‘সাকিবুল হাসান কি চোটে?’

ধারাভাষ্যকক্ষে নিয়মিত ভুল উচ্চারিত হয় সাকিব আল হাসানের নাম। প্রথম দুই অংশ মিলিয়ে সাকিবুল বলে ফেলায় তাই প্রশ্নকর্তার দোষ ধরা যাচ্ছিল না। শ্রীলঙ্কা বোর্ডের কার্যালয়ের পথে যেতে যেতে তাঁর কৌতূহলের জবাব দিতে হলো, ‘না, চোটে নেই। আপাতত বিশ্রামে আছেন, ছুটি কাটাচ্ছেন।’

বুঝদার দর্শকের মতো মাথা দোলানো হলো বেশ, তারপর জানালেন, ‘সাকিবুল ভালো, শক্তিশালী খেলোয়াড়।’ এ কথায়ও দ্বিমত করার উপায় নেই। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাতে ‘সুপারম্যান’ ট্যাগই লেগে গিয়েছিল! আর সুপারম্যান শক্তিশালী হবেন, এতে আর বিস্ময়ের কী? ‘টুকটুক’ চালাতে গিয়ে অহেতুক রাস্তা ঘুরে বিল বাড়ানোর দুষ্টিবুদ্ধি দেখালেও হাথুরুসিংহের স্কুলের সাবেক ছাত্রের কথা মেনে নিতে হলো।

সুপারম্যানকে দলে পাওয়া ভালো। যত বড় বিপদই হোক, তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। কিন্তু যখন সুপারম্যানকে চাইলেও পাওয়া যায় না, তখনই ঝামেলা। সাকিবের অনুপস্থিতিতেও দলের তা-ই হয়েছে। একজন অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করতে এখন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থা। তিনে নামানোর ব্যাটসম্যান খুঁজলে বোলার একজন নামানো যাচ্ছে না। বোলার ও তিনের ব্যাটসম্যান ধরে রাখলে ব্যাটিং লাইনআপ হয়ে যাচ্ছে ছোট।

বিশ্বকাপ তো বটেই, দেড় বছর ধরে দলের ৩ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছেন সাকিব। তাঁর ও লিটনের অনুপস্থিতি সামলাতে ব্যাটিংয়ে এনামুল হক ও বোলিংয়ে তাইজুল ইসলামকে ডেকে আনা হয়েছে। কিন্তু আজ প্রস্তুতি ম্যাচ ইঙ্গিত দিয়ে রাখল, তিনে ব্যাট করার জন্য এনামুলকে ডেকে আনা হয়নি। কঠিন দায়িত্বটা হতাশার এক বিশ্বকাপ কাটানো মোহাম্মদ মিঠুনকেই দেওয়া হয়েছে।

default-image

মিঠুন সে দায়িত্বের প্রথম পরীক্ষায় ভালোভাবেই পাস করেছেন। সৌম্য ও তামিম আউট হয়ে যাওয়ার পর মুশফিকই প্রথম পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন। কিন্তু পঞ্চাশের পর মুশফিকের বিদায়ের পরই নিজের মূর্তি পাল্টে ফেলেছেন। মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গী করে দ্রুতগতিতে রান তুলেছেন। ফলে ২৮২ রানের আপাতকঠিন লক্ষ্যকেও সহজ মনে হয়েছে শেষ পর্যন্ত।

ম্যাচ শেষে মিঠুনকে তাই এ ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হলো। সাকিবের অভাব পূরণ করতে কতটা প্রস্তুত? ৯১ রানের ইনিংসটি যতটা আকর্ষণীয় ছিল, উত্তর হলো ঠিক ততটাই ম্যাড়ম্যাড়ে, ‘ওভাবে চিন্তা করি নাই যে সাকিব ভাইয়ের জায়গায় ব্যাট করছি। উনি যেহেতু নেই, কাউকে না কাউকে তো ওখানে ব্যাট করতে হবে। আর ওপরে যারা ব্যাট করে, তাদের দায়িত্ব লম্বা ইনিংস খেলার, সে চেষ্টাই করেছি।’

সে চেষ্টায় আজ ফল এসেছে। এমন ফল সিরিজের ম্যাচগুলোতে এলেই চলে। মাশরাফি-সাকিববিহীন এই দল নিয়ে যদি প্রথমবারের মতো দল শ্রীলঙ্কার মাটিতে কোনো সিরিজ জিততে চায়, তাহলে যে সাকিবের অভাব কোনোভাবেই বুঝতে দেওয়া যাবে না!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন