও মুমিনুল থেমেছেন ৭০ রানেই। ভিক্টর নিয়াউচির গুড লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ইনিংসে সব মিলিয়ে মেরেছেন ১৩টি চার।

ওপেনার সাইফ হাসানকে আউট করার উল্লাস মুজারাবানির।
ছবি: এএফপি

লিটন নেমে দারুণ দুটি কাভার ড্রাইভে মেরেছেন চার। অবশ্য এরপর নিজেকে খানিকটা গুটিয়েই নিয়েছেন তিনি। এরপর মেরেছেন আরও দুটি চার। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর আবারও টেস্ট খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ, যিনি এসেছেন আট নম্বরে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম এত নিচের দিকে খেলছেন তিনি।

এর আগে সকালের সেশনে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল বীভৎস। মেহেদি হাসান মিরাজকে ধরলে একাদশে নয় জন ব্যাটসম্যান, তবু হারারেতে একমাত্র টেস্টের প্রথম সেশনটা তবুও ছিল দুঃস্বপ্নের মতো।

৮ রানেই ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম একটু ধাতস্থ করার চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশকে। তবে তাদের জুটিও ভেঙেছে লাঞ্চের আগে।

প্রথম ওভারেই ফিরে যান সাইফ। কোনো রান করতে পারেননি।
ছবি: এএফপি

সকালে পেস-সহায়ক কন্ডিশনে বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয়েছিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। চোটের কারণে বাইরে থাকা তামিম ইকবালের বদলে সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে এসেছিলেন সাদমান ইসলাম। তবে তাদের ওপেনিং জুটি টিকেছে ৫ বল, লেগ বাইয়ে সে সময়ে হয়েছিল একটি চার। এরপর মুজারাবানির মোটামুটি ফুল লেংথের বলে ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সাইফ। শুরু থেকেই বেশ নড়বড়ে মনে হচ্ছিল তাঁকে।

বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও বেড়েছে মুজারাবানির তৃতীয় ওভারে। এবার ক্রিজে আটকে থেকে খোঁচা মেরে স্লিপে ধরা পড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অভিষিক্ত ডিওন মায়ার্স নিয়েছেন সে ক্যাচ।

মুজারাবানির সঙ্গে রিচার্ড এনগারাভার বাউন্স আর মুভমেন্টে বাংলাদেশ ধুঁকছিল তখন। ১০ রানেই তারা হারিয়েছিল ২ উইকেট।

এরপর মুমিনুল ও সাদমানের জুটি পেরিয়েছিল পঞ্চাশ। তবে আশা জুগিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান। শুরুটা ধীর গতির করার পর একটু মেলে ধরেছিলেন নিজেকে। শেষ পর্যন্ত এনগারাভার বলেই ঘটেছে বিপত্তি। তিনিও আটকে ছিলেন ক্রিজে, তিনিও খোঁচা দিয়ে ধরা পড়েছেন স্লিপে। এর আগে ৪ চারে করেছেন ২৩ রান।