বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তিনজনই বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোনো না কোনো সময়ে। খেলা ছাড়ার পর কোনো না কোনো ভূমিকায় দলের সঙ্গেই থেকেছেন। মিনহাজুল প্রধান নির্বাচক ও হাবিবুল নির্বাচক হিসেবে দলের সঙ্গে আছেন অনেক দিন হলো, আকরাম খান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন দায়িত্ব আছেন অনেক দিন হলো। এই তিনজনই আজ বাংলাদেশের জয়ের পর উচ্ছ্বাস আর চেপে রাখতে পারেননি।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের চোখে এই জয় একটা মাইলফলক। এভাবে খেলে যেতে পারলে টেস্টে ২১ বছর ধরে পথ চলতে থাকা বাংলাদেশের এই সংস্করণের ওপরের সারির দল হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় আর লাগবে না বলেও মনে হচ্ছে তাঁর, ‘অবিস্মরণীয় একটি জয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বিরাট একটা মাইলফলক। এই প্রক্রিয়াটা ধরে রেখে যদি আমরা পাঁচ দিনের ক্রিকেটে খেলে যেতে পারি, তাহলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে একটা ভালো টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব।’

করোনার সময়ে এ দেশ-ও দেশে গিয়ে, জৈব সুরক্ষাবলয়ে থেকে ক্রিকেট খেলা সহজ কম্মো নয়। এ নিয়ে মানসিক ক্লান্তির কথা দেশে-বিদেশে অনেক ক্রিকেটারের মুখেই শোনা গেছে। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে তো জৈব সুরক্ষাবলয় নিয়ে কড়াকড়ি আরও বেশি। এর মধ্যে থেকেই ক্রিকেট খেলার কষ্টের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মিনহাজুল।

default-image

পাশাপাশি এই টেস্টের ম্যাচসেরা ইবাদত হোসেনের কারণে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ‘স্যালুটে’র কথাও উঠে এসেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলতেন, তবে জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকা কিন্তু যথেষ্ট কঠিন। সেখানে থেকেই ক্রিকেটাররা নিজেদের মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট উপহার দিয়েছে, দেশকে জয় এনে দিয়েছে... সেটা অবশ্যই স্যালুট করার যোগ্য।’

এত দিন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন আকরাম খান, আগের দায়িত্ব ছেড়ে কদিন আগে পেয়েছেন বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। সেই আকরামের চোখে এই জয় ‘অসাধারণ। আমি মনে করি (টেস্ট ক্রিকেটে) বাংলাদেশের কয়েকটি বড় অর্জনের মধ্যে এটি একটি।’

কত বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আকরাম, ‘আমাদের পারফরম্যান্স বলে, নিউজিল্যান্ড আমাদের জন্য কঠিন একটা দেশ, কঠিন একটা প্রতিপক্ষ। এর আগে ওরা এতটা ভালো ছিল না, কিন্তু এখন টেস্ট ক্রিকেটে ওরা ১ নম্বর দল (আসলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বর)। ওই কন্ডিশনে ওই জায়গায় গিয়ে এত ভালো খেলতে পারব, সে জন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। এই দলের ওপর আমাদের যে আস্থা ছিল এটা ওরা প্রমাণ করেছে।’

default-image

আর নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশারের চোখে এই জয় টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন, ‘আসলে আমার বলার কোনো ভাষা নেই। আমি নিশ্চিত আপনারাও (সাংবাদিকেরা) খুশি, আমার খুশি তো বুঝতেই পারছেন। শুধু নির্বাচক না, বাংলাদেশের একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আরও কিছু টেস্ট ম্যাচ আমরা জিতেছি, কিছু ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছি, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এটা বড় অর্জন। খুব খুশি।’

পাঁচটি দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে যেভাবে ম্যাচটা জিতে নিয়েছে, সেদিকে চোখ ফিরিয়ে হাবিবুল মনে করিয়ে দিলেন, এই টেস্ট থেকে নেতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য।

‘পুরো টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ব্যাটিং-বোলিং সব ভালো হয়েছে। টপ অর্ডারে ব্যাটিং বলেন, ফাস্ট বোলারদের উইকেট নেওয়া বলেন, স্পিনাররাও ভালো বোলিং করেছে, অধিনায়ক ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই টেস্টে নেগেটিভ কিছু খুঁজতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন